• প্রচ্ছদ » » কবিগুরু বহুকাল আগে থেকেই আমাকে গ্রাস করেছেন


কবিগুরু বহুকাল আগে থেকেই আমাকে গ্রাস করেছেন

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

ড. সেলিম জাহান : বহুকাল আগে থেকেই আমাকে গ্রাস করেছেন তিনি। তাকে ছাড়া আমার চলে না একদিনও এবং সত্যি কথা বললে প্রতিদিনের যেকোনো অংশই তার প্রভাবে ঠাসা। না ছাড়া পাই না তার কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই। এই যে এখন লিখতে বসেছি, তার দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আমার তো আর কোনো উপায় নেই। আমার চিন্তা-চেতনার ফাঁকফোকর দিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন আমার মনে, সরাসরিভাবে উঠে আসেন আমার বক্তব্যে, কথার জোগান দেন আমার শব্দ-চয়নে ও ভাষায়। এহেন সর্বগ্রাসী মানুষটি হচ্ছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর আজ তার প্রয়াণ দিবস। আমার অনেক ঋণ রবীন্দ্রনাথের কাছে… ঐ ছোটবেলায় ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকের ‘কাল থেকেই রবীন্দ্রনাথ আমার মুখে ভাষা দিয়েছেন। তার কাছ থেকেই শব্দশৈলী, কথার প্রাঞ্জলতা, সংযত কিন্তু সংহত বলা শিখেছি। তিনি যে প্রতিনিয়ত ‘জলের মতো ঘুরে ঘুরে কথা কন’। তার কাছ থেকে ধার করেই তো আমি বেড়ে উঠেছি। সেইসঙ্গে ঋদ্ধ হয়ে উঠেছি একটি গভীর জীবনবোধে, একটি মুক্ত বুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তায়, একটি মানবিকতায়। আমার দুঃখে, আনন্দে, বিষণœতায়, খুশিতে আমি বারবার রবীন্দ্রনাথে ফিরে গেছি। শক্তি আর প্রণোদনা পেয়েছি ‘আমার সকল দুঃখের প্রদীপ’ থেকে ‘সদা থাকো আনন্দে’। আমার জীবনের এমন কোনো দিক নেই যেখানে তিনি কিছু ভাবেননি বা বলেননি। আমার প্রায়শই মনে হয়, এক রবীন্দ্রনাথের মধ্যে একশ রবীন্দ্রনাথ যেন একসারি বই হয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সময় আর সুযোগ বুঝে কেবল হাত বাড়িয়ে টেনে নেয়া আর তারপর ঠিক পৃষ্ঠাটি উল্টানো। আমার দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও মানসিকতা গড়নে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কথা কি করে অস্বীকার করি? এই যে একটি বৈশ্বিক বীক্ষণের দৃষ্টি, বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদীএকটি মন গড়ে তোলার তাগিদ তো রবীন্দ্রনাথই দিয়েছেন। বিশাল বিশ্ব আর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় একটি যোগসূত্র আছে, তার খেইও তো তিনি ধরিয়ে দিয়েছেন আমাকে।
মাঝে মাঝে কি যারপরনাই বিরক্ত হইনি রবীন্দ্রনাথের উপরে? হয়েছি। ভেবেছি, এতো মহাযন্ত্রণা তাকে নিয়ে। আমার জীবনের যেকোনো বিষয়ের কথাই বলি না কেন, সেখানেই তিনি কিছু বলে ফেলেছেন। কাঁঠালের আঁঠা হয়ে তিনি যেন লেগে আছেন আমার জীবনের সর্বত্র। তাকে ছাড়ানো যায় না… জীবনের প্রতি পদে পদে তার বিস্ময়কর অর্থবহুল উপস্থিতি। একটা পর্যায়ে কিন্তু মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথ না হলে আমার চলছে না। বাতাসের মাঝে বাস করে আমরা যেমন ভুলে যাই আমরা বাতাসের মধ্যে আছি, তেমনি রবীন্দ্রনাথের মধ্যে থেকে আমি ভুলে যাই যে আমি রবীন্দ্রনাথের অতি নিকটে আছি। আজ রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে সারাবিশ্ব তাকে স্মরণ করছে। কিন্তু সব কিছু মনে রেখে আমার ‘কথা সামান্যই’। ভাগ্যিস্ রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন, আর তাই তো আমি বেঁচে গেলাম। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]