• প্রচ্ছদ » » পল্লীবিদ্যুৎ : জনগণের ভোগান্তি দূর করার জন্য অনেক পরিবর্তন দরকার


পল্লীবিদ্যুৎ : জনগণের ভোগান্তি দূর করার জন্য অনেক পরিবর্তন দরকার

আমাদের নতুন সময় : 20/08/2019

মাহবুব কবির মিলন

পরিবর্তন দরকার অনেক। কমবে জনগণের ভোগান্তি। বাড়বে সংস্থার আয়। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ তারা জাতীয় গ্রিড থেকে পায়, তা দিয়েই এটা করা সম্ভব। শুধু দরকার সদিচ্ছা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা। গ্রামের একটি ফিডার সাধারণত ২/৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। যা শত শত ছোট ট্রান্সফরমার (ছবিতে) দ্বারা অসংখ্য সেকশনে বিভক্ত থাকে। একই লাইনে একটি ট্রান্সফরমার থেকে অন্য একটি ট্রান্সফরমারের মাঝের এলাকাকে একটি সেকশন বলা হয়। একটু বড় গ্রামে সাধারণত ১০/১৫ সর্বোচ্চ ট্রান্সফরমার লাগানো থাকে। আমার গ্রাম থেকে ৩৩/১১ কেভি উপজেলা সাবস্টেশনের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কি.মি.। এই ফিডারের সর্বশেষ দূরত্ব হতে পারে সাত কি.মি.।
এবার আসল সমস্যা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি। মনে করুন ফিডারের সাত কি.মি. দূরের সর্বশেষ সেকশনের ছলিমুদ্দিনের গাছের ডাল ভেঙে তারের উপর পড়ে আর্থ ফল্টে বিদ্যুৎ চলে গেলো। ডাল কেটে লাইন চালু করতে ২/৩ ঘণ্টা লাগবে। বিদ্যুৎ কর্মী আরও অনেক পরে এসে ফিডার শাট ডাউন নিয়ে (অফিসিয়ালি বিদ্যুৎ বন্ধের ব্যবস্থা) কাজ শুরু করে ৩ ঘণ্টা পর লাইন চালু করলো। লাইন বন্ধ থাকলো ৩ ঘণ্টা। এই ফিডারের ক্ষমতা ২.৫ মেগাওয়াট। এই ২.৫ মেগাওয়াট ৩ ঘণ্টা বন্ধের রেভিনিউ লস করলো পল্লী বিদ্যুৎ। অথচ বিদ্যুৎ কর্মী এসে কাজ শুরুর আগে দুই কদম এগিয়ে আগের ট্রান্সফরমারের ফিউজ কেটে/ নামিয়ে দিয়ে সেকশন আউট (ছবিতে তীর চিহ্নিত) করে ফিডার চালু করতে পারতো। তাহলে যেমন পুরো এলাকার বিদ্যুৎ চালু থাকতো, জনগণের ভোগান্তি কমে যেতো। অপরদিকে সংস্থার লস কম হতো, আয় বেড়ে যেতো। কয়েক বাড়ি এগিয়ে বা কিছু জমি পার হয়ে আগের ট্রান্সফরমারের ফিউজ কাটার কষ্ট তারা করতে নারাজ।
সামান্য কষ্টের জন্য পল্লী বিদ্যুতের সেকশন আউট করে ফিডার চালু রেখে মেইনটেনেন্স ওয়ার্ক করার রেকর্ড নেই বললেই চলে। যে কাজ আধা ঘণ্টায় চলে সেটা না হয় পুরো ফিডার বন্ধ রেখে করা যায়। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের এলাকা বড় হওয়ায় এবং গাছপালা বেশি থাকায় গাছপালা কাটা থেকে শুরু করে প্রায় সব মেইনটেনেন্স ওয়ার্কেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময় পুরো ফিডার বন্ধ রেখে কাজ করা হয়।
অভিযোগ কেন্দ্রে নাইট শিফট থাকা সত্তে¡ও কোথাও রাতে কাজ করা হয় না। রাত নয়টা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত মেইনটেনেন্স ওয়ার্ক থাকে বন্ধ। কোনো কারণে বা ত্রæটির কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে সারারাত বিদ্যুৎ চালু হবার সুযোগ নেই। বাড়লো জনগণের ভোগান্তি, বাড়লো পল্লী বিদ্যুতের রাজস্ব ক্ষতি। অথচ এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে হাজার গুণ ভালো এবং কর্মীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে। আগের চেয়ে শত শত কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ছে, কিন্তু লোকবল বাড়ানো হচ্ছে না।
গ্রিড থেকে দীর্ঘ ৩৩ কেভি পুরাতন সঞ্চালন লাইন, বিকল্প সার্কিটের অভাব, ওভারলোডেড সাবস্টেশন, বিতরণ বা ১১ কেভি লাইনের উপর প্রচুর গাছপালা ইত্যাদির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভেসে গেলেও গ্রামের জনগণের সে সুফল পেতে হলে দরকার বিশাল পরিবর্তন। বিদ্যুতের অভাব নেই, অথচ এসব কারণে গ্রামের জনগণের মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে সরাসরি সরকারের উপর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]