• প্রচ্ছদ » সাবলিড » জঙ্গি দমনে দক্ষিণ এশিয়া বা বিশে^র অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কতোটা সফল?


জঙ্গি দমনে দক্ষিণ এশিয়া বা বিশে^র অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কতোটা সফল?

আমাদের নতুন সময় : 17/08/2019

আশিক রহমান : বিশ^ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় নিরাপত্তা বা জঙ্গিবাদের হুমকির জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ২০০৫ আর ২০১৯ সাল এক নয়। ২০১৭ সাল বাদ দিলে দেশে এখন জঙ্গি তৎপরতা নেই বললেই চলে। জঙ্গিদের সেই শক্তি এবং সামর্থ্যও নেই। হয়তো ছোটখাটো দুয়েকটা অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা নেই। জঙ্গি দমনে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রশংসনীয় কাজ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সামর্থ্য ও লজিস্টিক সাপোর্ট বেড়েছে। তাদের সতর্কতা, সক্রিয়তা বা তৎপরতা খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে জঙ্গিরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য জঙ্গিরা চ্যালেঞ্জ হতে পারবে বলেও মনে করি না।

বিশ^ জঙ্গিবাদ বা দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গিবাদ কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এটা বলাই যায়, বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। কারণ আমরা দেখেছি এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের মতো জায়গায় জঙ্গি হামলা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় হামলা হলো। ভারতে তো প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। হয়তো এভাবে নয়, অন্যভাবে। কাশ্মীরে নতুন করে সংঘাত শুরু হচ্ছে। সার্বিকভাবে বললে, আমরা দুনিয়ার অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো আছি।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, অনেকে ভাবেন, ইসলামী জঙ্গিবাদ হচ্ছে একধরনের জঙ্গিবাদ, আর কোনো জঙ্গিবাদ নেই। জঙ্গিবাদ আসলে সব সময়ই ছিলো। কখনো তা বড় আকারে, কখনো-বা ছোট আকারে ছিলো। জেহাদী জঙ্গিবাদ যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, আমাদের এখানেও সেটা মনে করে। আমাদের মাওবাদী জঙ্গিবাদ বা চট্টগ্রামের পাহাড়ে জঙ্গিবাদ ছিলো। এর  বাইরে অন্যান্য জঙ্গিবাদ ছিলো। কিন্তু কোনোদিনই রাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিলো না। এখনো নেই। জঙ্গিবাদের কারণে যেহেতু রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত ও অপমাণিত হচ্ছে, তাই সরকার অত্যন্ত শক্ত হাতে তা দমন করেছে। হলি আর্টিজান হামলার পর তিনবছর হয়েছে, এর মধ্যে বড় কোনো হামলা তারা করতে পেরেছে? পারেনি। ফলে তাদের বড় কোনো শক্তি বা হুমকি মনে করার কারণ নেই। জঙ্গিবাদ যতো না বড়, তার চেয়ে বড় করে তোলা হয় এখানে। সেসব দেশেই জঙ্গিবাদ সবল হয় যে দেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যুক্ত হয়। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জঙ্গিবাদ যুক্ত নয়। এজন্য জঙ্গিবাদকে বড় করে দেখি না আমি। জঙ্গিবাদের এই ধারা অনেকদিন ধরে থাকবে, তবে সেটা বড় আকারে নয়। জঙ্গিবাদ আমাদের দেশে কোনোদিনই বড় হবে না। সরকার যেটা করবে, তাদের দমন করে যাবে।

মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ থাকলে এদেশে জঙ্গিবাদ বেড়ে ওঠার সুযোগ দেখছি না। কারণ জঙ্গিদের বিষয়ে মানুষ ও রাষ্ট্রীয় জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। জঙ্গিবাদ বেড়ে ওঠা বন্ধ করতে পেরেছি, কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা যায়নি। কারণ জঙ্গিবাদের বাস রাজনীতির ভেতরে। সেটি ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি কাজ করেছে। যারা জঙ্গিবাদ থেকে সুবিধা পায়, রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চায় তারাই জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বিদেশি অনেক রাষ্ট্রও আছে যারা জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। গ্লোবাল অর্থনৈতিক সাপোর্ট যতোদিন থাকবে ততোদিন জঙ্গিরা বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে। কিন্তু আগে যতো সহজভাবে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারতো সেই রাস্তাটা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। যে কারণে জঙ্গিবাদের প্রসারণ এখন বন্ধ দেখছি। বেড়ে উঠতে পারছে না। জঙ্গিবাদের যে বীজ বা শেকড় রয়েছে তার মূলোৎপাটন করাটাই হচ্ছে কঠিন কাজ। সামাজিকভাবে জঙ্গিদের প্রত্যাখ্যান করলে সেটি বড় হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে তা যদি চলামান থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের ছোট হতেই হবে।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]