• প্রচ্ছদ » » কেন ‘বালিশ-পর্দা’র মতো ‘ছিঁচ’কে বিষয় নিয়ে টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটছে?


কেন ‘বালিশ-পর্দা’র মতো ‘ছিঁচ’কে বিষয় নিয়ে টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটছে?

আমাদের নতুন সময় : 09/09/2019

চিররঞ্জন সরকার

সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাধি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ হচ্ছে প্রথমত রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করা এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটছে উল্টো ঘটনা। এমনিতেই আমাদের দেশে দুর্নীতির ঘটনা বড় বেশি প্রকাশিত হয় না। যা দু-চারটা প্রকাশ পায়, অমনি শুরু হয় এটা অস্বীকার করার মহাআয়োজন। এমনকি মন্ত্রীরা পর্যন্ত দুর্নীতির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুর্নীতির ঘটনাকে লঘু করে দেখান। সর্বশেষ এর নজির গড়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকা-ের পর ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দা নিয়ে আলোচিত দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের ছিঁচকে কাজ যারা করেন তারা নিশ্চয়ই কোনো এমপি বা মন্ত্রী নন। এটা হাওয়া ভবনের মতো লুটপাটের বিষয় নয়। দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েছে হাওয়া ভবন।’ আচ্ছা কোনো মন্ত্রী-এমপি যদি না হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এই দুর্নীতিকে এভাবে লঘু করে দেখছেন কেন? বিএনপি আমলে হাওয়া-ভবনের নামে দুর্নীতি হয়েছে বলে এই আমলেও দুর্নীতি জায়েজ? আর হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের একটি পর্দা যদি ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়, এটা ‘ছিঁচকে’ দুর্নীতি হয় কীভাবে? ওই টাকাটা ওবায়দুল কাদের পৈতৃক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন? নাকি তা জনগণের ট্যাক্সের টাকা? জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে ‘হেলাফেলা’ করার অধিকার মন্ত্রী বাহাদুরকে কে দিয়েছেন? জনগণের রক্ত পানি করা ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে। মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা-ডাট-ফাট চলে। এর প্রতিটি পয়সার টু দ্য পয়েন্ট হিসেব হওয়া উচিত। মন্ত্রী নিশ্চয়ই সার্কাসের জোকার নয়, যে ইচ্ছে হলো আর একটা ‘মনোরঞ্জন’মূলক সংলাপ বলে দিলেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতিটি অক্ষরও দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক হওয়া দরকার। তাছাড়া এই সরকার ধোয়া-তুলসী পাতা নয়। ব্যাংক, বীমা, শেয়ারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। এই কারসাজির সঙ্গে কোনো মন্ত্রী-এমপিই জড়িত নেই? মাননীয় মন্ত্রী বাহাদুর কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন?
হাওয়া ভবন এখন ডেড ইস্যু। হাওয়া ভবন যারা সৃষ্টি করেছিলো তারা এর পরিণতি ভোগ করছেন। প্রশ্ন হলো আপনারা তো একেকজন ‘হাজি মুহম্মদ মুহসিন’, আপনারা কি করছেন? আপনাদের আমলে কেন ‘বালিশ-পর্দা’র মতো ‘ছিঁচ’কে বিষয় নিয়ে এমন টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটছে? আপনারা কি চোখে ঠুলি পরে দেশ শাসন করছেন? ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে দরজা-জানালার পর্দা কেনাটা কিন্তু দুর্নীতির সামান্য একটা উদাহরণ মাত্র। ‘পর্দার আড়ালে’ আরও কি কি ঘটছে তা আমরা জানি না, কেবল অনুমান করতে পারি। মন্ত্রী বাহাদুরকে বলবো, ছোট-বড়-মাঝারি-ছিঁচকে এভাবে দুর্নীতির শ্রেণিভাগ না করে চোর ধরুন। তাদের বিচার করুন। হাওয়া-ভবন আর জেলখানা যে খুব দূরে নয়, এটা আপনারা খালেদা জিয়াকে বুঝিয়ে ছেড়েছেন। এবার নিজেরাও একটু বোঝার চেষ্টা করুন। বিদ্যাসাগরের বাল্যশিক্ষায় নিশ্চয়ই পড়েছেন : আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]