• প্রচ্ছদ » » জাতীয় সংগীত বদলে ফেলতে সরব হয়েছিলেন যারা


জাতীয় সংগীত বদলে ফেলতে সরব হয়েছিলেন যারা

আমাদের নতুন সময় : 11/08/2019

আমিরুল ইসলাম : ওপার বাংলায় জি বাংলা টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো সা-রে-গা-মা-পাতে অংশগ্রহণ করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন নোবেল। কিছুদিন আগেই জাতীয় সংগীত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দুই বাংলায় তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। প্রিন্স মাহমুদের লেখা ‘বাংলাদেশ’ গানটিকে তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীতের চেয়েও বেশি আবেগময় বলেছিলেন। তার এই মন্তব্য জাতীয় সংগীতকে অমর্যাদা করার শামিল বলে মনে করছে অনেকে। অনেকেই আবার বলছেন, নোবেল তো শুধু একটা মন্তব্যই করেছেন। কিন্তু দেশের বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিই জাতীয় সংগীত বদলে ফেলতে সরব হয়েছিলেন তাদের নিয়ে এতোটা সমালোচনা হয়নি।
মোশতাক আহমেদ : জাতীয় সংগীত প্রথম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় খুনি মোশতাক সরকার। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়া-ফারুক-ডালিম চক্র রাষ্ট্রপতির আসনে বসায় খন্দকার মোশতাক আহমেদকে। ক্ষমতায় বসেই মোশতাক জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের করে। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন মুহাম্মদকে। কমিটিকে ‘এক মাসের মধ্যে পরিবর্তিত জাতীয় সংগীত’ প্রস্তাব করতে বলা হয়। দ্বীন মুহাম্মদ কমিটি তিনটি বৈঠক করে। তারা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ চল চল চল’ এবং ফররুখ আহমেদের ‘পাঞ্জেরী’ থেকে যেকোনো একটি জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করে প্রতিবেদন জমা দেয় ১ নভেম্বর। কিন্তু ক্যু পাল্টা ক্যুতে ওই প্রস্তাবের মৃত্যু ঘটে। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
জিয়াউর রহমান: মোশতাকের পর ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের ৩০ এপ্রিল, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দ্বিতীয় উদ্যোগ নেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এক গোপন চিঠিতে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি গান ভারতীয় জাতীয় সংগীত। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকও নন। হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন কবির লেখা গান জাতীয় সংগীত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহ উদ্বিগ্ন। এই গান আমাদের সংস্কৃতির চেতনার পরিপন্থী বিধায় জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আবশ্যক।’ প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিতে ‘আমার সোনার বাংলা’র পরিবর্তে ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’কে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রেডিও, টেলিভিশন এবং সব সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথম বাংলাদেশ গানটি প্রচারের নির্দেশনা জারি করে। এ সময় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি প্রথম বাংলাদেশ গাওয়া শুরু হয়। কিন্তু ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ : এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর ইসলামপন্থীদের কাছে টানতে বহু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সংগীতকে পাল্টে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে শোনা যায়। তবে এর তেমন কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি । মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদ : জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের চতুর্থ দফা উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়। ২০০২ সালে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি যৌথ সুপারিশপত্র প্রধামন্ত্রীর বরাবরে জমা দেন। ২০০২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে দু’জন যৌথভাবে বলেন,‘সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের ইসলামী মূল্যবোধ ও চেতনার আলোকে জাতীয় সংগীত সংশোধিত হওয়া প্রয়োজন।’ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অনুরোধ পত্রটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হক বিষয়টি ‘অতি গুরত্বপূর্ণ’ বলে সচিবের কাছে প্রেরণ করেন। সচিব জাতীয় সংগীত পরিবর্তন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এখতিহারবহির্ভূত বিষয় বলে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করে ২০০২ সালের ১৯ আগস্ট। এরপর এ সম্পর্কে আর কোনো তৎপরতা নথিতে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও গোলাম আজম, মুহিবুল্লাহ খানসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকে এতোটা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি, যেটা নোবেলের ক্ষেত্রে হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]