ছুটিতে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা, যানজট ঢাকার বাইরে

আমাদের নতুন সময় : 11/08/2019

মো. আখতারুজ্জামান : কোরবানি ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। ঈদ উদ্যাপনে শেকড়ের টানে রাজধানী ছেড়েছেন লাখ-লাখ রাজধানীবাসী। দু’দিন আগেও যেখানে লেগে থাকতো দীর্ঘ যানজট, সেখানে দ্রæত গতিতে চলছে যানবাহন। এ যেন এক ভিন্ন ঢাকার চিত্র। যানবাহনের গতি আর ফাঁকা রাস্তা দেখে মনে হবে এটা যেন চিরচেনা ঢাকা শহর নয়; এ দৃশ্য উন্নত কোনো দেশ, অন্য কোনো শহরের। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্রই দেখা গেছে।
প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাসে উঠতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হলেও শনিবার রাজধানীর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কোথাও কোনো জ্যাম নেই। নেই বাসের জন্য অপেক্ষা করা যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। রাস্তায় যে বাসগুলো চলাচল করছে তার অধিকাংশ আসন যাত্রীশূন্য। বিভিন্ন ট্রাফিক সিগনালে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশদের অনেকটা অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন স্টপেজে বাসের হেলপাররা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী তুলছিলেন। রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগে ভিআইপি সড়কে রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। কয়েকটি বাসের হেলপার জানান, আগে যেখানে এক একটি সিগন্যাল পার করতেই দিন পেরিয়ে যেত। এখানে কোনো যানজটে ছাড়াই পার হচ্ছি, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।
বিজয় সরণি মোড়ে ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জাকির বলেন, শহরটা যদি সব সময় এমন থাকতো। দুর্ঘটনা ঘটতো না। থাকতো না যানজট। মানুষ খুব সহজে চলাচল করতো। তবে এখনকার দৃশ্যটা এমন হলেও বাস্তবতা বদলে যাবে ঈদের ২- ৪ দিন পরই।
গুলিস্থান-গাবতলী রুটের একটি বাসের হেলপার আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাসের যাত্রী কমতে শুরু করেছে। আগে গুলিস্থান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আসতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতো। রাস্তা ফাঁকা থাকায় ৫ মিনিটেরও কম সময়ে শাহবাগ পৌঁছে গেছি।
বলাকা বাস সার্ভিসের হেলপার মমিন জানান, কমলাপুর রেল স্টেশনের যাত্রী নিয়ে যাওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া আর তেমন কোনো যাত্রী পাচ্ছি না। আজমেরী বাস সার্ভিসের এক চালক বলেন, রাস্তা অনেক ফাঁকা। গাড়ি চালিয়ে মজা লাগছে। আগে আমরা যানজটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতাম। আর আজ যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঢাকার ভেতরে যাত্রী নেই বললেই চলে। যাত্রী কম থাকায় আমাদের আয় কমেছে।
অন্যদিকে ঈদের আগ মুহূর্তে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। প্রতিটি ট্রেন গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা দেরিতে আসছে স্টেশনে। ফলে হাজার হাজার যাত্রীদের রাত থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে লঞ্চের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনায়াসে আসতে পারলেও সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালের আগ দিয়ে তীব্র যানজটে পড়তে দেখা গেছ ঘরমুখো যাত্রীদের। বাস টার্মিনালেও একই অবস্থা। যাত্রী আছে বাস নেই। ঢাকা যানজট মুক্ত থাকলেও ঢাকার বাহিরে দীর্ঘ যানজটে বাস যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০ কিলোমিটারে খুবই ধীরগতিতে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। সম্পাদনা : শাহানুজ্জামান টিটু ,সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]