• প্রচ্ছদ » » ডেঙ্গুর আক্রমণ এবং ঈদযাত্রা


ডেঙ্গুর আক্রমণ এবং ঈদযাত্রা

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী  : এ বছর কোরবানির ঈদ বিশেষ এক ভিন্নতর পরিস্থিতিতে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। ঢাকায় এখন ডেঙ্গু রোগের আতঙ্ক সর্বত্র। অসংখ্য মানুষ ঢাকার চিকিৎসালয়গুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। চিকিৎসক-নার্সরা ডেঙ্গু রোগীদের সেবাদানে ভীষণভাবে ব্যস্ত আছেন। আমরা এখনো বলতে পারবো না সামনের দিনগুলো কেমন যাবে। কেউ বলছেন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়বে আবার কেউ বলছেন কমবে। কোনটা সঠিক তা কেবল সময়ই বলে দেবে। আপাতত দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষকে নানাভাবে সতর্ক থাকার কথা বলছেন। সর্বশেষ বিদেশি ডেঙ্গুরোগ বিশেষজ্ঞ যে কথা শুনালেন, তা শুনে তো মনে হয় ডেঙ্গু রোগের জন্য ওষুধ নয়, ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা কতোটা ‘অভিজাত’ সেটা বোঝা যায় তাদের লার্ভা, বংশ বিস্তার, বেঁচে থাকার স্থাপনা সম্পর্কে জানার পর।

এডিস মশা মানুষের বাড়ির সোফাসেট, আসবাবপত্র, বিছানার নিচে, আলো-আঁধারী জায়গাতে লুকিয়ে থাকা নাকি তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এভাবেই তারা বসতঘরে যারা থাকেন তাদের রক্ত নেয়ার জন্য কামড় দেয়। একটি এডিস মশা এভাবে ৬/৭ জন মানুষকে কামড়াতে পারে। সুতরাং এদের নির্মূলে বসতঘর এবং এর আসবাবপত্র প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা, বাড়িঘরের ভেতরে ও বাইরে স্বচ্ছ পানি জমিয়ে না রাখা ইত্যাদি মেনে চলার মধ্যেই জনসাধারণকে এডিস মশার হাত থেকে বাঁচার নিশ্চয়তা খুঁজে নিতে হবে। সিটি করপোরেশন যেভাবে ওষুধ ছিটাচ্ছে তা এডিস মশা নিধনে তেমন কার্যকর নয় বলে ডেঙ্গুরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়ে গেলেন। আমরা জানি না অন্য কোনো ডাক্তার আরও কোনো তথ্য দেবেন কিনা? তবে এ পর্যন্ত যেভাবে ডেঙ্গুজ্বর ও এডিস মশা সম্পর্কে গণমাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি তা থেকে মনে হয় বাস্তব জ্ঞানর্জনের ধারণা আগে তেমন কেউ দিতে পারেননি।

শুধু শুধুই সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নিয়ে আমরা মাতামাতি করেছি। এর কারণ হচ্ছে এডিস মশা ডেঙ্গুর এতোসব জটিলতা মানুষের দেহে সংক্রমণ করার ক্ষমতা রাখে যে, সে সম্পর্কেও আমরা খুব একটা স্বচ্ছ ধারণা এতোদিন পাইনি। মশার উৎপত্তি এবং অবস্থানের পরিবেশ সম্পর্কেও যেসব ধারণা দেয়া হয়েছে সেগুলো যথেষ্ঠ ছিলো না।
যাই হোক আমরা এতো ক্ষুদ্র মশার কামড়ে এতোসব মানুষ কীভাবে বিধ্বস্ত হচ্ছি সেটি ভাবার বিষয়। কয়েক বছর পর এবারই প্রথম এডিস মশা ডেঙ্গুজ্বর ঢাকার মানুষদের হাড়ে হাড়ে কাঁপিয়ে গেলো। এখনো বেশিরভাগ মানুষই ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে আতঙ্কে আছেন। তারপরও এ বছর কোরবানি ঈদ হতে যাচ্ছে ১২ তারিখ। মানুষ ঈদে বাড়ি যাওয়ার যেসব পরিকল্পনা গত কয়েকমাসে করেছিলো, অনেকেই সেটি ডেঙ্গুজ্বরের কারণে বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। তাদের থাকতে হবে ঢাকা শহরেই। তবে যাদের পরিবারে ডেঙ্গু হয়নি তারা একেবারেই ডেঙ্গুমুক্ত হয়ে গেছেন এমনটি কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এসব মানুষ যদি ঈদ যাত্রায় গ্রামে আগের বছরগুলোর মতো ছুটতে থাকে তাহলে নিজেরা অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ আমরা ঢাকা শহরে যারা আছি তারা কোনো না কোনোভাবে ডেঙ্গুর প্রভাবে থাকতে পারি। ঢাকা ছেড়ে বাইরে যাওয়ার বিপদটি নিজেদের জন্যই বেশি, একইভাবে যেখানে যাবো সেখানেও পরিবহনের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। সুতরাং নাড়ির টানেই হোক আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার ঐতিহ্যকে রক্ষা করার জন্যই হোক, শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার বিষয়টি এবার সচেতনভাবেই নেয়া দরকার। অন্য কোনো উন্নত দেশে হলে মানুষজন পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অনেক কিছু পরিহার করে চলতো। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ কেউ তা করলেও অনেকেই তা করেন না। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কিছু করেন। অনেকের জীবনেই এসব যাত্রায় নানা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। তারপরও আমরা ঐতিহ্য প্রীতিতে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। মনে হয় এবার আবেগ প্রবণতার চাইতে বাস্তববোধের পরিচয় খানিকটা বেশি দিলে ভালো হতে পারে। সে কারণে ঈদযাত্রা আগের মতো না হলেও আমাদের এবার তেমন কিছু ক্ষতি হবে না। তবে ডেঙ্গুজ্বরে একজন মানুষকেও যেন গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা বিহীনভাবে মরতে না হয় কিংবা ঈদ উৎসবে হঠাৎ আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে ঢাকা শহরে ফিরে না আসতে হয় সেসব বিবেচনাগুলো আগে থাকাই শ্রেয়।
লেখক : শিক্ষাবিদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]