বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

আমাদের নতুন সময় : 16/08/2019

রমজান আলী : বাংলাদেশের বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিদেশি ঋণের পরিমাণ। গত অর্থবছর শেষে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩ লাখ ২০ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকার বাজেটে আয় ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকার যে পরিমাণ আয় করে, বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ রয়েছে তার চেয়ে বেশি। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২৩০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার ৪২০ টাকা।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৩ হাজার ২০৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ রিজার্ভের তুলনায় ঋণ ৬০০ কোটি ডলার বেশি রয়েছে। বৈদেশিক দায় পরিশোধ করলে
বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পদ ঋণাত্মক হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদনে সরকারের বৈদেশিক ঋণের তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ছিল ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার বা ২ লাখ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ছিল ৩ হাজার ৩৫১ কোটি ডলার বা ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ বেড়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও। গত বছর বৈদেশিক মুদ্রার আসল ও সুদ হিসেবে ১৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সুদ
পরিশোধ করেছে ৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগে সুদ পরিশোধের ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ ৫ বছরে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির পরিমাণ বাড়লে বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি পাবে। লাইবর রেট ও নতুন ঋণ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মর্যাদা উন্নীত হওয়ায় (নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ) এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাংক, জাপানসহ অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের বৈদেশিক ঋণের আর্থিক শর্তাবলি
আগের তুলনায় কঠিনতর হয়েছে। তা ছাড়া দেশের বিনিয়োগ চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো খাতে অনমনীয় শর্তের ঋণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে অনমনীয় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতীয়মান হয়।
এদিকে ওই প্রতিবেদনে আগামী বছরগুলোয় বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের পরিমাণ কেমন হতে পারে, তার প্রক্ষেপণ দেয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার ৪৫৮ কোটি ডলার। ২০২১ সালের ৩০ জুন নাগাদ এই ঋণ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। ২০২২ সালের জুন নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৯১ কোটি ডলার। অর্থাৎ তিন বছর পর সরকারের বৈদেশিক ঋণের বোঝা ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]