মাদার তেরেসা আলোকবর্তিকা হলেও অনেক অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে

আমাদের নতুন সময় : 05/09/2019

দেবদুলাল মুন্না : ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মাদার তেরেসা মারা যান। তিনি ছিলেন আলবেলিয়-বংশোদ্ভুত, ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী। ১৯৭৯ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি নোবেল শান্তি ও ১৯৮০ সালে ভারতের‘ভারতরতœ’ পুরস্কার পান। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে ভারতে ও পরে সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালে পৃথিবীর ১০০ টিরও বেশি দেশে মোট ৫১৭টি মিশন পরিচালনা করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁকে ‘স্বর্গীয়’ আখ্যা দেন। অবশ্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ছিলো, যেসব দুঃস্থ অসহায় মানুষদের তিনি সেবার জন্য টেনে নিতেন তাদেরকে খ্রিস্টধর্মে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতেন। গার্ডিয়ানের এই তথ্যসংবাদ মতে, সুজান শিল্ডস এর উদ্ধৃতি দিয়ে (যিনি আগে মাদার তেরেসার মিশনারিজের একজন কর্মচারী ছিলেন), তার সংস্থার টাকা ব্যাংকেই পড়ে থাকতো, মৃত্যুযাত্রীদের কল্যাণে ব্যবহৃত হতো না। মাদার তেরেসা মানবতার জন্য যতোটা কাজ করেছেন তার চেয়ে বরং খিস্টধর্মের অনাচার, অবিচার এবং কুসংস্কারকে মানবতার মোড়কে করে বিক্রি করেছেন। হিচেন্সের মতে তিনি ছিলেন ‘একজন ধর্মীয় মৌলবাদী, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তি, সেকেলে ধর্মোপদেশ দানকারী, এবং পার্থিব ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সাগরেদ।’ ১৯২৯ সালে ভারতের দার্জিলিং এসে প্রথম কাজ শুরু করেন। ১৯৩১ সালের ২৪ মে তিনি সন্ন্যাসিনী হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন। পোশাক হিসেবে পরিধান করেন নীল পারের একটি সাধারণ সাদা সুতির বস্ত্র। এ সময় ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। কলকাতায় মাত্র ১২ জন সদস্যের ছোট্ট পরিবার নিয়ে চ্যারিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। চ্যারিটির অধীনে এতিমখানা ও এইড্স আক্রান্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী, অন্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, বয়স্ক, মাদকাসক্ত, দরিদ্র্য, বসতিহীন এবং বন্যা, দুর্ভিক্ষ বা মহামারিতে আক্রান্ত মানুষের সেবায় কাজ করে যান।১৯৫২ সালে মাদার তেরেসা কলকাতা নগর কর্তৃপক্ষের দেয়া জমিতে মুমূর্ষুদের জন্য প্রথম আশ্রয় ও সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। মিশনারি শিশুদের লালন-পালন করতেন।পরে শিশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় তেরেসা ১৯৫৫ সালে নির্মল শিশু ভবন স্থাপন করেন। ১৯৮২ সালে বৈরুত অবরোধের চূড়ান্ত প্রতিকুল সময়ে মাদার তেরেসা যুদ্ধের একেবারে ফ্রন্ট লাইনের হাসপাতালে আটকে পড়া ৩৭ শিশুকে উদ্ধার করেন। সমাজতান্ত্রিক শাসনের সময়ে পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশেই মিশনারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। গর্ভপাত এবং বিবাহবিচ্ছেদ-এর বিরুদ্ধে দৃঢ অবস্থানের কারণে অনেকে তার সমালোচনা করেন। ২০১২ সালের মে মাসে মিরর ও দ্যা মেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তার মিশনারি কেন্দ্রের এক-তৃতীয়াংশ রোগী প্রয়োজনীয় সেবা পায় না।এমনকি সেখানকার পরিবেশ ও দুরাবস্থাকে নাৎসীদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছিলো। অথচ নিজের চিকিৎসার জন্য তিনি উড়ে গিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লিনিকে! তিনি স্বৈরাচারের কাছ থেকে অনুদান পেয়ে স্বৈরাচারকের প্রশংসা করেছিলেন, হাইতির একনায়ক জ্য ক্লদ দ্যুভেলিয়র, যিনি মানুষকে অপহরণ ও গুম করার জন্য কুখ্যাত ছিলেন, তার অনুদান নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন। তিনি এইডস রোগিদের সেবার জন্য বলতেন, অথচ কনডমকে ঘৃণা করতেন (যা এইচআইভি সংক্রামণ ও এইডস রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়)। হাফিংটনপোস্টের ঋত্বিকা ভারাগুরের মতে কলকাতা এবং ভারতে মাদার তেরেসার উপস্থিতি এবং কর্মকা- মূলত তুলে ধরে বর্ণবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রথার উপর পাশ্চাত্যের আধিপত্যকে। তার মতে,ভারতের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করা যোদ্ধা নন তেরেসা বরং ধর্ম ও সেবাকে ব্যবহার করে শ্বেতাঙ্গদের বুর্জোয়া প্রভাব বিস্তারের জন্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]