• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কেরণতলী ঘাট


প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কেরণতলী ঘাট

আমাদের নতুন সময় : 19/08/2019

তাপসী রাবেয়া : রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মিয়ানমারের একটি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। আর ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি স¦াক্ষর করে মিয়ানমার- বাংলাদেশ। এ চুক্তি অনুযায়ী গতবছর ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার তারিখ নির্ধারণ করলেও শেষ সময়ে এসে বেঁকে বসে রোহিঙ্গারা। নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ, সংঘটিত হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কোনও প্রতিশ্রুতি না থাকা, নিজ গ্রামে ফিরে যেতে না দিয়ে বদ্ধ শিবিরে আটকে রাখার আশঙ্কা, নাগরিকত্ব না দেয়া ইত্যাদি কারণে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাননি উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা। এ কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি।
এদিকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাকের এক কর্মকর্তা জান্নাত ইলা জানিয়েছেন সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রত্যাবসন নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে। যেহেতু সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সবার কাছে অনিশ্চিত ।তিনি বলেন, নতুন করে অবশ্য প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা লোকজনকে বেশি বেশি যাওয়া আসা করতে দেখা যাচ্ছে শিবিরগুলোতে।ইউনিসেফের এক কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গতবছর তৈরি করা নাফ নদীর সীমান্তে অবস্থিত কেরণতলী ঘাটটিতে অবশ্য সংস্কারের কাজ চলছে। তবে কোনো সংস্থার কাছেই নিশ্চিত খবর নেই। অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মতো তারাও ফিসফাস শুনছেন। তবে এখনও জানেন না, কীভাবে কোন শর্তে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে চায় মিয়ানমার।
বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি)। এই কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, সরকার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। তবে ঠিক কোন সময় প্রত্যাবাসন শুরু হবে সে বিষয়টি তারাও নিশ্চিত নন।জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) আরআরআরসি-এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দেখভাল করছে। এজন্য দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে তাদের। তবে বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে টেকনাফ সীমান্তের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন টেকনাফ কেরণতলী প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। সেখানে তারা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করে এমন একটি দলকেও পর্যবেক্ষণ করতে দেখেছেন।প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বে থাকা প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শহীদুল হাসান জানান, এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখানে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কাজকর্ম চলছে।প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বরত ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, ‘ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকদিন ধরে কাজ চলছে। তাদের আমরা সহযোগিতা করছি। শুনেছি, কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে।এরপর পাশের নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া, এই রোহিঙ্গা শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ের পাশে ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায়’ নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তড়িঘড়িভাবে প্লাস্টিকের ছোট ছোট ঘর তৈরি করতে দেখা গেছে। শিবিরের বেশকয়েকজন রোহিঙ্গা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমরাও মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই তবে নাগরিত্বের নিশ্চয়তা দিতে হবে আগে। আর যে নির্যাতন করা হয়েছে তার বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দাবি দাওয়া না মেনে পাঠালে আগের পরিস্থিতিই তৈরি হবে বলেও আশংকা করছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টে কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া- টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া- টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে সেসময়েই উখিয়ার ঘুমধুমের প্রত্যাবাসন ঘাটের পাশাপাশি টেকনাফের নাফ নদী তীরের এই কেরণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাটটি নির্মাণ হয়েছিল। এর মধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি, ৩৩টি সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে ১৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]