টুইন টাওয়ার হামলার ঘটনার অনেক রহস্যের জট খোলেনি

আমাদের নতুন সময় : 12/09/2019


দেবদুলাল মুন্না : বিশ্ব কাঁপানো নাইন-ইলেভেনে হামলার ১৮তম বছর ছিল বুধবার। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ছিনতাই হওয়া দুটি যাত্রীবাহী বিমানের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় পাশাপাশি থাকা দুটি সুউচ্চ ভবন, যা টুইন টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল। জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দার সদস্যরা দুটি বোয়িং-৭৬৭ বিমান ছিনতাই করে উত্তর ও দক্ষিণ ভবনের মাঝ দিয়ে আত্মঘাতী হয়। তাতে স্তম্ভিত হয় গোটা বিশ্ব। টুইন টাওয়ারের এ হামলায় প্রাণ হারায় প্রায় তিন হাজার মানুষ। নষ্ট হয়েছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ও অবকাঠামো। হামলা হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনেও। এছাড়া আরেকটি বিমান নিয়ে ওয়াশিংটনে হামলার চেষ্টা চালানো হলেও সফল হতে পারেনি ছিনতাইকারীরা।

এ হামলার জন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই আল কায়েদাকে দায়ী করলেও গত বছর বিবিসির এক প্রতিবেদন ও একটি বিখ্যাত বইয়ের তথ্য বলছে অন্য কথা। সে সব বিশ্বাস করলে মনে হয়, খোদ আমেরিকা বা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা এ হামলার পেছনে ছিল। ওই আক্রমণে কোনো ইহুদি মারা যাননি, আসলে কোনো বিমান টুইন টাওয়ারে বা পেন্টাগনে আঘাত করেনি- এই রকম কিছু তথ্য এরই মধ্যে প্রচার পেয়েছে। বেশ কিছু বই ও চলচ্চিত্র এসব আরও রহস্যের তৈরি করেছে। ডিভিড রে গ্রিফিন নামের দর্শনের অধ্যাপক ২০০৪ সালে একটি বই লেখেন, নাম ‘দ্য নিউ পার্ল হারবার’। এতে তিনি ৯/১১-র ঘটনায় মার্কিন সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। বইটি বিপুল জনপ্রিয়। পরিচালক ডিলান এভারির ‘লুজ চেঞ্জ’ নামের ধারাবাহিক সিরিজের প্রথম পর্বটি প্রচার হয় ২০০৫ সালে। এ মুভিটিতে আমেরিকাকে দায়ী করা হয়। বড় তথ্য হচ্ছে ওয়ার্র্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি টাওয়ার ধসে পড়েছিল বিমানের আঘাতে নয়, বরং ভবনটির ভেতরে বিস্ফোরক বসিয়ে তা উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেভিড রস্টচেক নামের এক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হামলার কিছুক্ষণ পরই লিখেছিলেন, কেউ কি খেয়াল করেছেন যে ওয়ার্ল্ড টেড সেন্টার ভবনটি বিমানের আঘাতে ধ্বংস হয়নি? নাকি শুধু আমিই এটা বুঝেছি? পরে অবশ্য তদন্ত করে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বিমানের আঘাতের পর আগুনে টাওয়ারের দুটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওপরের তলাগুলো ভেঙে পড়তে থাকলে তার চাপে পুরো ভবনটিই ভেঙে পড়ে যায়। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনা নিয়ে বিবিসি সেসময় যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল সেখানে বলা হয়, সেদিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দু’টি টাওয়ার ছাড়া ১০০ মিটার দূরের ডব্লিউটিসি নামে আরেকটি ৪৭ তলা ভবনও ধ্বংস হয়েছিল। কিন্তু ওই ভবনটিতে বিমানের আঘাত লাগেনি। তবে ওই ভবনটি ভেঙে পড়া নিয়ে বিবিসির ওই রিপোর্টেও বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়। ভবনটি আসলে যখন ভেঙে পড়েছিল তার ২০ মিনিট আগেই বিবিসির একটি রিপোর্টে ভবনটি ভেঙে পড়ার খবর দেয়া হয়। সম্পাদনা: রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]