গ্রেনেড হামলার ১৫ বছরেও কোনো সহায়তা পাননি পাগলা রাজ্জাকরা

আমাদের নতুন সময় : 21/08/2019

ইউসুফ বাচ্চু : ছিন্নমূল মানুষ আব্দুর রাজ্জাক থাকেন গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। রাত দিন নেতাদের ফরমায়েশ খাটেন। অনেকে পাগলা রাজ্জাক বলেও ডাকেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ভালোবাসাই তার শক্তি। ২০০৪ সালে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহত রাজ্জাক। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি তিনি।
গত সোমবার রাতে এক দীর্ঘস্বাস ছেড়ে বলেন, ভাইজান গরীবের কথা লিখে আর কি হবে আমাদের তো কোনো নেতা নেই, সুপারিশ করার মানুষ নেই, এজন্য আপা (শেখ হাসিনা) আমাদের চেনেন না। যারা ওইদিন গুলিস্থান ছিলো না তারাও ভাতা পায় শুনছি।
গ্রেনেড হামলার সময় মনে করে রাজ্জাক কেঁদে ফেলেন আর বলেন, ওই সময় আমাদের ওপর এতো অত্যাচার হয়েছে, টিয়ার গ্যাস আর গুলি ছোঁড়া হয়েছে। আমরা শুধু আতঙ্কিত ছিলাম শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন কিনা ! চারদিকে শুধু লাশের পাহাড়। কেউ ডাকছে মাকে, বাবাকে কেউবা আবার আল্লাহ আল্লাহ করছে। কেউ চিৎকার করছে পানির জন্য। পর পর কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর চলতে থাকে গুলি, টিয়ার সেল। যখন হামলাকারীরা নিশ্চিত করতে পেরেছে শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন তখন তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই গুলি মাহবুবের গায় লাগে। ট্রাকের নিচে যে গ্রেনেটি পড়েছিলো সেটি বিষ্ফোরিত হলে ওই দিন আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো।
বিস্ফোরণের সময় কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে রাজ্জাক বলেন, ওই আমি মাটিতে পড়ে যাই এরপর উঠে দাঁড়াতে পারিনি। আমার শরীরের ওপর থেকে কয়েকশো মানুষ দৌঁড়ে যায় এবং আমি জ্ঞান হারাই ।জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি ঢাকা মেডিকেলের বেডে। কিন্তু কোনো চিকিৎসা খরচ বা কোনো অনুদান পাইনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে একবার তালিকা হয়েছিলো আমাদের অনেকের ছবি নিয়েছে আর কোনো খবর নেই। তবে আর কিছু পাই বা না পাই শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন এটাই আমার পরম পাওয়া।
চায়ের দোকানী শেখ রুহুল আমিন বাড়ি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলায়। চা বিক্রি করেন প্রায় ৩০ বছর এই বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। তিনি বলেন, সেই দিনের মতো ভয়াবহতা আমার জীবনে আর দেখিনি। মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু ওইদিনের যুদ্ধ দেখেছি। ধান যেভাবে এক সঙ্গে স্তুূপ করে রাখে তেমনি ভাবে মানুষের লাশ পড়ে ছিলো। এখন বেঁচে আছি আল্লাহর দয়ায়। চারদিকে শুধু চিৎকার তার মধ্যে গুলি, টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ সে-কী অবস্থা বলে শেষ করতে পারবো না।
সরকারি আর্থিক সুধিা প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, নেতারা যখর তালিকা করছে তখন তাদের নিজেদের মতো করেছে, আমাদের নাম আর আসেনি।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা হয়। এর পর শুনছি যারা আহত তাদের পুলিশ খুঁজছে তখন পালিয়ে এলাকায় চলে যাই।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ২১ আগষ্ট বাংলাদেশ আহত, নিহত পরিবারের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম বলেন, ওইদিন আমি মঞ্চের সামনেই ছিলাম বক্তব্য প্রায় শেষ তখন জিল্লুর রহমান চাচা বললেন, পানি খাবেন তখন আমি পানি আনতে যাবো ঠিক এই সময় বিস্ফোরণ ঘটে; তখন আমি দেখছি আইভি চাচী হেলে পড়েছেন। আমি দৌঁড়ে তার কাছে যাই, এর মধ্যে আবার বিস্ফোরণ তখন আমার পেটের নাড়ীভুড়ি বের হয়ে যায়, আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এর পরে আর কিছু বলতে পারবো না। কে বা কারা আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেছে বলতে পারবো না। মেডিকেলে নিয়ে আমাকে লাশের সারিতে রাখেন তখন কেউ হয় তো আমার পায়ে পাড়া দেয় তখন আমার জ্ঞান ফেরে, সঙ্গে সঙ্গে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা দেয়। আমার অবস্থা যখন খুব খারাপ তখন আপা (শেখ হাসিনা) খবর পেয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠান। সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এখন পর্যন্ত ২১৫ জনকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেন। পুনর্বাসনের জন্য ৩৭ ফ্ল্যাট দিয়েছেন।
কিছু ছিন্নমূল মানুষ আহত কিন্তু এখনো যারা কোনো সহয়তা পায়নি তাদের ব্যপারে কি করছেন , জানতে চাইলে নাজমুল হক নাজিম বলেন, আমার জানামতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৩১১ জনের তালিকা আছে এছাড়াও অনেকে ভয়ে তখন আসতে পারেনি তারা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জানের নাম আছে। হয়তো তারা পর্যায়ক্রমে অনুদান পাবে, তবে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
এ বিষয় ২১ আগষ্ঠ হামলায় আহত ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ট্রাকের ওপরে মঞ্চ করা হয় তার সামনেই ছিলাম সমাবেশ প্রায় শেষ তখনই বিস্ফোরণ ঘটে এর আগেই ব্যানার গুছিয়ে আমি বাটার দিকে যাই। পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে তখন আমার শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখি সারা শরীরর থেকে রক্ত ঝরছে। অন্যদিকে পুরো এলাকায় লাশের ¯ূ‘প ৩ ফুট উঁচু হয়ে আছে। আমার তখনো জ্ঞান ছিলো, দেখলাম লালবাগের কিছু মহিলা তারা প্রায়ই গরীব, রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে আর আহাজারি করছে বাচাঁও বাচাঁও ! আবার কেউ বাবা, মা, বলে চিৎকার করছে। কোনো গাড়ি ছিলো না, এক মহিলা একটি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন তাকে অনুরোধ করলে তিনি আমাদের ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যান। এখনো এই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি ২ মাস ভালো তো ৩ মাস অসুস্থ। শরীরে অগনিত স্লিন্টার নিয়ে জীবন চলছে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]