• প্রচ্ছদ » » শেখ কামালের নামে মিথ্যাচার করা হয়েছিলো কেন?


শেখ কামালের নামে মিথ্যাচার করা হয়েছিলো কেন?

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

অপরাজিতা নীল : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন ছিলো ৫ আগস্ট। আমাদের এবং আমাদের আগের জেনারেশন তো বটেই, পরের জেনারেশনেরও শেখ কামালের নাম শুনলেই দুইটা জিনিস মনে পড়ে … ১. তিনি মেজর ডালিমের বউকে ‘তুলে’ নিয়ে গিয়েছিলেন। ২. তিনি ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়েছিলেন। এই দুইটা মিথ্যা গুজব বছরের পর বছর ধরে এমনভাবে ছড়ানো হয়েছে যে, এই হাতের নাগালে থাকা তথ্যের যুগেও বিপুল পরিমাণ মানুষ এসব বিশ্বাস করেন। গুজব শুনতে এবং ছড়াতে মানুষ ভালোবাসে, দুঃখজনক হলেও মেনে নিতে হবে এটাই হিউম্যান নেচার। তবে যারা সত্য জানতে চান, তাদের জন্য সত্যটা জানা একেবারেই কঠিন কিছু নয়। মৃত ব্যক্তি যেহেতু নিজেকে এ রকম গুজব থেকে ডিফেন্ড করতে পারেন না, জীবিত হিসেবেই আমাদেরই দায়িত্ব তাদের সম্মানকে রক্ষা করা, সেই হিসেবেই সত্যটা জানাতে আমার এই লেখা। বাজারে চালু গুজব আছে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছেলে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন, যা ইচ্ছে তাই করতেন, যে মেয়েকে ইচ্ছে হতো তাকেই ‘তুলে নিয়ে যেতেন’। এ রকম করতে করতেই এক দিন তিনি মেজর ডালিমের স্ত্রীকে ‘তুলে নেন’ এবং পরে ফেরত দেন এবং লোকে এই ঘটনাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে ডালিমের সম্পৃক্ততা হালাল করার জন্য দাবি করেন যে স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করার জন্যই নাকি মেজর ডালিম পরিবারসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। এবার আসেন সত্য কথাটা জানি। মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কি হয়েছিলো সেটা মেজর ডালিমের চেয়ে ভালো কে জানবেন? তাই আসুন মেজর ডালিমের নিজের জবানীতেই শুনি কি হয়েছিলো। মেজর ডালিমের লেখা আত্মজীবনীমূলক বই ‘যা দেখেছি, যা বুঝেছি, যা করেছি’তে তিনি এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। বইটা পড়ে বলুন তো, এই ঘটনার সঙ্গে শেখ কামালের সম্পৃক্ততা কোথায়? কেন তার নামে এই ঘৃণ্য অপবাদ দেয়া হচ্ছে? তাকে নিয়ে জনপ্রিয় দ্বিতীয় অপপ্রচার হচ্ছে যে তিনি ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। এটাও একটা চরম মিথ্যাচার এবং এক্ষেত্রেও সত্য অন্বেষণ খুব একটা কঠিন কিছু নয়। সেদিন কি হয়েছিলো প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে শুনতে চাইলে বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন অথবা জাপা নেতা কাজী ফিরোজ রশিদের কাছ থেকে। কারণ শেখ কামালের সঙ্গে সেদিন এরা দুজনও ছিলেন। এবার আপনাকে বলি, জীবনে যদি একবারও এই দুটো গুজব বিশ্বাস করে থাকেন, না জেনে যদি একবারই এই দুটো গুজব আপনি ছড়িয়ে থাকেন, তাহলে আপনার নৈতিক কর্তব্য হচ্ছে এই সত্য ছড়িয়ে দেয়া। সত্যের জয়ই হবে সবসময়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]