• প্রচ্ছদ » বিনোদন » রুপালি গিটার ফেলে অভিমান করে বহুদূরে চলে যাওয়া মানুষটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা


রুপালি গিটার ফেলে অভিমান করে বহুদূরে চলে যাওয়া মানুষটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আমাদের নতুন সময় : 16/08/2019

আমিরুল ইসলাম : বছর দুয়েক আগে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সারাবিশ্বে যারা বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছেন, তাদের গানের মাধ্যমে জাগিয়ে রাখার জন্যই তার সব রকমের প্রচেষ্টা। তার প্রচেষ্টা অনেকটা সফলই বলা যায়। কারণ আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলো সবসময় সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে জাগিয়ে রাখবে। তার রেখে যাওয়া গানগুলো এদেশের তরুণ সমাজ চিরকাল ধারণ করবে।

আইয়ুব বাচ্চু ১৬ আগস্ট ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার থরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সংগীতজ্ঞ, গায়ক-গীতিকার এবং গিটারবাদক ছিলেন। তিনি রক ব্যান্ড এলআরবির গায়ক ও গিটারবাদক হিসেবে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো। তাকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং গিটারবাদক বলা হয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু চট্টগ্রামে ১৯৭৬ সালে কলেজ জীবনে ‘আগলি বয়েজ’ নামক ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে তার সংগীত জীবনের সূচনা করেছিলো। ১৯৭৭ সালে সে ‘ফিলিংসে’ (বর্তমানে ‘নগর বাউল’ নামে পরিচিত) যোগদান করে এবং ব্যান্ডটির সঙ্গে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাজ করেছিলো। একই বছরে সে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড সোলসে প্রধান গিটারবাদক হিসেবে যোগদান করেছিলো। সোলসের সঙ্গে সে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, সুপার সোলস (১৯৮২), কলেজের করিডোরে (১৯৮৫), মানুষ মাটির কাছাকাছি (১৯৮৭) এবং ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট (১৯৮৮) এই চারটি অ্যালবামে কাজ করেছিলো। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল সে তার নিজের ব্যান্ড লিটল রিভার ব্যান্ড গঠন করে, যা পরবর্তীকালে লাভ রান্স ব্লাইন্ড নামে বা সংক্ষেপে এলআরবি নামে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি মৃত্যু অবধি ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর ধরে ব্যান্ডটির সঙ্গে ছিলেন। একজন একক শিল্পী হিসেবেও তিনি সফলতা পেয়েছিলেন। তার প্রথম একক অ্যালবাম রক্ত গোলাপ ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বের হয়েছিলো। তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) দিয়ে সে সফলতা অর্জন করে এবং পরে কষ্ট (১৯৯৫) বের করে যা প্রচুর সফলতা অর্জন করে। ২০০৭ সালে তিনি দেশে প্রথম বাদ্যযন্ত্রগত অ্যালবাম সাউন্ড অফ সাইলেন্স প্রকাশ করেন।

আইয়ুব বাচ্চু এলআরবির সঙ্গে এবং একজন একক শিল্পী হিসেবে প্রচুর অ্যালবাম বিক্রয় করেছেন। তিনি দেশের একজন অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী গিটারবাদক। দ্য টপ টেনস তাকে বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ ১০ জন গিটারবাদকে’র তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে দিয়েছেন। এলআরবির সঙ্গে তিনি ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন। ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার জিতেছিলেন সেরা পুরুষ ভোকাল বিভাগে। ২০১৭ সালে তিনি টেলে সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার জিতেছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু তার বান্ধবী ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারিতে। তাদের দু’টি সন্তান আছে। মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব এবং ছেলে আহনাফ তাজওযার আইয়ুব। ছয় বছর ধরে ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাসে হৃদরোগে তিনি নিজ বাসায় ঢাকায় মারা যান। জনপ্রিয় এই সংগীত শিল্পীর জন্মদিনে তার প্রতি রইলো বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন আইয়ুব বাচ্চু।

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]