নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

মুন তসলিমা শেখ

ভারতে বেশ কয়েকবার প্লেন জার্নির অভিজ্ঞতা হয়েছে। সিকিউরিটি চেক শেষে বোর্ডিং কার্ডসহ একটি পর্দাঘেরা জায়গায় দাঁড়াতে হয়। একজন উর্দি পরা লেডি চেক করেন। বাংলাদেশেও তাই। প্রায় চার-পাঁচবার পর পর প্লেন জার্নির পর দিল্লিতে মেজাজ ধরে রাখতে আর পারলাম না। আমি বললাম, মেয়েদের জন্য এ ঘের কেন? পুরুষদের তো দিব্যি সবার সামনে চেকিং চলছে। পর্দা খুলে দিন। লেডি অস্বীকার করলো। বললো, পুরুষ আর মহিলা কি এক? আমি বললাম, সিকিউরিটি চেক বিষয়ে আলাদা কিছু দেখছি না। আমার গলা উচ্চে যাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন মহিলা অফিসার এসে হাজির। কি হয়েছে জানতে চাইলে বললাম, আপনারা সিকিউরিটি চেক করছেন। পর্দার ভেতরে কোনো সেক্সুয়াল কাজ তো করছেন না। পর্দা কেন? ব্রা খুলতে বলবেন? তাও তো বলছেন না। পুরুষদের গেঞ্জি খোলার জন্যও কিন্তু আলাদা জায়গা দরকার। নয়? তারা তবু আমাকে পর্দার ভেতরে চেক করবে। আমারও জিদ চেপে গেলো। অফিসার বললো, ৯৯,৯ শতাংশ ভারতীয় নারী এখানে পর্দা চায়। চেক করছিলো যে মেয়েটি সে বললো, আপনি মেয়ে না? আপনি আর একটি ছেলে এক? আমি বললাম, এক কাজ করুন আপনার পুরুষ কলিগকে ডাক দিন। তিনি আমাকে চেক করুন, যেমন তিনি একজন পুরুষকে চেক করছেন। তার চোখ কপালে। তার বস বললেন, আপনি কি চাচ্ছেন? আমি বললাম, পর্দা ব্যতিরেকে অন্য সবার মতো চেক করুন। এই পর্দার ভেতর আমার সাফেকেটিং লাগছে। অস্বস্তি বোধ হচ্ছে এবং প্রতিবার হয়! এখানে সিকিউরিটি চেক হচ্ছে সেক্সুয়াল অ্যাক্ট হচ্ছে না। ব্রা খুলতে হলে বইলেন তখন দেখা যাবে! অফিসার অর্ডার দিলেন পর্দা খোলা রেখেই আমার শরীরের সারফেসে সিকিউরিটি স্টিক ঘুরালো। এ পরিবর্তনটুকু করতে পেরে মনটা ভালো লাগলো। বি.দ্র. যারা পর্দার ভেতরে চান আমি তাদের কিছু বলছি না। কিন্তু একই জায়গায় দু’ব্যবস্থা প্রকট অশ্লীল ছারা আমার কাছে কিছু মনে হয় না! নারীর এহেন ‘মর্যাদা’ আমাকে অপমানিত করে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]