• প্রচ্ছদ » » পলান সরকার বলেছিলেন, ‘ছোটবেলায় শুনেছিলাম অন্নদান, বস্ত্রদান অনেক রকম দান আছে, কিন্তু সেরা দান ‘জ্ঞানদান’, আমি ঠিক করলাম, দেবো যখন মানুষকে, সেরাটাই দিই’


পলান সরকার বলেছিলেন, ‘ছোটবেলায় শুনেছিলাম অন্নদান, বস্ত্রদান অনেক রকম দান আছে, কিন্তু সেরা দান ‘জ্ঞানদান’, আমি ঠিক করলাম, দেবো যখন মানুষকে, সেরাটাই দিই’

আমাদের নতুন সময় : 09/09/2019


আশিক রহমান : পলান সরকার, একজন আলোর ফেরিওয়ালা। আলোর মানুষ। মানুষকে আলোকিত করার ব্রত নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘বই পড়া’ আন্দোলন। এই যাত্রায় ছিলো না কোনো স্বার্থ। কারণ তিনি জানতেন, মানুষ আলোকিত হলে সমাজও আলোকিত হবে। জ্ঞানদানেই মিলবে আলোকিত মানুষ। ফলে মানুষকে বই পড়ায় আগ্রহী করতে শুরু করেন ‘বই পড়া’ আন্দোলন। রাজশাহী জেলার ২০টি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন অভিনব এই আন্দোলন। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে, মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন বই। পরে সে বই ফেরতও নিয়ে আসতেন তিনি। দিয়ে আসতেন নতুন বই। একটা সময় মানুষটি ‘বইওয়ালা দাদু’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। বিনা স্বার্থে শুরু করলেও অন্যের কল্যাণে নিজের নিবেদনের স্বীকৃতিও মেলে। ২০১১ সালে সামাজিকভাবে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।
পলান সরকার ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ২৫ ভাদ্র, ১৩২৯, নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম নাম ছিলো হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে তার বাবা হায়াত উল্লাহ সরকার মৃত্যুবরণ করেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর অর্থনৈতিক সংকটে লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। এরপর তার নানা ময়েন উদ্দিন সরকার মা মইফুন নেসাসহ পলান সরকারকে রাজশাহীর বাঘা থানার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর লেখাপড়ার সুযোগ ছিলো না। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে পলান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন। কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেন।
১৯৯০ সাল থেকে বাউসা হারুন-অর রশিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছর যারা মেধাতালিকায় প্রথম দশটি স্থান অর্জন করতো তাদের বই উপহার দিতেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তাঁর কাছে বইয়ের আবদার করলে সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি তাদেরও বই দেবেন তবে তা ফেরত দিতে হবে। একটা সময় গ্রামের মানুষও তাঁর কাছে বই চাইতে শুরু করে। এভাবেই শুরু হয় বই পড়া আন্দোলনের ভিত। ১৯৯২ সালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় পলান সরকারকে হাঁটার অভ্যাস করতে হয়। তখনই তাঁর মাথায় এক অভিনব চিন্তা আসে।
২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে পলান সরকারকে আলোকিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর ‘ছুটির দিনে’ সাময়িকীতে তাঁকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয়, যার নাম ছিলো ‘বিনি পয়সায় বই বিলাই’। এরপর থেকে তিনি সারাদেশে পরিচিতি পান। ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার দৈনিকে তাঁর উপর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাঁর জীবনের ছায়া অবলম্বনে বিটিভির জন্য গোলাম সারোয়ার দোদুল নির্মাণ করেন ঈদের নাটক ‘অবদান’। ইউনিলিভার বাংলাদেশ তাঁকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করে। পলান সরকার ২০১৯ সালের ১ মার্চ রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার বাউশার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]