• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » কাশ্মীর এখন মৃত্যু উপত্যকা, জানালেন বিদেশি সাংবাদিকরা নিরানন্দ ঈদের অপেক্ষায় কাশ্মীরিরা, পুঞ্জিভূত হচ্ছে ক্ষোভ


কাশ্মীর এখন মৃত্যু উপত্যকা, জানালেন বিদেশি সাংবাদিকরা নিরানন্দ ঈদের অপেক্ষায় কাশ্মীরিরা, পুঞ্জিভূত হচ্ছে ক্ষোভ

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে দেয়ার পর রাজ্যটিতে চলছে নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত কড়াকড়ি। চলছে লাগাতার কারফিউ আর গণগ্রেফতার। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ কাশ্মীরিদের উপর। কাশ্মীরের জনগনের মনে একই সঙ্গে পুঞ্জিভূত হচ্ছে ক্ষোভ আর আতঙ্ক। যেকোনে সময় তার বিক্ষোভ আকারে বিস্ফোরিত হতে পারে। বিবিসি ও আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই সংবেদনশীল তথ্য উঠে এসেছে।

কাশ্মীর সফররত বিবিসির প্রতিবেদক বলছেন, ঝিলমের তীরে এবার তিনি যে নিস্তব্ধতা দেখছেন, তা আগে কখনই দেখেননি। একে তিনি তুলনা করেছেন ঝড়ের আগের অশনী সংকেত হিসেবে। কাশ্মীর এখন যেনো এক মৃত্যুপুরী। রাস্তাঘাটে কোনো লোকজন নেই। পুরো রাজ্য জুড়ে আছে প্রায় আড়াই লাখ ভারতীয় সেনা। টানা কারফিউ জারি রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ। অনেকের বাড়িতেই খাবার ফুরিয়ে গেছে, রেশন ফুরিয়ে গেছে। কেনাকাটার জন্য তারা সাহস করে কেউ কেউ বেরুচ্ছেন, কিন্তু কিছু কেনার মতো কোনো দোকান খোলা নেই। শ্রীনগরে পৌঁছানোর ২৪ ঘন্টা পরেও শহরটিকে মৃত্যু উপত্যকাই মনে হয়েছে এই প্রতিবেদকের। রাস্তাঘাটে একশো গজ পরপরই সেনা চৌকি আর কাঁটাতারের ব্যারিকেড। রাস্তায় যত না সাধারণ মানুষ, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সেনা আর আধা সেনার উপস্থিতি রয়েছে।

প্রায় একই ধরণের কথা বলছে কাতারি টিভি আল জাজিরা। বারমুল্লাহ জেলার এক কাশ্মীরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের পরিস্থিতি ভয়ংকর। আমরা সারা বিশ^ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। আমাদের তীব্র খাবার সঙ্কট। এভাবে বেঁচে থাকার কোনো মানে হয়না।’ আরেক কাশ্মীরি জানিয়েছেন, তার এক রোগীকে হামপাতালে নিতে হতো। কিন্তু কারফিউ এর কারণে তা সম্ভব হয়নি। সেই রোগী সম্ভবত বাঁচবেন না। কাশ্মীরিদের খাঁচায় বন্দী করে রেখেছে সরকার। আরোপিত হয়েছে কালো আইন।

তবে জম্মুর পরিস্থিতি বেশ আলাদা। সেখানেও কারফিউ চলছে। তবে পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। কাশ্মীর উপত্যকার বিপরীতে এখানকার জনসাধারণ ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করাকে ব্যাপক সমর্থন করছে। তারা বলছেন, উপত্যকায় তাদের পূর্ব পুরুষের বাস ছিলো। তাই তারা কাশ্মীরে ফিরতে চান। কাশ্মীরি পন্ডিতদের নেতৃত্বস্থানীয়রা বলছেন, তারা এখনই উপত্যকা পরিদর্শন করে আসতে ইচ্ছুক। তারা চান সরকার সেখানে সেটলমেন্ট তৈরী করুক। এবং বলপ্রয়োগ করে নিজেদের সম্পদ উদ্ধারে সহায়তা করুক।

সরেজমিনে কাশ্মীর উপত্যকা পরিদর্শনের পর বিবিসির সংবাদদাতারা মন্তব্য করেছেন কাশ্মীরে আসলে যা চলছে তাকে অঘোষিত জরুরী অবস্থা বলাই যায়। এখানকার কোন নিউজ পোর্টাল রোববারের পর আর আপডেট করা হয়নি, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ। বিবিসি প্রতিবেদক কয়েকটি সংবাদপত্র অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে কেউ নেই। কোন পত্রিকা বেরুতে পারছে না। দিল্লি বা জম্মু থেকে প্রকাশিত কিছু সংবাদপত্র এখানে এসেছিলো বৃহস্পতিবার সকালে। নিমেষে সেগুলো শেষ হয়ে যায়। এগুলো কিন্তু তিন দিনের বাসি সংবাদপত্র। বলা হচ্ছে, এগুলোতে নাকি সেন্সরের কাঁচি পড়েছে মহাসমরোহে। তারপরও মানুষ এগুলো পড়ছে, যেহেতু আর কোনো জানার সূত্র নেই। বলা যেতে পারে কাশ্মীরে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠ একরকম রোধ করেই রাখা হয়েছে।

কদিন পরেই মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, ঈদ উল আজহা। ভেড়ার পাল নিয়ে এসেছিলেন বহু ব্যবসায়ী, বিক্রির জন্য। হতাশ ব্যবসায়ীরা তাদের ভেড়ার পাল নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ভেড়া কেনার মতো কেউ নেই।  এরকম একটা পরিবেশে কে কোরবানি দেবেন, কার কাছে মাংস বিতরণ করবেন। এক নিরানন্দ ঈদের অপেক্ষায় কাশ্মীরিরা। কাশ্মীর এখন যেনো ভয়-ভীতি-আতংকের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]