• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » দিনভর অনলাইনে এমপিও’র তালিকা খুঁজলেন শিক্ষকরা, সচিব বললেন যেকোনো সময় জিও


দিনভর অনলাইনে এমপিও’র তালিকা খুঁজলেন শিক্ষকরা, সচিব বললেন যেকোনো সময় জিও

আমাদের নতুন সময় : 22/08/2019

অভিজিৎ ভট্টাচার্য : শ্রীমঙ্গলের উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কলেজের শিক্ষক দিনভর কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন। তিনি কিছুক্ষণ পরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট খুলে কম্পিউটার রিফ্রেশ করছেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত বিষয়টি পাচ্ছেন না।
খুলনার একটি স্কুলের শিক্ষক মঙ্গলবার তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছেন। দিনভর কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেট ঘেঁটেছেন। সন্ধ্যায়ও যখন বিষয়টি খুঁজে পাননি তখন ‘মনখারাপ’ করে ঘরের কোণে বসে হা-হুতাশ করেছেন।
এই দুই শিক্ষকই তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে কি না তা দেখার জন্য কম্পিউটার ও মোবাইলের ইন্টারনেটে এই খোঁজাখুঁজি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দুই শিক্ষকই এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা ছিলো। কিন্তু সন্ধা পর্যন্ত আদেশ জারি হয়নি।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেছেন, মঙ্গলবার এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করা সম্ভব হয়নি। তবে যেকোনো সময় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জিও (আদেশ) জারি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তিন শর্তে অস্থায়ীভাবে এমপিওভুক্ত হচ্ছে এক হাজার ৭৬৩ স্কুল ও কলেজ। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির নথিতে তাঁর সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
সূত্র জানায়, এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধরন অনুসারে আলাদা আলাদা পরিপত্র জারি করা হবে। অতীতের উদাহরণ দিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, একটি পরিপত্রে সব প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে পরিপত্র জারি করলে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান এমপিও না পেয়ে মামলা করলে পুরো তালিকার সব প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই এবার নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা পরিপত্র জারি করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, এবার শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে বেসরকারি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। প্রাথমিকভাবে আগামী তিন বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে করা হচ্ছে তা। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি স্থগিত হয়ে যাবে। শর্তগুলো হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিকে পাবলিক পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর কমপক্ষে ৭০ শতাংশ পাস করতে হবে। ব্যর্থতায় ওই বছরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি স্থগিত হয়ে যাবে। তবে ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে পারলে ফের তা চালু হবে। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে একটি ক্লাসরুমকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হিসেবে তৈরি করতে হবে, বিজ্ঞানাগার ভালো মানের হতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আরেকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষকদের মধ্যে পাঠদানের ব্যাপারে এক ধরনের গাছাড়া ভাব চলে আসে। সে কারণে এবার শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্তি দেয়া হচ্ছে। এখন থেকে প্রতি বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটর করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সরকার এক হাজার ৬১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করেছিল। এর প্রায় ৯ বছর পর সরকার নতুন করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। এরফলে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ‘খবর’ নেয়ার উৎসাহ রয়েছে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]