• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রের মানুষগুলো কেমন?


বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রের মানুষগুলো কেমন?

আমাদের নতুন সময় : 16/08/2019

কামরুল হাসান মামুন : বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রের মানুষগুলো কেমন? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলা যায় : খুবই নি¤œ রুচির বলদ এবং নির্মম। নিচে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। সঙ্গে কমেন্ট থ্রেডের প্রথম ভিডিওটি দেখবেন। গোটা লেখাটা পড়ে, ভিডিওটা দেখে তারপর না হয় লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার কইরেন প্লিজ।

সম্প্রতি দেখলাম দূরপাল্লার বাসের নিচে লাগেজ রাখে যেখানে সেখানে দশ-বারোটা ছাগল প্রায় ১৮ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে ঢাকায় নিয়ে এসেছে। গন্তব্যে এসে ছাগলগুলো নামাতে গিয়ে দেখে কয়েকটি ইতোমধ্যেই মরে গেছে আর বাকিগুলো মুমূর্ষু অবস্থায় কোনোরূপ বেঁচে আছে। ভিডিওটি কমেন্ট থ্রেডের প্রথম কমেন্টে দেয়া হলো, মুরোদে কুলালে একটু দেখে নেবেন। চোখে জল আসবে নিশ্চিত আর যদি না আসে তাহলে এটি হবে আপনিও যে একজন চরম নির্মম মানুষ তার লিটমাস টেস্ট। হয়তো কিছুক্ষণ মরেই গেছে। কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য এভাবে করে পৃথিবীর কোথাও প্রাণীকে নিয়ে আসবে না। আমি আমার বাসার বারান্দা দিয়ে প্রায়ই দেখি মুরগি বিক্রেতারা কীভাবে দশ-বারোটা মুরগি বাঁধা অবস্থায় উল্টো করে হাতে ঝুলিয়ে পাড়ার রাস্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই নির্মমতাও বড় কষ্টের। এখানে যে বিক্রি করছে তার কষ্টটাও বুঝতে হবে। দুই হাতে ছয়টা করে মুরগি নিয়ে জীবিকার জন্য সারাদিন ঘুরে বেড়ানো। আর মুরগির প্রতি নির্মমতা তো আরও কষ্টের। সম্প্রতি দেখছি আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে নকল দুধ কোম্পানির খোঁজ পেয়েছেন। সামান্য একটু গরুর দুধের সঙ্গে নানা রকম জিনিসপাতি মিশিয়ে শত শত লিটার পাস্তুরিত দুধ বানিয়ে বাজারজাত করছে। এ রকম যে শুধু দুধের ক্ষেত্রে ঘটছে তা নয়। অন্যান্য নানা খাবারেও ঘটছে। শুধু মানুষের খাবার না হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগল ও মাছের খাবারেও ভেজাল। এমনকি প্রাসাধনীতেও ঘটছে একই প্রক্রিয়া। এরাও উপরে উল্লেখিত মানুষদের চেয়ে একটু বেশি শিক্ষিত তাই এদের বলদামি ও নির্মমতার মাত্রা আরও বেশি। বলদামি এইজন্য বললাম দেশে চালাক তো কেবল ওরা একা নয়। ওর মতো আরও হাজারো বলদরা ও এবং ওর পরিবারকেও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এবার দেখলাম রাষ্ট্রীয় খরচে হজ যাত্রীদের একটি লিস্ট। সেই লিস্টে যাদের নাম দেখলাম তাদের ওই লিস্টে দেখে আমি হতবম্ব হয়ে গেছি। প্রথমত হজ কাদের জন্য? যাদের সামর্থ্য আছে কেবল তাদের জন্যই। এটি একটি ধর্মীয় বিধান। তাই শুধু সামর্থ্য থাকলেই হবে। কীভাবে সামর্থ্যবান হলেন সেটা দেখা লাগবে না? এবার মোট সাত দফায় রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করার জন্য মোট মনোনয়নপ্রাপ্ত ৩৮৯ জন। সংখ্যাটি শেষমেশ আরও বাড়তেও পারে। এর মধ্যে একটি বিশেষ প্যাকেজ আছে। যার মাধ্যমে শুধু নির্বাচিতরা না সঙ্গে তাদের স্ত্রী সন্তানসহ মোট চারজন যেতে পারবেন। তাদের অনেকে বিশেষ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হজ পালনের পাশাপাশি লাখ লাখ টাকা খরচও পাবেন। বলুন মারহাবা! এই প্যাকেজে যারা মনোনয়ন পান তারা সাধারণত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সচিবসহ সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদরা। এছাড়াও বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের মধ্যে থেকে ৫৫ জন হেফাজতের লোকজনও মনোনীত হন। এছাড়া সরকারি খরচে হজ করার জন্য আরও ১৩৪ জনের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয় যার মধ্যে আছেন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক নেতা, সংসদ সচিবালয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার, কলেজের প্রিন্সিপাল, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক, উপসচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকোশলী, বাংলাদেশ স্কাউটসের উপকমিশনার, রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নাম রয়েছে। এছাড়া সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন সংসদীয় কমিটির প্রত্যেক সদস্যের পাঁচজন করে প্রতিনিধি। তবে সামাজিক যোগাযোগে কিছু মানুষের নাম ঘুরেফিরে আসছে যেমন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, কবি আসলাম সানী, সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ প্রমুখ। এছাড়াও আছেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তারা নাকি আবার কিছু দায়িত্বও পালন করবেন। অর্থাৎ কাজের বিনিময়ে হজ। মন্দ নয়। কিন্তু এই যে জনণের ট্যাক্সের টাকার এমন শ্রাদ্ধ হচ্ছে এটা কি ঠিক? বাঙালি ফ্রি পাইলে … মধ্যে কামড় দিয়ে হলেও টাকা উঠাবে। এদের সবাইকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হজ করতে পাঠানো হলো ‘ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে’! এরা আসলে কতোটুকু ধর্মপ্রাণ সেটা কি মাপা হয়েছে? মাপার কি কোনো যন্ত্রপাতি আছে নাকি? তো এটাকেও আমি বলদামি আর নির্মাতার ক্যাটেগরিতে ফেলতে চাই। এরাও উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের বাছবিচার করেনি। মাগনা পেয়েছে আর হুড়মুড় করে চলে গেছে।

আর স্বয়ং সরকারের মন্ত্রী-আমলারা কেমন সেটা তো কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু আর ঘোরাফেরা মানুষদের রাস্তাঘাট নিয়ে মন্তব্যেই স্পষ্ট। এদের কথাবার্তা মানেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো লাগে। আরও অনেক বলা যাবে যা সবাই জানেন। সব সমস্যার মূলে আসলে আমরা এখনো সভ্যতা থেকে যোজন যোজন দূরে। দিন যতো যাচ্ছে আমরা ততোই অসভ্য হচ্ছি। আসলে সব কিছুরই মূলে হলো শিক্ষা। শিক্ষার মানের অধঃপতনের সঙ্গে অন্য সব ভালো কিছু অধপতিত হতে বাধ্য। এই জিনিসটা যেহেতু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরাই বুঝতে পারছেন না তাই আমি বলবো গোটা জাতির মানুষই নির্মম আর বলদ। ব্যতিক্রম হয়তো কেউ কেউ আছে। কিন্তু ব্যতিক্রম দিয়ে পারসপেক্টিভ তৈরি হয় না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]