• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » রোহিঙ্গা ঢলের ২ বছর, হুমকিতে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ, বিড়ম্বনা ও বঞ্চনার শিকার স্থানীয়রা


রোহিঙ্গা ঢলের ২ বছর, হুমকিতে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ, বিড়ম্বনা ও বঞ্চনার শিকার স্থানীয়রা

আমাদের নতুন সময় : 25/08/2019

শ.ম.গফুর : ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নের শিকার হয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বাসিন্দারাই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। মানবতার খাতিরে যতটুকু সম্বল ছিল তা দিয়েই অসহায় রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়েছিল।
আজ ২৫ আগস্ট সেই ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামে। রোহিঙ্গার সেই ঢল যে এত বড় ও দীর্ঘমেয়াদি হবে সেটা ভাবতে পারেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। সেদিন যারা মানবিকতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল আজ তারাই চরম দুর্দশা ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। অনেকের ফসলি জমি, বাড়ির উঠান পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে। কবে নাগাদ রোহিঙ্গারা ফিরবে বা আদৌ তারা ফিরবে কি না, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
জানা গেছে, নতুন ও পুরনো মিলিয়ে মিয়ানমারের ১১ লাখ ১৯ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলার ২৮টি পাহাড়ের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরের দুই লাখেরও বেশি ঝুপড়িতে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। এর প্রভাব পড়েছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারেই। এ অঞ্চলের উন্নয়ন হুমকিতে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে দুই উপজেলার বাসিন্দারা।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের সবুজ পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ঘর তৈরির জন্য কেটে ফেলা হয়েছে পাহাড়ি ছোট-বড় অসংখ্য গাছপালা। একসময়ের সবুজ পাহাড় এখন বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র হুমকিতে পড়েছে। পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন করতে গিয়ে হাতির আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্রও বিনষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে রোহিঙ্গাদের রান্নাবান্নার কাজে ছয় হাজার ৮০০ টন জ্বালানি কাঠ প্রয়োজন। রোহিঙ্গারা স্থানীয় পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকেই ওই কাঠ সংগ্রহ করে।
গত জুলাইতে কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, বালুখালী ঢালা, ময়নারঘোনা, থাইংখালী তাজনিমার খোলা, হাকিমপাড়া, জামতলি বাঘঘোনা, শফিউল্লাহ কাটা এবং টেকনাফের চাকমারকুল, উনচিপ্রাং, লেদা, মৌচনী, জাদিমুরা ও কেরানতলী এলাকাসহ বনবিভাগের গেজেটভুক্ত প্রায় ছয় হাজার ১৬০ একর বনভূমিতে বসতি স্থাপন করেছে। বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের এভাবে বসতি স্থাপনের কারণে টাকার হিসাবে সৃজিত এবং প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে ৪৫৬ কোটি আট লাখ টাকা। একইভাবে জীববৈচিত্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার ৪০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে বনজ ও জীববৈচিত্রের ক্ষতির পরিমাণ অন্তত এক হাজার ৮৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
শুধু বনভূমি বা জীববৈচিত্রই নয়, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা বসতি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কেও। ৭৯ কিলোমিটারের এই সড়কে স্থানীয় বাসিন্দাদের বহন করা গাড়ি এবং টেকনাফ স্থলবন্দরের নিয়মিত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও অন্যান্য মালামাল বহনকারী শত শত ভারী যানবাহন যাতায়াত করছে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার দুই শতাধিক গাড়িও এই সড়কে চলাচল করে। তাই সড়কে যানজট যেমন বাড়ছে, তেমনি সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি, পালংখালী ইউপির চেয়ারম্যান এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের হিং¯্রতায় উখিয়া- টেকনাফের করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। যেভাবে রোহিঙ্গারা অনৈতিক ও আইনবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত হচ্ছে, তাতে আমরা স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত পরিস্থিতির মধ্যে আছি। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান, ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]