• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের গণমাধ্যমের নিরবতা উচ্চকণ্ঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মুখে লাগাম


কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের গণমাধ্যমের নিরবতা উচ্চকণ্ঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মুখে লাগাম

আমাদের নতুন সময় : 19/08/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারত অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সারা বিশে^র গণমাধ্যমই কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে। কাশ্মীরে নানান বাঁধানিষেধ আরোপ এবং জনজীবন নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে বিশ^ গণমাধ্যম যতটা উদ্বিগ্ন, ভারতীয় গণমাধ্যম তার ছিঁটেফোটাও আগ্রহ দেখায়নি। কিছু গণমাধ্যম ছিলো নিশ্চুপ, বাকিদের অবস্থা ছিলো ধরি মাছ না ছুঁই পানি। এর প্রেক্ষিতে ভারতের গণমাধ্যমের ব্যাপক সমালোচনা করছে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো। সম্প্রতি বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধুতী রায় নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে ভারতীয় গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনন্ধুতীর ‘সাইল্যান্স ইজ দ্য লাউডেস্ট সাউন্ড’ বা নিরবতাই সবচেয়ে উচ্চ আওয়াজ নামের নিবন্ধটিতে কাশ্মীরের মানুষের দু:খবোধ,বন্দী দশা অসহায়ত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমের তথাকথিত ‘মুক্ত’ থাকার চিত্রও। নিজের লেখার চুস্বক অংশে অরুন্ধুতি রায় বলছেন, ভারতীয় গণমাধ্যম বিশে^র অন্যতম মুক্ত গণমাধ্যম, এই কথাটিও আজকাল আমাদের বিশ^াস করে নিতে হয়। আমরা বিশ^াস করিও, কারণ এই বিশ^াস আমাদের আশা যোগায়, স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু আমরা ভ্রম আর বাস্তবতার পার্থক্য ভুলে যেতে ভালোবাসি। আমরা গণমাধ্যম স্বাধীন এই কল্পনায় ডুবে থাকতে চাই। ভারতের গণমাধ্যম সরকারি প্রভাববলয় থেকে মুক্ত। কারণ ভারতীয় গণমাধ্যমকে শেকলে আবদ্ধের দরকার নেই। সে নিজেই পুঁজিবাদের শেকল পরে বসে আছে। আর বিশ^াস করুন, এই শেকল সবসময়ে শাসকের পক্ষেই কথা বলে। কারণ পুঁজিবাদই তো প্রকৃত শাষক। আমরা যাদের মসনদে দেখি, তারা তো ক্রীড়ানক।
কাশ্মীর উপত্যকা ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে যে বিভাজন রেখা টেনেছে, তা ভারত পাকিস্তানকে যতটা না রক্তাক্ত করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি রক্তাক্ত হয়েছে কাশ্মীরিদের হৃদয়। বিদেশী গণমাধ্যমগুলো কাশ্মীরে প্রবেশ করেই বলে দিচ্ছে কাশ্মীর আর যাই হোক স্বাভাবিক নয়। ভাত নামানোর আগে হাড়ির ভেতরে মাড় যেভাবে ফোটে, সেভাবেই ফুটছে আপেলের মতো টকটকে গালের কাশ্মীরি তরুণ-তরুণীদের অন্তর। কাশ্মীর কার? ভারতের না পাকিস্তানের? এই বিষয়ে মতের অভাব নেই। ভারতের গণমাধ্যম বলছে কাশ্মীর আমাদের, পাকিস্তানের অংশটুকু দখলীকৃত। পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে কাশ্মীর আমাদের, বাকিটা ভারতের দখলে। কিন্তু কেউ একবার মাথা উঁচু করে বলে না, কাশ্মীর কাশ্মীরিদের। কারণ গণমাধ্যম সততা দেখায় মালিকদের প্রতি পুঁজিপতিদের প্রতি, নিপীড়িত জনসাধারণের প্রতি নয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]