• প্রচ্ছদ » » কীটতত্ত¡ মানুষতত্ত¡ ও ডেঙ্গু


কীটতত্ত¡ মানুষতত্ত¡ ও ডেঙ্গু

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

ইকবাল আনোয়ার

লেডি এডিস নামটা যেমন ভদ্র, তার চরিত্রও তেমনি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কীটতত্ত¡বিদের কথায় জানা গেলো, এ মশা বেশি থাকে ঘরে, সোফার নিচে, আলমারি খাট পর্দার পিছে। আমরাও তা বলছি। তবে তিনি যা ভিন্ন রকমভাবে বলেন, তাহলো এরা ডিম পাড়ে পানিতে নয়, পাত্রের কিনারায়। এ ভরসায় যে, যখন পানি জমবে তখন তার বাচ্চা ফুটবে। তা হলে বোঝা গেলো তাদের পছন্দ হলো… বৃষ্টি বাদল। আর পাত্র পছন্দ হলো ছোট, (মাঝারি বড়ও হতে পারে), আর পানি জমতে পারে এমন। মাত্র দুই মিলি পানি হলেই তাদের চলে। তাদের ডিম বছর নাগাদ বেঁচে থাকে বৃষ্টির আশায়। এরা গৃহপালিত। মশা থেকে বাঁচতে এভাবেই কীট বিদ্যার মাধ্যমে তার চালচলন জানতে হবে। তবে এ জানাই শেষ নয়। জানা একটা চলমান প্রক্রিয়া। ভাইরাস যেমন পাল্টি খেয়ে নিজেদের বাঁচার জন্য কৌশল বদলায় প্রতিনিয়ত, মশাও তাই। ঘরের এ মশা প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারে, শহর ছেড়ে গ্রামে। মশা আর ভাইরাস তাদের জ্ঞান বাড়াবে, কৌশল বদলাবে, আর মানুষ পুরানো জ্ঞান ‘এলাহি ভরসা’ বলে চালিয়ে দেবে তাতে হবে না। এশিয়ার অঞ্চল ডেঙ্গুর পিঠস্থান, আর বাংলাদেশ হলো তীর্থ। সাবধান আমাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একটি মশাই পারে সব উন্নয়ন খামচে ধরতে। মশার শক্তি এতো বেশি যে তারা অর্থনীতি-রাজনীতিসহ সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে যেতে পারে। আমি কীটতত্ত¡বিদ নই। নিপসমে পড়ার সময় কীটতত্ত¡ একটা সাবজেক্ট ছিলো। সেখানে মশার বিভিন্ন পর্যায় ল্যাবে দেখেছি। টিচার এসবের গুরুত্ব বোঝাতেন। তখন কি এতো বুঝতাম, কেন সামান্য মশার প্রতিটি পলের চরিত্র বদলানোর বিষয় এতো করে জানতে হবে! দেখতাম একটা সাদা দেয়া… কক্ষে সাদা কাপড় ফেলে মশার একটা ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মশার শব পড়ে আছে সাদা কাপড়ে। কীটের সঙ্গে মানুষের বসবাস। কীটতত্ত¡ বলে দেয় কি করে আমরা সহবস্থান করবো, কীটের ক্ষতি নেবো না, তার উপকার নেবো। এ জগৎ এক আশ্চর্য প্যারাডক্স। মশা মারতে গিয়ে যে ধোঁয়া ছড়াচ্ছি তাতে মূলত এডিসের তেমন কিছু হচ্ছে না বলে কীটবিদ ডা. নাগ বলেছেন। রোগীর দেহের উপর দিয়ে তা চালিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে তার রোগাক্রান্ত ফুসফুস আর রক্তে চালান দিলাম অসুস্থতার মধ্যে আরও অসুস্থতা! আবার বাগানে কীটনাশক দিয়ে মশা মারতে গিয়ে আমরা পরাগায়নের কীটও মেরে ফেললাম। তাহলে তো অসুখ হবার আগে না খেয়েই মারা যাবো। এই যে প্যারাডক্স (বৈপরিত্ব)! মানুষই পৃথিবীতে তার আমদানিকারক। ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, বাণিজ্য ও বাধকতায়, সুবিবেচনায়-অবিবেচনায় মানুষ আজ কৃত্রিমভাবে প্রকৃতি শাসন করে বেঁচে আছে। তাহলে এখন আমরা করবো কি? ‘কি’ও করা যাবে না। তবে একটা ‘কি’ সবসময় মূল্যবান। যা কখনো পুরানো হয় না, অকেজো হয় না। তাহলো ‘সততা’। ডেঙ্গুর ভাইরাসের (ফ্লাভি ভাইরাস) বাহক যেমন মশা, সততার বাহক হলো ‘একতা’। এ দুটো সম্বল করে চললে সব সমস্যার সমাধান হবে। আর এর কোনো বিকল্প নেই। যতোদূর এ থেকে দূরে যাবো, ততো বেশি আমাদের ভুগতে হবে। ভাবা যায়! কোনো বলার মতো রোগ নয়, মশার কারণে আজ ঢাকার আইসিইউগুলো ভর্তি। আর সব পিছে পড়ে গেছে। আর শিশুরাই এর বড় শিকার। আশি শতাংশ আইসিইউগুলোতে শিশুরা ডেঙ্গু জটিলতায় জীবন-মরণের মাঝখানে। তাদের মা-বাবার অবস্থা কি? কতো টাকা? কতো বিড়ম্বনা, কতো কান্না, কতো বিবেকের দহন। এবার মানুষতত্ত¡ সমন্ধে সামান্য কথা। আমার শৈশব কেটেছে অশোকতলায়। টিনের চালা ঘরে। তখন দেখেছি মিউনিসিপালিটির লোক বাইরে চারপাশে ড্রেনে-জঙ্গলে স্প্রে করার পর ঘরে ঢুকে চৌকির নিচ, আলমারির পেছন সবখানে ডিডিটি ছিটাতো। মা বলতেন রাখুন রাখুন, ডেক-ডেকচিগুলো ঢেকে নেই। তারা স্প্রে করে দাঁড়িয়ে থাকতো না, পাবার জন্য, না দিলে আর আসবে না, এমন নয়। তারপর আসতো সুপারভাইজার। এসেই চকির নিচে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে পরীক্ষা করতেন, তাতে সাদা লাগে কিনা, কি ঘনত্বে লাগে। এখন দেখি লম্বা লাঠিযুক্ত নতুন ঝাঁটায় পরিষ্কার মানুষ পরিষ্কার রাস্তা ক্যামেরায় তাকিয়ে থেকে মানুষকে অনুপ্রেরণা দিতেছেন। মানুষতত্ত¡বিদও আমি নই। কেবল এ সমন্ধে বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন, মানুষের এ কর্মপদ্ধতি পরিবর্তনের কারণ। (কীট যেমন পরিবর্তন করে মানুষও তেমনি করবে, তাই তো নিয়ম)। যখন আপাসের বচনে আমি লিখেছিলাম সততা ও একতার কথা। তখন একজন রাজনীতিবিদ বলেছিলেন, অধিকাংশ মানুষ সৎ। তবে তিনি বলেননি তারা একাতাবদ্ধ কিনা। নীরব সততা কাজ করে কিনা মানুষ্য সমাজের রোগব্যাধি বিস্তারসহ সব সমস্যা সমাধানে তাও বলতে পারবেন মানুষতত্ত¡বিদরা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]