• প্রচ্ছদ » » ৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদী সরকার ভারতীয় আইনে, কাশ্মীরে হিন্দুদের জমি কেনার সব পথ খুলে দিয়েছে


৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদী সরকার ভারতীয় আইনে, কাশ্মীরে হিন্দুদের জমি কেনার সব পথ খুলে দিয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 11/08/2019

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি : বর্তমান ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অদ্ভুত মিল হচ্ছে তারা যেভাবে বিদেশি সাংবাদিক, বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বিদেশি নেতাদের বেরিয়ে যেতে বলেছিলো, ঠিক একই কায়দায় মোদি সরকার সব বিদেশি ট্যুরিস্ট থেকে শুরু করে ছাত্র সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেছে! ফিলিস্তিনে ইসরাইল যে পরিমাণ সেনা পাঠিয়েছে তার চেয়ে কাশ্মীরে বেশি পাঠিয়েছে মোদি সরকার। এক লাখ ট্রুপস, সঙ্গে বলা হয়েছিলো সেখানে টেরর অ্যাটাকের সম্ভাবনার জন্য সব টুরিস্ট, ছাত্রদের বেরিয়ে যেতে। এরপর দেখা গেলো ল্যান্ডলাইন, সেলফোন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সব বন্ধ, সব নেতারা গৃহবন্দি। এরপর দেখা গেলো টেরর অ্যাটাকের কথাটা ভুয়া, আসল হচ্ছে… কাশ্মীরের প্রতি ভারতীয় আইনের ৩৭০ ধারা আর ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করার মধ্য দিয়ে মোদি সরকার ভারতীয় আইনে কাশ্মীরে হিন্দুদের জমি কেনার সব পথ খুলে দিয়েছে। কাশ্মীরসহ সমগ্র ভারতের মোট ৯টি স্টেটে জমি কেনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হতো, এখন থেকে সেটি আর হবে না। এই জিনিস অতি অসাম্প্রদায়িক দেখালেও সেটা অতি সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত। কারণ ওই অঞ্চলের সংখ্যাগুরু মুসলমানদের সংখ্যালঘু করে ফেলার একটা প্রয়াস এটি। গত ৩০ বছর ধরে ভারতীয় বাহিনীর নানা অকর্ম কাশ্মীর ঘিরে আছে।
চীন, যারা উইঘুর মুসলিমদের জন্য কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প বানিয়েছে নির্যাতন করতে। কিছুদিন আগেই সৌদির যুবরাজকে চীনের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে মুসলমানদের উপর করা অন্যায়ের কথা বললে প্রিন্স জানিয়েছেন ওইটা চীনের নিজেদের ব্যাপার। আবার খেয়াল করুন এই সৌদি আরবই ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের কারণ। শিশুদের উপর বোমা ফেলা ছাড়া তাদের আরেকটি অবদান হচ্ছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা, কাতারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া। আবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীন, রাশিয়া সব এক। কেউ তাদের আশ্রয় দেবে না। দেবে কারা? বাংলাদেশের মতো হতভাগ্যরা। সৌদি আরব ভারতের সঙ্গে আছে। কারণ কয়দিন আগেই দশ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের চুক্তি ভারতের সঙ্গে করেছে তারা। সৌদির বাদশাহ আজিজ নরেন্দ্র মোদিকে দিয়েছেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। আমরা এমন একটা জামানায় বাস করছি যেটার নাম হতে পারে ‘এজ অফ ক্রিমিনালস’। যাদের ক্ষমতায় বসিয়েছি তারাও ক্রিমিনাল। বাংলাদেশের কাওমি জননী, ভারতের জয় শ্রীরামে মদদদাতা মোদি, ট্রাম্প এবং কিম জং উনের মতো খুনি, রাশিয়ায় পুতিনের মতো কেজিবির এক্স এজেন্ট, চীনের ডিক্টেটর, সৌদি আরবের মতো ধর্মব্যবসায়ী, ইসরাইলের মতো যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসায়ী। পুরো