মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করে বিবৃতি ৬১টি এনজিওর

আমাদের নতুন সময় : 22/08/2019

মতিনুজ্জামান মিটু : মিয়ানমার ও বাংলাদেশে কর্মরত এসব স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আশঙ্কার কথা জানায়। শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দুই বছরেও ন্যায় বিচার পায়নি মিয়ানমারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা শরণার্থী হিসেবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সুরক্ষা ও মর্যাদার জন্য। অন্যদিকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ক সাম্প্রতিক খবরে শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আতংকিত। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত তাই ভবিষ্যত ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সুরক্ষিত হয় না বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

রাখাইন রাজ্যে অবস্থানকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সেখানে সংঘাত বেড়েই চলেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ৩৪৫০ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাৎক্ষণিক প্রত্যাবাসনের সংবাদ প্রকাশ হয়। অথচ রাখাইন রাজ্যে এখনও রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে কোন অর্থপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বাস্তুচ্যুত কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনার পরিসর খুবই সীমিত।
বৈষম্যমূলক নীতির কারণে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের পাশাপাশি পড়াশোনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার অধিকারের ক্ষেত্রে আরও সীমিত করে দেয়া হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে প্রায় ১,২৮,০০০ রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় রাখাইন রাজ্যের শিবিরে আটকা পড়ে আছে, ফিরতে পারছে না নিজ বাড়িতে। অন্যদিকে সীমিত করে দেয়া হয়েছে মানবাধিকার সংস্থাদের প্রবেশাধিকার।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সব সম্প্রদায় যাতে নিরাপদে থাকতে পারে এবং প্রাথমিক পরিষেবা ও জীবিকার সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে তা মিয়ানমার সরকারের নিশ্চিত করা উচিত। বর্তমান সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে কর্মরত এই ৬১টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের সহায়তা এবং অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
গত দুবছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম এ শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে সহায়তা করে আসছে এই স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]