• প্রচ্ছদ » » ৩৭০ ধারা বিলোপ : স্বৈরতন্ত্রের পোশাকে গণতন্ত্র


৩৭০ ধারা বিলোপ : স্বৈরতন্ত্রের পোশাকে গণতন্ত্র

আমাদের নতুন সময় : 10/08/2019

ফরিদ কবির

ভারত কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে রাজ্যে কেন্দ্রের শাসন জারি করেছে। তার আগে সেখানে সামরিক কায়দায় কাশ্মীরের নেতাকর্মীদের বন্দি করা হয়েছে। টেলিফোন, মোবাইলসহ সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে সান্ধ্য আইন। কোনো হত্যাকাÐ হয়েছে কিনা… তার খবর পাওয়া না গেলেও সেনাবাহিনী জনগণের সঙ্গে যে মধুর ব্যবহার করছে না এ বিষয়ে আমি অন্তত নিশ্চিত। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একাত্তরে ঠিক এমন কায়দায় বাঙালির উপর নিপীড়ন শুরু করেছিলো। তার আগে ঠিক এমন সব পদক্ষেপই নিয়েছিলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও। সবাই জানেন, সেসময় ভারতসহ সারা পৃথিবীর মানুষই বাংলাদেশে হত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলো। কাশ্মীরের ঘটনায় ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। আমার লেখকবন্ধু সুবীর দত্ত ছাড়া আর কারও কোনো পোস্টও আমার নজরে পড়েনি। স্বৈরতন্ত্রের পোশাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের চেহারা আমরা দেখলাম। এবার এ বিষয়ে ভারতীয় বুদ্ধিজীবী ও ভারতীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
একজনের প্রতিক্রিয়া আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি। এ ঘটনার পর পরই ভারতের উত্তর প্রদেশের খাতৌলির বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সাহানি বলেছেন, দলের নেতাকর্মীরা এখন চাইলেই কাশ্মীরি সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করতে পারবে। ‘বিয়ে করতে পারবে’ বললেও সাহানি বাবুর কথায় অশ্লীল ইঙ্গিত লুকোনো থাকেনি। বিষয়টা এমন যে চাইলেই তারা এখন কাশ্মীরি নারীদের ভোগ করতে পারবেন। সেনাকর্তারাও এতো কুরুচিপূর্ণ ও অনৈতিক কথা বলতে পারেন কিনা সন্দেহ। ভারতীয় গণতন্ত্রীরা স্বৈরতন্ত্রের জামা সহসা শরীর থেকে নামাবেন কিনা তা বোঝা যাবে বিজেপি এই নেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয় তার ওপর। যদিও আমার ধারণা, এই নেতা থাকবেন বহাল তবিয়তেই। কাশ্মীরী জাতিগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষা কেবল নয়, পুরো জাতিকেই এবার নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, এখন দুনিয়া শাসন করছে আসলে অস্ত্রবাজ ও খুনিরাই। ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে জাতিগত নিধন হচ্ছে এদেরই হাতে। একটা জিনিস বিস্ময়ের যে, এতে মারা পড়ছেন মুসলমানেরাই। অমুসলিমদের হাতে যেমন : খোদ মুসলিমদের হাতেও। যেমন : সৌদিদের হাতে ইয়েমেনিরা, পাকিস্তানিদের হাতে বেলুচরা। আইএস জঙ্গিদের শিকারও কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলমানরাই। তারা সিরিয়া থেকে লাখো মাইল দূরে এসে হলি আর্টিজানে বোমা মারলেও কয়েক মাইল দূরে ইসরাইলের দিকে একটা ইটের টুকরাও ছোঁড়ে না। এ থেকে আমার ধারণা, আইএস জঙ্গিরা আসলে ইসরাইলিদেরই সৃষ্টি। ৪. না। মানুষকে আমি ধর্ম দিয়ে বিচার করি না। আমার কাছে মানুষের পরিচয় দুটোÑ ভালো মানুষ। মন্দ মানুষ। খারাপ মুসলমান, খারাপ হিন্দু, খারাপ খ্রিস্টান, খারাপ বৌদ্ধ বলে কিছু নেই। ভালো মুসলমান, ভালো হিন্দু, ভালো খ্রিস্টান, ভালো বৌদ্ধ বলেও কিছু নেই। এমনকি ভালো নাস্তিক বা মন্দ নাস্তিক বলেও নেই কিছু।৫. পৃথিবী এখন খারাপদের দখলে। খারাপরাই ক্ষমতাশালী। ভালোরাই নির্যাতিত। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]