• প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বাংলাদেশ-ভুটানের বাণিজ্যিকরণ সুবিধা বাড়াতে চিলমারী বন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ সরকারের


বাংলাদেশ-ভুটানের বাণিজ্যিকরণ সুবিধা বাড়াতে চিলমারী বন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ সরকারের

আমাদের নতুন সময় : 05/09/2019


আনিস তপন : উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত চিলমারী নৌবন্দরেরর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ-ভুটানের বাণিজ্যিকরণ সহজ করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। সম্প্রতি শুল্কায়ন পদ্ধতি চালু করার লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, চিলমারী বন্দরে পণ্যে ওঠানো-নামানোর সু-ব্যবস্থা নেই। তবে, বাহাদুরবাদ ও আরিচায় এ সুবিধা অবারিত। ভুটানোর পণ্য নারায়ণগঞ্জ পোর্টে ওঠানো ও নামানোতেসহ অন্যত্র পরিবহন করা অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ। তাই ভুটানের পণ্য সামগ্রী আমদানীর সুবিধার্থে চিলমারী বন্দরে পাশর্^বর্তী কোনো শুল্ক স্টেশন (কুড়িগ্রাম শুল্ক স্টেশন) থেকে কেস টু কেস শুল্কায়নের ব্যবস্থা করে বাহাদুরাবাদ ও আরিচাতে লোড-আনলোড কার্যক্রম হাতে নিলে দেশের বাণিজ্য চালু সহজতর হবে। তাছাড়া চিলমারী বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার উপযোগী করতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তাও বলা হয়েছে চিঠিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বন্দরটির সার্বিক আধুনিকায়ন ও শুল্কায়ন পদ্ধতি চালু হলে ভারতকে ট্রানিজিট হিসেবে ব্যবহার করে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ-চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এদিকে নৌমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী সফরে এসে চিলমারীকে নৌবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডøউটিএ) ব্যবস্থাপনায় এই বন্দরের রমনা ঘাটে পন্টুন স্থাপন করে নদীবন্দর হিসেবে উ™ে^াধন করেন তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে নৌ-বাণিজ্য চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্বারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। আর ভুটান ল্যান্ডলক দেশ হওয়ায় ইউএন কনভেনশন অন ট্রানজিট ট্রেড অব ল্যান্ডলক স্টেট ১৯৬৫ এর সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক এসওপি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়, ভুটানের পণ্য ভারত হয়ে তিনটি রুটে আমদানি করার বিষয়ে নীতগত সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। রুটগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-মাওয়া-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-চিলমারী-ডাইকাওয়া, মংলা-কাউখালী-চাঁদপুর-মাওয়া-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-চিলমারী-ডাইকাওয়া এবং কলাপাড়া-বরিশাল-চাঁদপুর-মাওয়া-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-চিলমারী-ডাইকাওয়া।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ বলেন, বর্তমান সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে তৎপর রয়েছে। এই সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে পণ্যের আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিকরণ অন্যতম মাধ্যম। চিলমারী বন্দরটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হলেও নানা সীমবদ্ধতায় এটাকে স্বরূপে ফেরানো যাচ্ছিলো না। বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে পণ্যের বাণিজ্যিকরণে শুল্কায়নের কাজ করা হলে ওই বন্দরটি সচল থাকবে। শিগগির দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিকরণ সহজতর হবে বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন সচিব।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, ভুটানের পণ্য আমদানীর সুবিধার্থে চিলমারী বন্দরের পাশর্^বর্তী কোন শুল্ক স্টেশন (কুড়িগ্রাম শুল্ক স্টেশন) থেকে কেস টু কেস শুল্কায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাহাদুরাবাদ ও আরিচাতে লোড-আনলোড কার্যক্রম হাতে নিলে দেশের বাণিজ্য চালু সহজতর হবে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]