• প্রচ্ছদ » সাবলিড » মুগাবে এনডেবেলেস গোষ্ঠীর হাজারো মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালান, তার টয়লেটের কমোড ছিলো স্বর্ণের তৈরি


মুগাবে এনডেবেলেস গোষ্ঠীর হাজারো মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালান, তার টয়লেটের কমোড ছিলো স্বর্ণের তৈরি

আমাদের নতুন সময় : 08/09/2019


দেবদুলাল মুন্না : স্বাধীন জিম্বাবুয়ের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে জিম্বাবুয়েতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেও পরবর্তীতে স্বৈরশাসক হয়ে ওঠেছিলেন। হয়েছিলেন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অবসানের আশ^াস দিলেও ১৯৮০ সালে স্বাধীনতার সাথে সাথে যে স্বপ্ন অর্জিত হয়েছিল তা ধূলিস্যাৎ হয়ে যায় অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্নীতি ও সহিংসতার প্রকোপে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মুগাবে ক্রমাগত একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সমর্থন প্রকাশ করায় আরেক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী এনকোমোর মধ্যে দ্বন্ধ বাড়তে থাকে। এরপর জাপু মালিকানাধীন এলাকায় প্রচুর অস্ত্রের গুপ্ত ভান্ডার পাওয়ার পর এনকোমোকে সরকার থেকে বহিষ্কার করা হয়। মুগাবে ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে হাজার হাজার এনডেবেলেস গোষ্ঠীর মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, যারা এনকোমোর আদি বাসস্থান মাতাবেলেল্যান্ডের অধিবাসী ছিল এবং যাদেরকে এনকোমোর সমর্থক হিসেবে মনে করা হতো। জিম্বাবুয়ের রাষ্টায়ত্ত হেরাল্ড নিউজপেপারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে নিজের গ্রামের বাড়ি জিভিমবায় গিয়েছিলেন মুগাবে। তখন কার ব্রিফকেস থেকে চুরি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ডলার। তার টয়লেটের কমোড ছিলো স্বর্ণের তৈরি।‘জোহানে মাপুরিসা’ নামের এক ব্যবসায়ী ২০১৬ সালে মামলা করেছিলেন মুগাবে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিয়েছিলেন ৯১ লাখ ডলার। তিনি স্ত্রী গ্রেসসহ ঘনঘন বিদেশ ভ্রমণে যেতেন। তার আসক্তি ছিল মদ ও জুয়ায়। তার বাড়িতে মদের সংগ্রহই ছিলো ৮১ লাখ ডলারের। এসব টাকার পাহাড় গড়তে তিনি অনুসরণ করেছিলেন একের পর এক ফ্যাসিবাদী নীতি। জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনীর ফিফথ ব্রিগেডের যারা উত্তর কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, তাদেরও হত্যার সাথে মুগাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠলেও তাকে কখনো বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৯৯২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ আইন প্রণয়ন করে কোনো আবেদন ছাড়াই ভূমি অধিগ্রহণের নিয়ম তৈরি করেন। জিম্বাবুয়ের উৎকৃষ্ট মানের ভূমির দখল রাখা সাড়ে ৪ হাজার শ্বেতাঙ্গ কৃষকের হাত থেকে জমির মালিকানা পুনর্বিন্যাস করাই ছিল তার এই নীতির প্রধান লক্ষ্য। একবিংশ শতকের প্রথম দশকে তার সরকারের বিরোধী দলের সমর্থনে থাকা শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের খামার দখল এবং তাদের অধীনে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ কৃষকদের হত্যা করে মুগাবের সেনাবাহিনী। ২০০২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল মুগাবে প্রায় ৫৭% ভোট পান এবং তার বিরোধী দল এমডিসি পায় প্রায় ৪২% ভোট। ওই নির্বাচনে মুগাবের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং অনেক গ্রামে ভোটারদের ভোট দেওয়া থেকে রুখতে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।সহিংসতা এবং জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়নি। তারপর থেকেই মুগাবে এবং জিম্বাবুয়ে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে শুরু করে। দেশের গণতন্ত্র পরিস্থিতি উন্নয়নের আগ পর্যন্ত কমনওয়েলথের বৈঠক থেকেও জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েতে কালোবাজারি বন্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেন মুগাবে, যার ফলশ্রুতিতে রাস্তায় ব্যবসা করা ৩০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার হন এবং আনুমানিক সাত লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়েন। কিন্তু কালোবাজারি ব্যবসা বন্ধ করতে ব্যর্থ হন।২০০৮ ও ২০১৩ সালেও তিনি বিরোধীদলের ওপর দমনপীড়ন চালান ও ভোটকারচুপির মাধ্যমে বারবার ক্ষমতায় আসেন।তবে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনীর জন্য ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন মুগাবে। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর গৃহবন্দী হন ।পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার আগে তিনি এবং তার পরিবার ভবিষ্যতে যাতে বিচারের সম্মুখীন না হন সেজন্য একটি চুক্তিও করেন। এর ফলে তার কিছু ব্যবসায়িক স্বার্থও রক্ষা হয়েছিল। তিনি কূটনৈতিক মর্যাদাসহ গাড়ি-বাড়িরও সুবিধা ভোগ করছিলেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]