• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » বছরে বিশে^ আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে আগামী বছর এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ লাখে


বছরে বিশে^ আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে আগামী বছর এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ লাখে

আমাদের নতুন সময় : 10/09/2019

দেবদুলাল মুন্না : বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০০৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) সংস্থাটি গঠন করা হয়। এ সংস্থার উদ্যোগে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ’ দিবস পালন করা হয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধ এখনো বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী , পৃথিবীতে প্রতিবছর আট লাখ লোক আত্মহত্যা করে। তার মানে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে থাকে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা হবে ১৫ লাখ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোচিকিৎসক ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ১৫-২৯ বছরের মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ। পৃথিবীর সব মৃত্যুর ১ দশমিক ৪ শতাংশ হচ্ছে আত্মহত্যাজনিত। এ ছাড়া যতজন আত্মহত্যা করে, তার ২৫ গুণ বেশি লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং তার চেয়ে ও অনেক বেশি লোক আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করে। প্রতিটি আত্মহত্যার কারণে প্রায় ১৩৫ জন মানুষ তীব্র শোকে ভোগে বা অন্য সমস্যায় ভোগে। তার মানে বছরে ১০৮ মিলিয়ন (১০ কোটি ৮০ লাখ) লোক আত্মহত্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বে বছরে আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করলেও এদের মধ্যে কিশোর ও বিবাহিতদের সংখ্যা বেশি। কৈশোরে আত্মহত্যা ঠেকানোর সাত উপায় দিয়েছেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মনোরোগের অধ্যাপক ক্রিস্টিন হ্যাডফিল্ড।এ টিপসগুলো তিনি ডয়েচে ভেলে’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন।
মৃত্যু নিয়ে আলাপ:‘‘আমি তোমার ঝামেলা হয়ে থাকতে চাই না’’ বা ‘‘আমি আত্মহত্যা করবো’’—মজার ছলেও যদি কোনো কিশোর এসব কথা বলে, সেটা গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে। তাঁর ওপর কৌশলে দৃষ্টি রাখতে হবে। অনেক সময় মুখে না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এমন কথা লিখতে পারে কিশোররা। সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বিধ্বংসী আচরণ: কিশোর বয়সে রাগ এক-আধটু হয়েই থাকে। কিন্তু রেগে গিয়ে নিজের ক্ষতি করতে চাওয়ার অর্থ হলো, আত্মহত্যা প্রবণতা দানা বাঁধতে শুরুকরা। অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, অতিমাত্রায় মাদক আর অ্যালকোহলে সেবনে কিশোরটি জড়িয়ে পড়ছে কি না।
সমাজবিমুখতা: একা থাকা পরিণত বয়সেও কষ্টের। তাই কৈশোরে পরিবার ও বন্ধু থেকে আলাদা হয়ে থাকার মানসিকতাকে আত্মহত্যার কারণ বলছেন বিশ্লেষকরা।বন্ধুবান্ধব, ভাই-বোন নিয়ে যারা সামাজিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে, মানসিক যন্ত্রণায় ভোগার সুযোগ তাঁদের কম। তাই বাবা-মাসহ পরিবার পরিজনদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা খুব জরুরি। কোনো কিশোর যাতে নিজেকে একা মনে না করে।
ফাঁদে পা অথবা একরাশ হতাশা: কৈশোরের উচ্ছ্বল দিনগুলোতে হতাশা কিংবা কোনো ভুলে পা দেয়া উস্কে দিতে পারে আত্মহত্যার চেষ্টাকে। তাই কিশোর মনের চিন্তা বুঝতে হবে অভিভাবকদের। সন্তান কি বলতে চায় তা শুনতে হবে। কিছু বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে, তাহলে অভয় দিয়ে, ভালোবেসে সেই কথাটা শুনতে হবে।
অভ্যাসে বদল: কিশোর বয়সে নিত্যদিনের জীবনে হুট করে পরিবর্তন দেখা গেলে তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, এটা হতাশার লক্ষণ। বাবা-মা-কে বুঝে নিতে হবে, তাঁদের আদরের সন্তান কোনো একটা সমস্যায় ভুগছে। দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুম মানে আত্মহত্যা প্রবণতা। আর ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ঘুমানো কিন্তু বিষন্নতা।
প্রিয় জিনিসের প্রতি অনীহা: কোনো কারণ ছাড়া প্রিয় ক্রিকেট ব্যাট ছুঁড়ে ফেললো, আব্দারের পর আব্দার করে কেনা হাতঘড়িটার দিকে উদাসীন- আপনার সন্তানের মধ্যে এমন আচরণ দেখলে সতর্ক হয়ে যান।
অকারণ মেজাজ দেখানো: কৈশোরে ক্ষণে ক্ষণে মন পালটানো নতুন কিছু নয়। তারপরেও সতর্ক থাকতে হবে। পরিবারের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা আছে কিনা তা জানতে হবে। সবমিলিয়ে কৈশোরের উচ্ছ্বলতায় সন্তানও যেন উচ্ছ্বল থাকে, অভিভাবককে হতে হবে সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]