ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ 

আমাদের নতুন সময় : 18/08/2019

শাহীন খন্দকার : পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ছিল ঢাকামুখী মানুষের ভিড়। কিন্তু ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদ ও ইঞ্জিনে করে রাজধানীতে ফিরেছেন।

রেলপথে ঢাকায় ফেরার প্রবেশদ্বার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ছাদে ও ইঞ্জিনে চেপে আসা যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল শনিবার সকালে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

বিমানবন্দর স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী থেকে আসে ধূমকেতু এক্সপ্রেস এবং পৌনে ১১টায় কিশোরগঞ্জ থেকে আসে এগার সিন্ধু এক্সপ্রেস। এ ট্রেন দুটির ইঞ্জিন ও ছাদে চেপে আসা যাত্রীদের নামাতে দেখা যায় বিমানবন্দর স্টেশনে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। আনসার সদস্যরা জানান, ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে করে আসা নিষেধ। তাই তাদের নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এবারের ঈদ যাত্রায় উত্তরাঞ্চলগামী  প্রায় সকল ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রেন যাত্রীদের ঢাকায় ফিরতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঈদের আগে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ফিরতিবেলায়ও প্রায় সব ট্রেনই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্টেশনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের অপেক্ষায় প্রহর গুনেছেন যাত্রীরা। জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন রাত ৪টায় এবং শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

রাজশাহী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে ঢাকা বা আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য যে সকল ট্রেন যাতায়াত করে, তার সবকটি ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে  । এসব ট্রেনের মধ্যে শুধুমাত্র বনলতা এক্সপ্রেস সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ধূমকেতু থেকে শুরু করে শুক্রবার সকালের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেসও ছাড়তে পারেনি সময় মতো। এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী ট্রেন স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রায় দুই কোটি মানুষের ঢাকা মহানগরী ঈদের ছুটিতে ছিল বেশ ফাঁকা। রোববার থেকে অফিস ।

এদিকে ঈদ উপলক্ষ্যে যতোদিন যাত্রীর চাপ থাকবে ততোদিন পর্যন্ত ট্রেনের বিশেষ সেবা চলবে বলে জানিয়েছে কমলাপুর রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের আগে মানুষকে নিরাপদে যেভাবে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি সেভাবেই নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি রয়েছে। ঈদের আগে যেসব বিশেষ ট্রেন চলাচল করেছে, সেগুলো এখনো চলছে।’

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ৪৪টি রুটে ৯০-৯৫টি লঞ্চ চলাচল করছে। ঈদের আগে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হলেও ফিরতি যাত্রায় এখনও কোনো ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়েনি। অনেকটা আরামেই ঢাকা ফিরছেন যাত্রীর। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরতে টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কিছুটা বেগ পোহাতে হয়েছে ঢাকামুখী মানুষকে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]