• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » শান্তি আলোচনা বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তালেবানের হুঁশিয়ারি


শান্তি আলোচনা বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তালেবানের হুঁশিয়ারি

আমাদের নতুন সময় : 10/09/2019

লিহান লিমা : আফগানিস্তানে গত ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে শুরু হওয়া গোপন শান্তি আলোচনা বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান। এক বিবৃতিতে তালেবান বলেছে, একদম শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবেই চলছিলো। বিবিসি, রয়টার্স, দ্য হিন্দু।
এই বিবৃতিতে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, ‘দুই পক্ষই একটি বড় ঘোষণা ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত ছিলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুট করে শান্তি আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দিলেন। মাত্র একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা বাতিল করে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অনভিজ্ঞতা ও অপরিপক্কতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরো বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক বেশি ক্ষতি করবে। তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। বিশ্বের কাছে তাদের শান্তি-বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে। আরো অনেক মার্কিন সৈন্য জীবন হারাবে ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি জানান, যুদ্ধের পরিবর্তে যদি আলোচনার পথ বেছে নেয়া হয় আমরা প্রস্তুত থাকবো। তবে আমাদের দেশে বিদেশীদের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।’ তিনি দাবি করেন, তালেবান ও আফগান সরকার ২৩ সেপ্টেম্বর আলোচনা করতে ঐক্যমতে পৌঁছেছিলো। যদিও আফগান সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে নি।
গত শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দফা টুইটে বলেন, ক্যাম্প ডেভিডে তালেবানের সঙ্গে গোপন বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প আরো বলেন, সম্প্রতি আফগানিস্তানে এক মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তালেবান গোষ্ঠী দাবি করেছিলো যে, কাবুলে গত বৃহস্পতিবার যে আক্রমণে একজন মার্কিন সৈন্য সহ ১২ জন নিহত হয় – সেটি তারাই চালিয়েছে।
ট্রাম্পের টুইটের পর আফগান প্রেসিডেন্ট তালেবানকে সহিংসতা বন্ধ করে তার সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান। আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, তালেবান যুদ্ধবিরতি করতে রাজি হলেই সত্যিকারের শান্তি আসবে। যদিও তালেবান গোষ্ঠী আফগান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল বলে সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে ট্রাম্প মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির সঙ্গে জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতাদের বৈঠকের আয়োজন করেন।
ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কাতারে নয় দফা শান্তি আলোচনা হয়েছে। সোমবার উচ্চপদস্থ এক মার্কিন সমঝোতাকারী তালেবানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রশ্নে ‘নীতিগত’ সমঝোতা হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। এই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ৫ হাজার ৪০০ মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে এবং এর পরিবর্তে তালেবান এই নিশ্চয়তা দেবে যে, আফগানিস্তানের মাটি কখনোই সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহৃত হবে না। বর্তমানে আফগানিস্তানে যুক্তারাষ্ট্রের ১৪ হাজার সৈন্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর আল-কায়েদার জঙ্গীদের আশ্রয় দেয়ায় আফগানিস্তানে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর থেকে এখনো আফগানিস্তানের বেশিরভাগ অঞ্চল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের মাটিতে সামরিক উপস্থিতি অক্ষুণœ রাখবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]