• প্রচ্ছদ » » বারবার শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে উঁচু মান ও মনের পরিচয় বাংলাদেশিরা রেখে চলেছে, তা বিশ্বদরবারে আমাদের মাথা উঁচু করে রাখতে বিশ্বাস যোগাবে


বারবার শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে উঁচু মান ও মনের পরিচয় বাংলাদেশিরা রেখে চলেছে, তা বিশ্বদরবারে আমাদের মাথা উঁচু করে রাখতে বিশ্বাস যোগাবে

আমাদের নতুন সময় : 09/09/2019

আর রাজী : বিশ্বের যে প্রান্ত থেকে, যেই আসুক আমার এই ভূখ-ে, আমি তাদের আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানাতে চাই। তারা যতোদিন থাকতে চায়, এই রাষ্ট্রের, এর সমাজের আইন-কানুন-রীতি-রেওয়াজ-সংস্কৃতি অনুসরণ করে চললে আমার কোনোই আপত্তি নেই। আমার রাষ্ট্রের সেবা, পরিষেবা যতোটুকু তারা কিনে নিতে পারবে, ততোটুকুই তাদের প্রাপ্য হবে। যোগ্যতা ও উপযুক্ততা থাকলে আর সবার মতো এদেশে তারা কাজ করেও খেতে, থাকতে পারবে। বিশ্ববাসী এই একই নীতি যেন গ্রহণ করে, সে দাবি তোলার আছে আমার। পৃথিবীর কোনো ভূখ-ে একচ্ছত্র অধিকার কোনো রাষ্ট্র, জাতি, গোষ্ঠী বা গোত্রের হতে পারে না। বিশেষ করে মানুষ যেখানে যেতে চায়, থাকতে চায়, সেই ভূখ-ের আদিবাসিন্দাদের তৈরি নিয়ম-কানুন-রীতি-রেওয়াজ-সংস্কৃতি মেনে চলতে স্বীকার করলে তাকে সেখানে যেতে ও থাকতে বাধা দেয়া অনৈতিক ও অন্যায্য। কোনোকালে, কোনো জাতি-গোষ্ঠী-গোত্র, কোনো ভূখ- বাহুবলে, গায়ের জোরে বা কূটকৌশলে দখল করে নিয়েছিলো, সেই দখলই চিরকালের সত্য হতে পারে না। এই বাংলাদেশের মানুষকেই বলতে হবে উত্তরাধিকারের অজুহাতে, অস্ত্রের জোরে পৃথিবীর কোনো অংশে কোনো মানুষের প্রবেশের অধিকার, বসবাসের অধিকার নাকচ করা অনৈতিক।
কেউ একটা জনপদ গড়ে তুলেছে, একটা রাষ্ট্র সাজিয়েছে তাতে তাদের অগ্রাধিকার আমি মানি। কিন্তু তারই বলে, আমার সেখানে দাঁড়াবারও সুযোগ থাকবে না এটা অন্যায্য। আমি যদি তাদের সব আইন-কানুন-রীতিনীতি মেনে চলি, যদি আমি আমার যোগ্যতা বলে সেখানে টিকে থাকতে পারি… সে ন্যূনতম অধিকার আমার থাকতে হবে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই… এই অখ- পৃথিবীর ভূমি যে রাষ্ট্র, জাতি, গোষ্ঠী যতো বেশি দখল করে রেখেছে সেই রাষ্ট্র, জাতি, গোষ্ঠী ততো অনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। সেই রাষ্ট্রের নাগরিক ততো পাপী, যে রাষ্ট্রের জনগণের মাথাপিছু ভূমির পরিমাণ যতো বেশি। আমি জানি, এই ভাবনার কথা শুনে অনেকেই হেসে উঠবে, অবাস্তব বক্তব্য বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে, নানা কুযুক্তি তুলে, তারা সর্ব মানুষের অধিকার এড়িয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু আমার বাংলাদেশের মানুষকে তার আত্মস্বার্থেই বলতে হবে, এই অখ- পৃথিবীতে কোনো মানুষের অবাধ চলাচল বা বসবাসের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যেকোনো আইন, অনৈতিক ও অন্যায্য।
পৃথিবীতে কেউ শরণার্থী হতে পারে না। পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই সে এই ভূম-লের বাসিন্দা। সে উদ্বাস্তু হতে পারে না। এই মৌলনীতির উপরই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে সব দেশের, সব আইন। যারা এই নীতির বিরুদ্ধাচারণ করবে, বাংলাদেশের মানুষ জানবে সে পাপী, সে মনুষ্যতর, সে অসভ্য, সে হীনমন্য কাপুরুষ। অপরিমিত ভূমি যারা দখল করে রেখে অন্যদের উদ্বাস্তু করে তুলছে, বাঙালি তাদের ঘৃণা করবেই। অখ- পৃথিবীকে সীমান্তের কাঁটাতারে যারা খ- খ- করে রেখেছে বাংলাদেশিদের অভিশাপ তাদের অনিবার্য প্রাপ্য। আমার বিশ্বাস, অনেক অনেক ঝুঁকি, হিসাব-নিকাশকে পাশে রেখে হাজার হাজার বছর ধরে, বারবার শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে উঁচু মান ও মনের পরিচয় বাংলাদেশিরা রেখে চলেছে, ভাবীকালে বিশ্বদরবারে সে পরিচয়ই আমাদের নিজেদের মাথা উঁচু করে রাখতে বিশ্বাস যোগাবে। এরই সূত্র ধরে আমরাই একদিন উচ্চ কণ্ঠে বলতে পারবো, এই পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা আমাকে যেতে দিতে হবে, যেখানে ইচ্ছা আমাকে থাকতে দিতে হবে। কাঁটাতারের বেড়া, কনক্রিটের দেয়াল, ভূমি-মাইন কিংবা সশস্ত্র প্রহরী আমরা মানি না। আরও কিছু ত্যাগ, আরও কিছু প্রস্তুতির পর, বিশ্বদরবারে আমরাই উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করতে পারি… কাপুরুষের রাষ্ট্র ছাড়া, অমানুষের রাষ্ট্র ছাড়া আর কেউ সীমান্ত রক্ষার নামে মানুষ হত্যা করতে পারে না, মানুষকে সীমিত করতে পারে না। আমরাই পারি, সব মানুষের সর্বত্রগামী হওয়ার অধিকার-স্বীকৃত একটি অবাধ-মুক্ত পৃথিবীর দাবি তুলতে। ক্ষীণদৃষ্টি হয়ে, ক্ষণিকের উত্তেজনায় এই দাবি ও গৌরব থেকে আমরা নিজেরাই যেন নিজেদের বঞ্চিত না করি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]