মমতা ব্যানার্জীর পুলিশ! অনিন্দ্র মাঝি, কলকাতা

আমাদের নতুন সময় : 21/08/2019

পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীতে পার্শ্বশিক্ষকদের অনশনে পরিকল্পিতভাবে লাইট নিভিয়ে লাঠি চার্জ করে মমতার পুলিশ। মহিলাদের ওপরেও চলে পুরুষ পুলিশের অবাধ হামলা। মহিলাদের সাথে শিশুসহ

সাংবাদিকরাও আক্রান্ত।

একজন সাংবাদিককে নির্লজ্জের মতো বলতে শোনা গেছে, আমাদের মারছেন কেন? আমরা তো সাংবাদিক। মানে, সাংবাদিক তো সরকারেরই, তাই তাদের মারবেন না, শিক্ষকদের মারুন, কারণ, পার্শ্বশিক্ষকদের মারা যায়।

এ কথার অর্থ পার্শ্বশিক্ষকরা বোধহয় পশ্চিবঙ্গে এ-মুহূর্তে আর মানুষের পর্যায়ে পড়েন না! প্রকারভেদে সাত হাজার আর ন’হাজারের চাকরি করতে করতে মনুষ্যত্ব আর বিবেক খুইয়ে শুধু পেট চালানোর তাগিদে কাজ করে যাচ্ছেন পাশ্বশিক্ষকরা। তাই তাদের না আছে আন্দোলন করার অধিকার, না আছে বেঁচে থাকার অধিকার। আর তাই, ওপর মহলের নির্দেশে পুলিশ নিরস্ত্র সাধারণ পার্শ্বশিক্ষকদের গরুছাগলের মতো পেটাবে এ-আর আশ্চর্য কী?

স্বৈরাচার আর স্বেচ্ছাচারিতার শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে মমতা ব্যানার্জী আর তাঁর ভাইপোরা। তারাই আজ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনগণের জনাদেশের দ-মু-ের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। নির্লজ্জ স্বজনপোষণ আর অপশাসনের দিকে যাতে আঙুল না ওঠে, তার জন্য নিজের হাতে থাকা প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার আমরা দেখে আসছি কয়েক বছর ধরে। মমতার এর নিজস্ব গুপ্তচর বিভাগ পাঁচহাজার/ সাতহাজার টাকার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বদান্যতায় এমনিতেই সাধারণ মানুষের হাঁড়ির খবর থানায় চলে যায়। ছাগলের পাঁচ নম্বর বাচ্চা পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি-দাওয়াজনিত আন্দোলনের খবর যাবে, তাতে আর আশ্চর্য কী? সুতরাং পার্শ্বশিক্ষকরা মার খান, সর্বসমক্ষে তাঁদের ব্লাউজ ফেটে যাক, ছিঁড়ে যাক, মাথা ফেটে রক্ত ঝরুক, মমতার কিচ্ছু এসে যায় না।

এটা অনস্বীকার্য, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসন তৃণমূলের লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডাতে পরিণত হয়েছে। আর এটা হওয়ার কারণ, ভয়। মমতা ব্যানার্জী খুব ভালোভাবেই আগামীর দেয়াললিখন পড়তে পারছেন, দেখতে পাচ্ছেন  তাঁর  ভবিষ্যৎ। তিনি ধরেই নিয়েছেন আগামী নির্বাচনে তাঁর দল ফিনিশ। আর ঠিক সেকারণে তিনি একটা শেষ খেলা খেলে নিতে চান। আর এটা করতে গিয়ে তিনি একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। সর্বত্র ধিক্কার চলছে এই তৃণমূল সরকার ও পুলিশপ্রশাসনের অপশাসনের বিরুদ্ধে।

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]