পৃথিবীর ভার সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়ে সন্ত্রাস দমন করবেন, ন্যায়বিচার আশা করবেন, সেটা অতি হাস্যকর। হাস্যকর বলেই শামীম ওসমানের মতো মাফিয়ারা সংসদ সদস্য হয়, ইয়াবা বদির মতো এমপি শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বালুকাবেলায় পা ভিজিয়ে থাকে। এজ অফ ক্রিমিনালসকে মদদ দেয় তারা আর কেউ না, ধর্মান্ধ অশিক্ষিত জনগণ। যারা ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবানের মৃত্যু হবে ভেবে নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলে। একটা মসজিদে শুয়োর কাটলে আর একটা মন্দিরে গরু কাটলে ধর্ম উথলে ওঠে, কিন্তু হাজার হাজার মানুষ মারা গেলে কিচ্ছু আসে যায় না কারও। আপনি স্বীকার না করলেও সত্য হচ্ছে এই ধর্মান্ধ অশিক্ষিত জনগণই হচ্ছে মেজরিটি যাদের দিয়ে ভোটের হিসাব করা হয়। যারা বারবার ব্যবহৃত হয় ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা রাজনৈতিক নেতাদের হাতে। এই জামানা ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের সংঘর্ষের। হাতে টেকনোলজি নিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে অসুখ সারিয়ে মনে মনে নূহের প্লাবন বিশ্বাস করার মতো, শিবলিঙ্গে দুধ ঢেলে বর চাওয়া, দশ হাতওয়ালা মা দুর্গা কৈলাশ পর্বত থেকে নেমে এসেছেন বিশ্বাস করার মতো আহাম্মকির জামানা। দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার জামানা। অথচ এই শতাব্দীর হওয়া উচিত ছিলো এজ অফ রেভ্যুলেশন। বিগত শতাব্দীর দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধ, লাখ লাখ লাশ, হিটলার, মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্ট আর লেনিন স্তালিনের মতো ডিক্টেটর শাসকের দল থেকে মুক্তির শতক পার হয়ে আমরা পৃথিবীর ভার তুলে দিয়েছি আরও শক্তিশালী একদল ক্রিমিনালের হাতে। ক্রিমিনালদের হাতে পুরো পৃথিবীর ভার দেয়ার কারণেই শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার হতে হয়, অরুন্ধতী রায়কে জানের মায়া নিয়ে ‘মিনিস্ট্রি অফ অটমোস্ট হ্যাপিনেস’ লিখতে হয়, জুলিয়ান এসাঞ্জকে গ্রেপ্তার হতে হয়। মানবজাতির মূল যুদ্ধ রাজনীতির সঙ্গে নয়। মানবজাতির মূল যুদ্ধ নিজেদের শিক্ষিত করার সঙ্গে, নিজেদের লালন করা কুসংস্কারের সঙ্গে, মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শেখার গুণ অর্জনের সঙ্গে, ধর্মান্ধতার মতো অন্ধকারের সঙ্গে। রাষ্ট্র বলে যে জিনিসটা সেটায় আমার খুব একটা বিশ্বাস নেই। কারণ আমি যে পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি সেই পৃথিবীতে কাঁটাতার নেই, যুদ্ধ নেই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো আমিও বিশ্বাস করি দেশপ্রেম একটা মিথ। এ কারণেই হয়তো স্যামুয়েল জনসন বলেছিলেন… বদমাইশদের শেষ আশ্রয় হচ্ছে দেশপ্রেম। এই জিনিসের কথা বলে মানুষকে ধোঁকা দেয়া যায়। মুখে জয় বাংলা বলে রেপ করা, জমি দখল করার মধ্যে আমি দেশপ্রেম দেখি না, দেখি লোভ আর লালসা। জহির রায়হানের মতো আমারও বিশ্বাস সময়ের প্রয়োজনে দেশের মানচিত্র বদলায়। যা বদলায় না তা হচ্ছে মানুষকে মানুষ হিসেবেই ভালোবাসতে শেখার ক্ষমতা। চোখ খুললেই দেখতে পাবেন, পৃথিবীটা আপনার ‘দেশপ্রেম’ বা ধর্মচিন্তার সমান ছোট নয়, পৃথিবী আপনার মনুষ্যত্বের সমান বড়। আর রাজনীতি এমন এক জিনিস যেটার জন্য মোদি আর মদিনার দূরত্ব প্রায় সমান। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]