• প্রচ্ছদ » » সুনামের বিরুদ্ধে দুর্নামের রাজনীতির কৃতকৌশল


সুনামের বিরুদ্ধে দুর্নামের রাজনীতির কৃতকৌশল

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

দেবদুলাল মুন্না

বরগুনার এমপি ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। রিফাত হত্যার পর থেকেই গুঞ্জন রয়েছে এ হত্যাকাÐে প্রকৃত আসামিকে আড়াল করার জন্য একের পর এক নাটক সাজানো হচ্ছে এবং একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল কাজ করছে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে সুনাম দেবনাথের কথা বারবার বলা হচ্ছে। আসলে ঘটনাটি কি হতে পারে, এরজন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। ১. রিফাত হত্যার পর জড়িতদের ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সুনাম দেবনাথ। ওই স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রিফাত হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে সুনাম দেবনাথ হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের জীবন গেলো রক্ত¯্রােত বন্যায়, ক্ষমতাধরের ভায়রার ছেলে, মুখ খোলা তাই অন্যায়।’
এরপর তিনি লেখেন, ‘প্রথমেই আমরা স্পষ্ট হবো নাম নিয়ে, কারণ যে মারা গেছে আর যারা মেরেছে তাদের নাম এক হওয়াতে আমরা গুলিয়ে ফেলছি। কাকতালীয়ভাবে দুজনের বাবার নামও এক। যে ছেলেটিকে হত্যা করা হলো তার নাম রিফাত শরীফ, পিতার নাম দুলাল শরীফ, সাং-৬নং ইউনিয়ন। আর হত্যাকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নয়ন। তার সহযোগীরা হচ্ছে রিফাত ফরাজী, পিতা দুলাল ফরাজী, সাং-বরগুনা ধানসিঁড়ি রোড এবং রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী, পিতা ও সাং-ওই। এই রিফাত ও রিশানের অন্য একটি পরিচয় রয়েছে। তারা দুজনই সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। যারা আদর করে তাকে বাবা বলেই সম্বোধন করে। রিফাত ও নয়নদের আরও একটি পরিচয় আছে। তারা অত্র এলাকায় এমন কোনো ছাত্রাবাস নেই যেখান থেকে ছাত্রদের ল্যাপটপ, মোবাইল, টাকা ইত্যাদি ছিনতাই এবং চুরি করে নিয়ে আসেনি। এ নিয়ে বহুবার মামলা হয়েছে, বহুবার জেল খেটেছে, কিছুদিন পর আবার ছাড়াও পেয়েছে। তাদের নামে কতোগুলো মামলা রয়েছে তা থানা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
প্রশ্ন জাগে না এ রকম পোস্ট পড়ে, সুনাম যদি নয়ন বÐের পেছনের প্রভাবশালী ব্যক্তি হন তবে কেন তিনি প্রকৃত খুনিদের বিচার চাইবেন? প্রশ্ন জাগে না, এখানে কারা প্রকৃত প্রস্তাবে প্রভাবশালী?২. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বয়স হয়েছে। তিনি বহুবার এ আসন থেকে এমপি হয়েছেন। মানুষ পছন্দ না করলে এটা সম্ভব হতো? এর মানে তার জনসমর্থন রয়েছে। তার জনসমর্থন তো নষ্ট হওয়ার কথা যদি তার ছেলে সুনাম বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকেন। এটাই কি স্বাভাবিক নয়? কিন্তু সুনাম সম্পর্কে যতোদূর জানা যায় তিনি ঢাকায় শিক্ষা লাভের পর অতীশ দীপংকর বিশ^বিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাবার যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবেই স্থানীয়ভাবে আইন পেশা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পর এ আসনে সুনাম দেবনাথ এমপি পদে লড়তে পারেন, এটা বর্তমান রাজনৈতিক ধারার স্বাভাবিক ঘটনা। তাই সুনাম দেবনাথ এ আসনে যাতে এমপি প্রার্থী না হতে পারেন সেজন্য দলের ভেতরেও তো প্রতিপক্ষ থাকার কথা যারা তার বিরুদ্ধে অপবাদ রটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন… এ রকম প্রশ্নও তো সুনামের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের বিরুদ্ধে জারি রাখা যায়। নাকি? ৩. বলা হয়, মিন্নির পক্ষে আদালতে লড়ার কোনো আইনজীবী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। প্রশ্ন হলো এর জন্য সুনাম দেবনাথ দায়ী? তিনি নিজে একজন আইনজীবী। তিনি কেন দাঁড়ালেন না এ প্রশ্ন তুললে এর উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন তোলা যায়, যিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যার স্বপ্ন ওখানকার জনপ্রতিনিধি হওয়ার তিনি কি এ রকম স্পর্শকাতর মামলায় আইনজীবী হিসেবে জড়িয়ে কারও বিরাগভাজন হতে চাইবেন? কেউ কি এমন রিস্ক নেন? ৪. একটি ভিডিও নিয়ে বলা হচ্ছে এটি মিন্নিকে ভিলেন বানানোর জন্য তৈরি এবং এ কাজটি করছেন নেপথ্যে থেকে সুনাম দেবনাথ। এসব হাস্যকর কথা নয়কি? কারণ নয়ন বÐ মারা গেছে ক্রসফায়ারে। তার কাছেই মোবাইল ছিলো। পুলিশ উদ্ধার করেছে। সেখানে সুনাম আসেন কীভাবে। এর মানে কী তবে সুনাম পুলিশ প্রশাসনকেও হাত করে ফেলেছিলেন।
সত্যি কথা কি, তবে তো পুলিশ বিভাগের নৈতিকতার প্রতিও আস্থা নেই সুনামের বিরুদ্ধবাদীদের। মিন্নি আদালতে বলেছেন বা রিফাতের বাবাও বলেছেন যে, মিন্নির সঙ্গে যেভাবেই হোক নয়ন বÐের বিয়ে ও বিশেষ সম্পর্ক ছিলো। তাদের কথাও মিথ্যা? সুনামের বিরুদ্ধে দুর্নাম রটানোর রাজনীতির রসায়নটি খুঁজে বের করা দরকার। প্রশ্ন করুন বারবার। কোনো অপরাধীই যেন ছাড় না পায় এবং নিরপরাধীকে যেন ফাঁসিয়ে দেয়া না হয়। ম্যাকিয়াভ্যালি বলেছিলেন, ‘ক্ষমতাচর্চার রাজনীতিতে নিরপরাধী হয়ে ওঠেন আসামি। নাম বদলে হয়ে ওঠেন কয়েদি নম্বরে পরিচিত। ডানপন্থার রাজনীতির কৃতকৌশল এমনই।’ আমরা ফ্রানস কাফকার দ্য ট্রায়ালে এই অবস্থা দেখি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]