নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার না পেলে স্বদেশে ফিরতে চান না রোহিঙ্গারা

আমাদের নতুন সময় : 22/08/2019

ফরহাদ আমিন : নাগরিকত্ব ও সম-অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে যাবে না। ফেলে আসা ধন-সম্পদ, ভিটি-বাড়ি ফেরত ও জীবনের সুরক্ষার নিশ্চিয়তা ফেলে তখন স্বদেশে ফিরে যাওয়ার নিয়ে চিন্তা করা হবে। এরআগে আমাদের জোর করে কেহ মিয়ানমারে নিয়ে যেতে পারবে না। প্রয়োজনে(বাংলাদেশে) গুলি করে আমাদের হত্যা করেন, তাতে আমরা খুশি। এতে করে আমাদের মৃতদেহ ন্যূনতম জানাজা ও কবরের একটি নিদিষ্ট স্থান পাবে। নাগরিকত্ব ও সম-অধিকার নিশ্চিত হলে আমরা যে পথ দিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিলাম সেটি দিয়ে ফেরতে ঢল নামবে।

মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণাথী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারীর কার্যালয়ে স্থাপতি ‘তালিকায় নাম থাকা’ রোহিঙ্গারা স্বাক্ষাতকার দিতে এসে দ্বিতীয় দিন বুধবার দুপুরে এসব কথা বললেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী গৃহবুধ জামিলা আক্তার, মোঃ সেলিম,আফাজ উল্লাহ, শামশু আলম, আবু ছিদ্দিক, কবির, আবু তাহের ও মোহাম্মদ সেলিমসহ অনন্ত ১৫-২০জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা হয়।

এ বিষয়ে শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারি মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, এ শিবিরে ৪২হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। প্রত্যাবাসন প্রত্যাশীয় ৩ হাজার ৫৪০ জনের মধ্যে এ শিবির থেকে ৩হাজার ৯১ জনের নামের একটি তালিকা কাছে এসেছে। তালিকায় এসব রোহিঙ্গাদের নাম রয়েছে তাদের স্বাক্ষাতকার নেওয়ার কাজ চলছে। এই পর্যন্ত রোহিঙ্গা ২০০পরিবারের কাছ থেকে সাক্ষাৎ নেওয়া হয়েছে।

টেকনাফে হ্নীলার জাদিমোরা শালবাগান শিবিরের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারি মোহাম্মদ খালেদ হোসেনের কার্যালয় থেকে জাতিসংঘের শরণাথী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনারের ১০টি দল শালবাগানের বিভিন্ন ব্লকের ঘরে প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের গিয়ে বুঝানোর চেষ্টা চালায়। সকাল থেকে তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গারা স্বাক্ষাতকার দেওয়ার জন্য হাতে একটি ফাইল নিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ের পাশে স্থাপতি কক্ষে ঢুকে স্বাক্ষাতকার দেন। সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে আসার পর রশিদ আমিন নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আমরা বর্তমান অবস্থায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই না। মিয়ানমারে আমাদের ওপর নির্যাতনের বিচার করতে হবে, আমাদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে, আমাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। এরপরই আমরা সেখানে ফেরত যাবো। এই কথাই আমরা সাক্ষাৎকারে বলেছি।

সাক্ষাৎকার দিতে আসা আফাজ উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ফেরত যাবো না। কারণ মিয়ানমার সরকারকে কোনোভাবে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

স্বাক্ষাতকার শেষে রোহিঙ্গা নারী রশিদা বেগম ও আবু তাহের বলেন, দলটি প্রথমেই জিঞ্জাসা করলেন, মিয়ানমার ফেরত যাবে কি না। আমরা সরাসরি না বলেছি। কারণ, আমাদের আগে নাগরিকত্ব ও সম-অধিকার ফেলে ফিরে যাব। এর সঙ্গে ধন-সম্পদ, ভিটি-বাড়ি ফেরত ও জীবনের সুরক্ষার নিশ্চিয়তা দিতে হবে। এরপর স্বদেশে ফিরে যাব যাওয়া হবে। তারা আরও বললেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার মত পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। সেখানে এখনও রোহিঙ্গাদের উপর নিযাতন চলছে।

এ প্রসঙ্গে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রত্যাবাসন স্থলপথে করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে মিয়ানমারকে। প্রতিদিন তিনশ করে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানো হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]