ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ‘দায়হীন’ শত শত মৃত্যুর হিসেব চান কাশ্মীরি পরিবারগুলো

আমাদের নতুন সময় : 22/08/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কারফিউ শিথিল করার পর থেকে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আরো জোরদার হয়েছে। এই ধরণের বিক্ষোভে আহত অনেকেই পরে মারাও যাচ্ছেন বলে একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল। তবে এই মৃত্যুগুলো সরাসরি সংঘর্ষে ঘটছে না বলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এবার এই বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন মৃতদের স্বজনেরা। তারা এসব মৃত্যুর হিসেব ও   জবাবদিহিতা চান। ডেইলি মেইল, এএফপি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাড়ির জানালা দিয়ে প্রবেশ করা টিয়ার সেলে ধোয়ায় দম আটকে মারা যার রফিক সাগুর স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করছেন, তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বলছে তাদের গুলিতে যেহেতু এই নারী মারা যাননি দায় তাদের নয়। এটি শ^াস আটকে স্বাভাবিক মৃত্যু। সাগু এই বিষয়ে বলেন, ‘পুলিশ কোনোভাবেই এই মৃত্যুর দায় নিতে রাজি নয়। আমরা উত্তর চাই, কিন্তু আমরা এটিই জানিনা, কোথায় এর সুবিচার পাবো।’ এএফপিকে এব স্বাক্ষাৎকারে রফিক সাগু বলেন, গত ৯ আগস্ট বিকেলে তার স্ত্রী ফাহমিদা সন্তানদের পড়াচ্ছিলেন। শ্রীনগরের বাড়ির বাইরে তাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না। সাগু জানান, তার বাড়ির বাইরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ছোটোখাট সংঘাত হচ্ছিলো। এসময় পুলিশ বিনা নোটিসেই আবাসিক ভবনগুলোর জানালা লক্ষ্য করে টিয়ার ও মরিচের শেল ছুড়তে শুরু করে।

সাগু বলেন, ‘ধাঁয়া এতোই ঘন ছিলো, আমরা একে অপরকে দেখতে পাচ্ছিলাম। ঘরে ৩টি ক্যানিস্টার ফাটার প্রচ- আওয়াজ আমার কানে আসে। আমরা কোনোভাবে বাচ্চাদের ঘর থেকে বের করে আনি। কিন্তু আমার স্ত্রী চেষ্টা করেও বের হতে পারেনি। আমরা ঘরে গিয়ে তাকে বেহুশ অবস্থায় পাই।’ তিনি জানান, ফাহমিদাকে একটি মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এএফপির দেখা ডেথ সার্টিফিকেট বলছে, ফাহমিদা টিয়ার শেল থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গ্রহণ করেছিলেন। ফুসফুসের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়।’

কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর থেকে উপত্যকার কোনো খবর বাইরে যেতে দিচ্ছেনা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ছাড়াও তারা টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করেছে। অবশ্য কিছু স্থানে পরে ল্যান্ডলাইন আবারও সচল হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এখন পর্যন্ত কাশ্মীরে কেউ মারা যায়নি। ৮ জন সামান্য আহত হয়েছে। কিন্তু শুধু একটি হাসপাতাল সূত্রেই এএফপি জেনেছে, তারা শতাধিক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছে। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলো আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত। তবে এএফপি বলছে আহতদের ১০ শতাংশও হাসপাতালে যাননি। কারণ তাদের শঙ্কা হাসপাতালেই গেলেই তারা গ্রেফতার হবেন।

আর মৃত্যুর সংখ্যা অগণিত। নথিহীন এসব মৃত্যুর দায় নিতে নারাজ ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা। যেমন ডাল লেকে ডুবে মারা গেছে ১৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ উসমান। পুলিশ বলছে, পানিতে ডুবে কারো মৃত্যুর দায় তারা কেনো নেবে! তবে তারা এটি বলছে না, বাজার করে ফিরে আসার সময় অকারণে সিআরপিএফ উসমানকে তাড়া করলে সে ডাল লেকে পড়ে যায়। এরপর সে আর উঠতে পারেনি। একই ভাবে ঝিলম নদীতে পরে মারা গেছে ১৩ বছর বয়সী উসাইব আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে পুলিশ। ৬২ বছর বয়সী কাঠ ব্যবসায়ী আইয়ুব খান বাড়ির সামনে বসে ছিলেন। এসময় পুলিশ বিনা কারণে টিয়ার গ্যাস মারতে শুরু করলে তিনিও দম আটকে মারা যান। এরকম মৃত্যুর ঘটনা আরো আছে। স্থানীয়রা বলছেন, দুই সপ্তাহে শুধু শ্রীনগরেই কয়েক ডজন মানুষ এভাবে মারা গেছেন। আর পুরো উপত্যকায় সংখ্যাটি কয়েকশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]