• প্রচ্ছদ » » বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী


বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

আমাদের নতুন সময় : 19/08/2019

প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির নাম উচ্চারিত হলেই বঙ্গবন্ধু নামটি চলে আসে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৪ দিনে একটি দেশকে সে পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের আলোয় এক মহাকাব্য বলা যায়। জাতিসংঘের সদস্যপদসহ ওআইসি, আইএলও, ইউনেস্কো, ইউনিসেফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্যপদ অর্জন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ বঙ্গবন্ধুকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির মাত্র এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ২৫ বছর মেয়াদি মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন, যা ঐতিহাসিক ‘মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি’ নামে পরিচিত।
একটি রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল হচ্ছে সংবিধান। বঙ্গবন্ধু মাত্র এক বছরের মধ্যে সংবিধান প্রণয়নের ব্যবস্থা করেন। দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বন্দর ও পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেন। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ বিমান চলাচল সংস্থা, সড়ক, রেল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো গঠন করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক রচনা করেন। ক‚টনৈতিক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার এক বিরল দৃষ্টান্তের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে চীন ও সৌদি আরব ছাড়া বিশ্বের ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি আদায়। জাপান ঋণ সাহায্যের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু জাপান সফর করেন। এই সফরে যমুনা সেতু প্রকল্পে জাপানি সাহায্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও চুক্তি সম্পাদিত হয়। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর জাপান তার অঙ্গীকার থেকে সরে দাঁড়ায়। বঙ্গবন্ধুর দক্ষ ক‚টনৈতিক তৎপরতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ ও ড. কামাল হোসেনের রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো পুঁজিবাদী দেশগুলো বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাহায্য দিতে শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ঋণ চুক্তি সম্পাদিত হতে থাকে। সোভিয়েত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র-এ দুই বøকের বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন। চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি সত্য, তবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছিলো। যার কিছু দৃষ্টান্ত, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ অনুমোদিত হলে চীন শুধু ভোটদানে বিরত থাকে। অথচ ১৯৭২ সাল থেকেই ভেটো প্রয়োগ করে আসছিলো। ১৯৭৪ সালে ভয়াবহ বন্যায় চীনা রেড ক্রসের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে এবং বন্যার্তদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার সাহায্য দান করে। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের মে মাসে চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সময় থেমে থাকে না, চলছে চলবেই। দেখতে দেখতেই চলে গেছে স্বাধীনতার ৪৮ বছর। অনেক বাধা-বিপত্তি, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তার সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের মহাসড়কে। মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক‚টনৈতিক সাফল্য তথা সব ক্ষেত্রে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় আজ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। ২০২১ সালে উদযাপিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই শোকের মাসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং প্রত্যাশা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশ পৌঁছে যাবে মধ্যম আয়ের বিশ্বদরবারে, ২০৪১ সালে উন্নীত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]