• প্রচ্ছদ » » ক্রেডিট কার্ডের ফাঁদ, ক্রেডিট কার্ডের থাবা!


ক্রেডিট কার্ডের ফাঁদ, ক্রেডিট কার্ডের থাবা!

আমাদের নতুন সময় : 19/08/2019

প্রকৌশলী নওশাদুল হক

স্যার, পেমেন্ট তো নিশ্চয়ই কার্ডে? না ক্যাশে। ক্রেতার এহেন উত্তরে মেগা শপের সেলসম্যান যেন আকাশ থেকে পড়লো। স্যার আপনার মতো ভদ্রলোক ক্যাশে পেমেন্ট। সেলসম্যানেরর ভাবখানা দেখো মনে হলো ভদ্রলোক যেন একটা আস্ত ক্ষেত। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ড না থাকাটা একটা বিশাল ডিসক্রেডিটের বিষয়। ডিসক্রেডিটের ফাঁদে ফেলে ক্রেতাদের ক্রেডিট কার্ডে আসক্ত করাটা সেলসম্যানদের দেয়া কর্তৃপক্ষের একটি বড়ধরনের প্রশিক্ষণ। কারণ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা করলে নগদের চেয়ে অনেক বেশিই ক্রয় করে মানুষ। নগদে পেমেন্ট করতে চাইলে এতোগুলো টাকা গুনে গুনে দেয়া। গোনার সময় ক্রেতা মনে মনে ভাবে এতগুলো টাকা খরচ করে ফেলছি। তার উপর একটু মায়াও লাগে বৈকি। আর ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলে তো আর এই মুহূর্তেই টাকা দিতে হচ্ছে না। শুধু কার্ডটি পুশ করা, ব্যাস। ঠেলা তো পরে।
আসলে ক্রেডিট কার্ড বিশ্বকে অধিক কনজিউমারিজমের একটি অভিনব কৌশল। যে কৌশলে বিক্রেতা এবং অর্থলগ্নিককারী প্রতিষ্ঠান দু’পক্ষই লাভবান। আর মরণ ফাঁদে পা দিচ্ছে শুধু কনজিউমার বা সাধারণ মানুষেরা। বিভিন্ন বাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তার পাবলিককে ভুলিয়ে ভালিয়ে এবং বিভিন্ন অফারের লোভ দেখিয়ে হাতে তুলে দেয় একটি চকচকে ক্রেডিট কার্ড। গোল্ডেন অথবা সিলভার কালারের যে কার্ড পেয়ে বেজায় খুশি কাস্টমারেরা। সঙ্গে অহংকার ও ভাবের উত্তাপ তো কিছুটা আছেই। কিন্তু অনেক মানুষেরই এ সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান নেই। অনেকের কাছেই এই ক্রেডিট কার্ডই একসময় হয়ে উঠে স্বপ্নের কার্ড। স্বপ্নের বলছি এ কারণে যে, ক্রেডিট কার্ডে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিটি আর ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। সারারাত স্বপ্নে ভাসতে থাকে। ভাসতে ভাসতে কখন যে সাগরের অথৈ গভীরে নিমজ্জিত হয় সে, তা আর টেরই পায় না। অনেকেই জানে না যে, এই কার্ডটির আচরণ অন্য একটি সাধারণ কার্ডের মতো নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ঋণের নাম। যে ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলেই শুরু হবে চক্রবৃদ্ধি শোধ। সঙ্গে জরিমানাসহ এই ফি ওই ফি আরও কতো কি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে দেখা যায় যে, দেশটিতে আত্মহত্যার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ অত্যধিক কনজিউমারিজমের প্রভাব ও ক্রেডিট কার্ডের অযাচিত ব্যবহার। কারণ ক্রেডিট কার্ডে খরচ করলে, মাস শেষে দেখা যায় ওই মাসের আয়ের চেয়ে অনেক বেশি খরচ করে ফেলেছে সে। কিন্তু পরিশোধ করবে কোত্থেকে? গেলো মাসে তার আয় তো আর বাড়েনি। লেখক : সভাপতি, ঢাবি সমাজকল্যাণ অ্যালামনাই ফোরাম




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]