• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » শিল্পী পারভেজের পরিবারের সামনে অন্ধকার আলভির অবস্থা গুরুতর, সড়ক অবরোধ


শিল্পী পারভেজের পরিবারের সামনে অন্ধকার আলভির অবস্থা গুরুতর, সড়ক অবরোধ

আমাদের নতুন সময় : 10/09/2019


সুজন কৈরী : কয়েকদিন আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন ছেলের জীবন নিয়েও সংশয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছেলেকে নিয়ে ট্রমা সেন্টারে দুই দিন ধরে পড়ে রয়েছেন বাসচাপায় নিহত কণ্ঠশিল্পী পারভেজ রবের স্ত্রী রোমানা সুলতানা রুমী। সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে। স্বামীর জন্য শোক করবারও সময় নেই! সংসার চলবে কি করে? তাদের সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যত।
গত শনিবার রাতে উত্তরায় ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাসচাপায় রোমানার ছেলে ইয়াসিন আলভি রব গুরুতর আহত হন। নিহত হয় তার বন্ধু মেহেদী। বাবার কুলখানির অনুষ্ঠানের জন্য বন্ধুকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন আলভি। কিন্তু বাবার কুলখানিও ঠিকমতো হয়নি।
এদিকে, তুরাগের ধউর এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পাশে বাসচাপায় পারভেজ রব ও শিক্ষার্থী মেহেদী নিহতের ঘটনায় সোমবার দুপুরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন মেহেদীর সহপাঠী ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে এ সময় তিন দফা দাবি জানান তারা।
গতকাল ট্রমা সেন্টারে কথা হয় পারভেজ রবের স্ত্রী রোমানার সঙ্গে। তিনি স্বামী ও ছেলের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে ইয়াসির ইসরাত রব মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছে। একাদশ শ্রেণিতে পড়–য়া মেজো ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। আর ছোট মেয়ে ইবনাস রব স্থানীয় কামারপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
তিনি বলেন, স্বামী হারানোর শোকও কাটাতে পারলাম না। এরই মধ্যে মধ্যে ছেলেকেও বাস চাপা দিয়ে মেরে ফেলতে চাইলো। সে কোমরে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে। হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া হাতের একটি আঙুল ভেঙেছে। অপর হাতটিও গুরুতর জখমপ্রাপ্ত। চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন, কিন্তু কিভাবে করাবো। সংসার চলবে কিভাবে। অপর দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার কি হবে? রোমানা আরো বলেন, বৃহস্পতিবার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে বাস মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শনিবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো মীমাংসা হয়নি। ছেলে আহতের ঘটনায়ও মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
চিকিৎসাধীন আলভি জানান, দু’জন বাসে ওঠার সময় হেলপার দরজা বন্ধ করে দিলে বাসটি চালাতে শুরু করেন চালক। এ সময় তার বন্ধু মেহেদী বাসের নিচে পড়ে যান। আলভি বাসের দরজা ছেড়ে জানালায় ঝুলে পড়েন। এ সময় চালককে বাস থামাতে বলেন তিনি। কিন্তু চালক বাস না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে দেয়। পরে বাসটি সামনে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনি বাসের সঙ্গে তাকে চাপা দেয়। এতে আলভি কোমরে কোমরে প্রচ- আঘাত পান।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা বলেন, আলভিকে চাপা দেয়া ও তার বন্ধু নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাস চালককে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বাবার পর ছেলেকেও চাপা দেয়ার ঘটনাটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সম্পাদনা: রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]