• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে হাইকোর্টের ৭ দফা নির্দেশনা


শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে হাইকোর্টের ৭ দফা নির্দেশনা

আমাদের নতুন সময় : 22/08/2019

নূর মোহাম্মদ : শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বর্তমানে এক ধরনের বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাই ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পুরান ঢাকার মো. ওসমান হত্যা মামলায় আসামি শিশু হৃদয়ের জামিন আবেদন সংক্রান্ত রায়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আদালত হৃদয়ের জামিনও মঞ্জুর করেন।
রায়ে বলা হয়, শিশু আইনে সাংঘর্ষিক অবস্থা, বিদ্যমান অসংগতি, অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আদালত আশা প্রকাশ করেন। আর সরকার শিশু আইন সংশোধন অথবা শিশু আইন ২০১৩-এর ধারা ৯৭-এর বিধান মূলে গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অস্পষ্টতা ও অসংগতি দূর করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে।

৭ দফা নির্দেশনা হলো- সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকী করবেন এবং এ সংক্রান্ত নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় আদেশ এবং নির্দেশনা প্রদান করবেন। রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ শিশু আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (ভিকটিম এবং সাক্ষী) বা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর জবানবন্দী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। তদন্ত চলাকালীন সময়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে মামলার ধার্য তারিখে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা হতে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।

নির্দেশনায় বলা হয়, তদন্ত চলাকালে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর রিমান্ড, জামিন, বয়স নির্ধারণসহ অন্তবর্তী যেকোন বিষয় শিশু আদালত নিষ্পত্তি করবে এবং এ সংক্রান্ত যেকোন আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট নথিসহ ওই দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে প্রেরণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিশু আদালত ওই বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। অপরাধ আমলে গ্রহণের পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের অধীনে কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ‘শিশু আদালত’ হিসেবে আদেশ প্রদান করবে এবং এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ বিচারক শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে কার্য পরিচালনা এবং শিশু আদালতের নাম ও সিল ব্যবহার করবেন।

আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো এই যে, আইন মন্দ বা কঠোর হলেও তা অনুসরণ করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সংশোধন বা বাতিল না হয়। সে কারণে নালিশী মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক বিশেষ আইনসমূহের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের বিধান ও অত্র রায়ের পর্যবেক্ষণের আলোকে অভিযোগ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণের পরে অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কাগজাদি (নথি) সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রেরণ করবে। অত:পর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান এবং অপরাধ আমলে গ্রহণ করলে পরবর্তীতে কাগজাদি বিচারের জন্য শিশু আদালতে প্রেরণ করবেন। এছাড়া শিশু আইনের প্রাধান্যতার কারণে বিশেষ আইনসমূহের অধীনে জি.আর মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের জন্য পৃথক পুলিশ রিপোর্ট দেয়ার বিধান থাকায় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন বলে নির্দেশনা দেয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইনের ১৫ক নম্বর ধারা, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৭ নম্বর ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ২৭ নম্বর ধারা এবং ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৮ নম্বর ধারাসহ বিভিন্ন বিশেষ আইনের সঙ্গে শুধু অসংগতিপূর্ণ নয়, সাংঘর্ষিকও বটে।
আদালত রায়ে বলেছেন, শিশু আইন-২০১৩ প্রনয়নের মূল লক্ষ্যই ছিল শিশু (আসামি, ভিকটিম ও সাক্ষী)-দের সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণ করা। আদালতে শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্ত এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, দেশের শিশু আদালতসমূহে এখন পর্যন্ত শিশু বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে শিশু আদালতের বাহিরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহে এই মূহূর্তে শিশু বান্ধব পরিবেশ তৈরী করা নিঃসন্দেহে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর শিশু আইনের অধীনে কোনো আদেশ প্রদানকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম, সিল ও পদবী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বিচার পূর্বকালীন সময়ে বিভিন্ন আদেশ প্রদানকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এর নাম, সিল ব্যবহার করায় উচ্চ আদালতে আসার ক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। সম্পাদনা : ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]