• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » মানহীন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের


মানহীন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

আমাদের নতুন সময় : 20/08/2019

আনিস তপন : যত্রতত্র, মানহীন ও অননুমোদিত প্রতিবন্ধীদের বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিধান রেখে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যতীত প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, এখানে দুটি নীতিমালা, প্রচলিত যে নীতিমালাগুলো রয়েছে শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে এ নীতিমালাটি করা হয়েছে।
নীতিমালার আওতায় প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা স্কুল করা হবে কিনা? জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মূলধারার সাথে সমন্বয় করে করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়, যেমন- নরমাল স্কুলে যদি প্রতিবন্ধীরা পড়ে তাহলে তাদের ডেভেলপমেন্টটা ভালো হয়। তবে একান্তই যেগুলো যতেœর প্রয়োজন সেটার জন্য আলাদাভাবে সময় দেয়া লাগে। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র, মানহীন ও অননুমোদিতভাবে বিশেষ বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা বাড়ায় সরকার একটি অনুশাসন দিয়ে বলেছিল আপনারা এ জাতীয় স্কুল করবেন না। কিন্তু সরকারি এই অনুশাসন না মানার কারণেই এই নীতিমালাটা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য এখন যেনো- তেনোভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারবে না।
এ নীতিমালায় মোটামুটিভাবে একটি স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে শফিউল আলম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শর্ত কী হবে, বেতন স্কেল কী হবে? এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে হলে এ সংক্রান্ত কমিটির অনুমতি নিতে হবে।
অপর প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য নীতিমালা। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ কমিটির প্রধান হবেন জেলা প্রশাসক। এগুলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রোপার্টি। তবে কারিকুলাম ফলো করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
এতে ব্যবস্থাপনা কমিটির কথা বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে স্থাপিত বিদ্যালয়ের জন্য জেলা প্রশাসক বা প্রতিনিধি নিয়ে ১৩ জনের একটা কমিটি আর উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়ে একইভাবে ১৩ জনের একটা প্রতিনিধি। এছাড়া সেনা এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কর্ণেল বা সমমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা, সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ১৩ জনের কমিটি। এই বেসরকারি খাতের জন্য করা হয়েছে তাও বলেন সচিব। তিনি বলেন, নীতিমালায় কতগুলো গাইডলাইন দেয়া আছে। যেমন, কেউ পেশাগত অসদাচরণ করলে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শাস্তির প্রয়োগের জন্য আপিলের বিধান রাখা হয়েছে। বেতন-ভাতা তথা এমপিও বন্ধ করে দেয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে এ ধরনের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতে যদি এ নীতিমালার ব্যত্যয় না হয় তাহলে সেগুলো কন্টিনিউ করবে।
পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এছাড়া ন্যূনতম ৭৫ জন শিক্ষার্থী থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হবে। অটিস্টিকদের জন্য টেককেয়ার বেশি করা লাগে, তাই শিক্ষকও বেশি নিয়োগ দিতে হবে। তবে নিয়ম-কানুন মেনে এ ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে মাস্টার্স পর্যন্ত করা যাবে বলেও জানান তিনি।
একই দিন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুমোদন দিয়ে চাঁদপুরে এ ধরণের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষ্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সম্পাদনা : কাজী নুসরাত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]