ঈদের সময় অভাব কী ভুলে যেতাম!

আমাদের নতুন সময় : 11/08/2019

অধ্যাপক আবু আহমেদ

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদে আমরা অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করি। শৈশব মানেই আনন্দের সময়। ঈদ এলে তো আনন্দের সীমা থাকে না। ঈদ হলো ছোটদের আনন্দের মুহূর্ত। আমিও শৈশবে ঈদের সময় অনেক আনন্দে থাকতাম, খুব আনন্দ করতাম। ঈদুল আজহার সময় গরু কিনতে বাবার সঙ্গে হাটে যেতাম। বাজারের সবচেয়ে বড় গরুটি কিনতে চাইতাম। কিন্তু বড় গরু কিনতে চাইলেও অনেক সময় কিনতে পারতাম না। যেটাই কিনতাম, খুব উপভোগ করতাম। দুই-তিনদিন গরুর হাটে যেতাম। ঘুরতাম। তারপর গরু কিনতাম। একটা উৎসবের মধ্য দিয়ে দিন পার করতাম। এখন সেই আনন্দ হয়ে গিয়েছে কৃত্রিম, কৃত্রিমতায় ভরপুর। ঈদ বলতে যেটা বোঝায় সেটা ৫০-৬০’র দশকে আমরা পেয়েছি। তখন দেশে খুব অভাব ছিলো, কিন্তু ঈদের সময় সে অভাব ভুলে যেতাম সবাই। গ্রামাঞ্চলে ঈদের একটা আমেজ ছিলো। কিন্তু সে আমেজ এখন গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে এবং কৃত্রিমতা এসেছে। এখন সবাই প্রায় সচ্ছল হয়েছে আগের তুলনায়। আগের থেকে এখন অনেক বেশি গরু কোরবানি হচ্ছে, কোরবানির মাংস দিয়ে সবাই ফ্রিজ ভর্তি করে রাখছে, সেগুলো পচে যাচ্ছে কিনা সেটারও খবর নেয় না কেউ। আগে ঈদের চাঁদ দেখার জন্য আমরা সবাই একত্র হতাম এবং চাঁদ দেখতাম। এখন আর চাঁদ দেখার দরকার হয় না। টিভিতেই চাঁদ ওঠার খবর শুনতে পাই এবং ঈদ করি। কিন্তু এখন চাঁদ দেখার মতো স্কোপ নেই, উঁচু-উঁচু দালান-কোঠায় ভরপুর শহর। তাই চাঁদ দেখার মজা আগের মতো বা আনন্দ পাই না। এ স্মৃতিগুলোই এখন অনেক মনে পড়ে। এবারের ঈদ ঢাকাতেই করতে হবে। কারণ ছেলেমেয়ে এখানে আছে। আমি না থাকলে ছেলেমেয়েরা মন খারাপ করবে। বাড়িতে আমার ভাই আছে, তাদের কিছু টাকা পাঠিয়ে দিই। ছেলেমেয়েদের কারণেই মূলত গ্রামের বাড়িতে ঈদ করা হচ্ছে না আমার। তবে ঈদের আগে বা পরে বাড়িতে ঘুরে আসি। সবসময় যে বাড়িতে যেতে পারি তাও নয়, তবে সবসময় বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। পরিচিতি : অর্থনীতিবিদ। মতামত গ্রহণ : শরিফুল ইসলাম।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]