• প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » মোজাফফর আহমদ স্বাধীনতা পদক নেননি, বদরুদ্দীন উমর বললেন পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তিনি জাঁপল সার্তের মতো দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন


মোজাফফর আহমদ স্বাধীনতা পদক নেননি, বদরুদ্দীন উমর বললেন পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তিনি জাঁপল সার্তের মতো দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন

আমাদের নতুন সময় : 25/08/2019


দেবদুলাল মুন্না : বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত অন্যতম বেসামরিক সম্মাননা পদক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ এই পদক প্রদান করা হয়ে থাকে। এই পুরস্কার জাতীয় জীবনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের নাগরিক এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে প্রদান করা হয়ে থাকে। স্বাধীনতা পদকের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। তবে এ ব্যাপারে সকলের চেয়ে আলাদা ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির(ন্যাপ) একাংশের সভাপতি সদ্যপ্রয়াত রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৫’ সবিনয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব নিতেও অস্বীকার করেছিলেন। স্বাধীনতা পদক না নেওয়ার ব্যাপারে সেসময় তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতির অর্থ দেশসেবা, মানুষের সেবা। পদ বা পদবীর জন্য কখনও রাজনীতি করিনি। শেখ মুজিব আমাকে অনেক কিছু বানানোর চেষ্টা করেছিলেন, আমি হইনি। আমি মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা ভাসানীর অনুসারী। পদক দিলে বা নিলেই সম্মানিত হয়, এ দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বিশ্বাসী নই। দেশপ্রেম ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি, কোনো পদক বা পদবি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রাপ্তির আশায় করেনি।আমিও করিনি।তাই এ মনিহার আমার নাহি সাজে।’ ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য অধ্যাপক মোজাফফরসহ আটজনের নাম ঘোষণা করে সরকার। সেসময় ন্যাপ সভাপতি এ সম্মাননা নেবেন না, তা আগেই দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হলে বাকি সাতজনের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে অধ্যাপক মোজাফফরের ‘অনাগ্রহের’ কারণে শেষ পর্যন্ত তার নাম তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পরিচিতিমূলক কোনো বইয়ে তার নাম রাখা হয়নি। বাম রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবি বদরুদ্দীন উমর গতকাল বলেন, ‘মোজাফফর আহমদ যে স্বাধীনতা পদক প্রত্যাখান করলেন এর মধ্য দিয়ে তিনি দার্শনিক জাঁপল সার্তের মতো একটি দৃষ্টান্ত বাংলায় স্থাপন করলেন। জাঁপল সার্তে নোবেল পুরস্কার বর্জন করেছিলেন। মোজাফফর স্বাধীনতা পুরস্কার বর্জন করলেন। এই বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন তিনি নির্লোভী ও তথাকথিত প্রতিষ্ঠানবিরোধীও। সরকারও তার মতো মানুষকে এতো দেরিতে পদক দিতে গেল যে তাদের হর্তাকর্তাদের চিন্তার দেওলিয়ানাপনাই প্রকাশ পেলো।’ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]