• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট, শিং, চর্বি হাড়ে


হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট, শিং, চর্বি হাড়ে

আমাদের নতুন সময় : 18/08/2019

রমজান আলী : কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য হলো পশুর হাড়, প্রজনন অঙ্গ, শিং, অন্ডকোষ, নাড়িভুড়ি, মূত্রথলি, পাকস্থলী ও চর্বি। সাধারণত এসব ফেলেই দেয়া হয়। কিন্তু এ সকল উচ্ছিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করেই বছরে কোটি টাকা আয় করছেন কিছু মানুষ। রপ্তানি করা হচ্ছে চীন, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির পশুর বর্জ্য রপ্তানি করেই হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। তবে সে জন্যে দরকার সরকারের সহায়তা। তাদের দাবি, সাভার চামড়া শিল্প এলাকায় প্লট পেলে অপ্রচলিত পণ্যের তালিকায় শীর্ষ রপ্তানিকারক হতে পারবে বাংলাদেশ।
আরো জানান, হাড় ওষুধের ক্যাপসুলের কাভার, সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। সারা বছর ধরে বিভিন্ন বাজার থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হলেও, তা জমে ওঠে কুরবানির ঈদে। জানা গেছে, কারখানাগুলোয় প্রথমে হাড় শুকিয়ে গুঁড়ো করা হয়। হাড়ের গুঁড়ো ক্যাপসুলের আবরণ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। পাশাপাশি হাড় ও হাড়ের গুঁড়ো বিদেশে রপ্তানি করা হয়। গরু, মহিষ ও ছাগলের শিং ভারতে রপ্তানি হয়। শিং দিয়ে বিভিন্ন কারুপণ্য তৈরি করা হয়। সাবান তৈরিতে ব্যবহার হয় চর্বি। রক্ত শুকিয়ে পোল্ট্রি, পাখির খাবার তৈরি হয়।
এছাড়া মাথার হাড় মেলামাইন তৈরিসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়। পশুর শিং দিয়ে তৈরি হয় চিরুনি, বোতাম, এক্স-রে ফিল্ম, ক্যামেরার ফিল্ম, ঘর সাজানোর শো-পিস। পুরান ঢাকার হাজারীবাগের হাড্ডিপট্টিতে পশুর এসব বর্জ্য কেনার জন্য ৩০ থেকে ৪০টি ভাঙারির দোকান রয়েছে। সে দোকানে গরু-মহিষের হাড় ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনা চলে। প্রতিটি অন্ডকোষের রপ্তানিমূল্য ৪ থেকে ৬ ডলার।
স্থানীয় হাজারীবাগের আরিফ ব্রাদার্স নামে আড়তের মালিক শুকুর মিয়া বলেন, হাড় ওষুধ কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হবে। প্রতি টন ২৩ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। নিজেরই হাড় গুঁড়ো করার মেশিন আছে জানিয়ে শুকুর বলেন, দেশে প্রায় ১৫০টি ওষুধ কোম্পানি ও হারবাল প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৪০ কোটি ক্যাপসুল তৈরি করে। বেশ কিছু কোম্পানি গুঁড়া করা হাড় থেকে ক্যাপসুলের সেল তৈরি করে। এতে প্রতি মাসে টন টন পশুর হাড় প্রয়োজন হয়। জাপান, কোরিয়া, চীন, জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় খাদ্য সুসেড রুলসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পশুর অন্ডকোষ দিয়ে তৈরি হয়। চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েক জেলার ব্যবসায়ীরা অন্ডকোষ কিনে বিদেশে পাঠান। সারাদেশে পশুর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ৩০ থেকে ৩৫টির মতো কারখানা রয়েছে, যেখানে হাড় গুঁড়ো করা হয়।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বলেন, শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব বাজারে যাচ্ছে এসব অপ্রচলিত পণ্য। গরুর প্রজনন অঙ্গ অত্যন্ত দামি ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এক-একটি অঙ্গ ছয় থেকে সাত ডলারে বিক্রি হয়। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পশুর প্রজনন অঙ্গ। এছাড়া পশুর চর্বি চাহিদা দেশ ও দেশের বাহিরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে অনেক বার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করেছি। কিন্তু তারা এব্যাপারে তেমন কোন সাড়া দেয়নি। রপ্তানির জন্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]