• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » পার্থ চট্রোপাধ্যায় ও অশোক রুদ্রের মত কাশ্মীর ও আসামে বিজেপির কর্মকা- ভারতে গৃহযুদ্ধ উস্কে দিতে পারে


পার্থ চট্রোপাধ্যায় ও অশোক রুদ্রের মত কাশ্মীর ও আসামে বিজেপির কর্মকা- ভারতে গৃহযুদ্ধ উস্কে দিতে পারে

আমাদের নতুন সময় : 12/09/2019

দেবদুলাল মুন্না: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশে রক্তপাত ও গৃহযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। বিজেপি এ রাজ্যে এনআরসি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মমতার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থ চট্রোপাধ্যায় ও সমাজ বিজ্ঞানী অশোক রুদ্র।
পার্থ চট্রোপাধ্যায় বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক হুমকি থেকে ভারতকে মুক্ত করার এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু তারা দেশে একটা অস্থিরতা তৈরি করতে যাচ্ছে। মোদি সরকার দেশে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, তা এরই মধ্যে আসাম এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই দল ও তাদের সরকার যেন তাদের নিজেদের আশঙ্কার শিকার নিজেরাই হয়েছে। অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে বিজেপির যে মনোভাব, সেটা শুধু আসামে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৯৫ সালে নিজেদের সম-আদর্শের দল শিব সেনাকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাই থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। দিল্লি থেকেও বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বের করে দেয়ার একই দাবি করেছে দলটি। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বহিরাগতদের’ বের করে দেয়ার জন্য এখন বিজেপি যে দাবি করছে, এর স্বল্পমেয়াদি কারণ হয়তো ২০২১ সালের রাজ্য নির্বাচন। তারা আসামের মতো এখানেও ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণের চেষ্টা করছে। বিজেপি এখন সারা ভারতেই এনআরসির মতো একটা নাগরিক তালিকার দাবি করছে, যেটা সম্ভবত হবে ন্যাশনাল পপুলেশান রেজিস্ট্রার হিসেবে। শুধু দিল্লিতে নয়, তারা অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকেও এটা তৈরির দাবি করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সবগুলো রাজ্য এনআরসি ধরনের একটি তালিকা তৈরির পক্ষে। জি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজ বিজ্ঞানী অশোক রুদ্রেরও একই মত। তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া অন্য সাক্ষাতকারে বলেন, আসাম রাজ্যে বিজেপি সরকার হতাশ হয়েছে। কারণ অনেক বাংলাভাষী হিন্দু এনআরসি থেকে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কিছু বেসরকারি হিসেব মতে, যারা বাদ পড়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেই হিন্দু বাঙালি। সে কারণে বিজেপি এনআরসি তালিকা রিভিউ করার দাবি তুলছে। একই ঘটনা তারা পশ্চিমবঙ্গে ঘটাতে গেলেই সহিসংতা হবে বলে মনে করি।
তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে যেমনটা হয়েছে, আসামেও তেমনি দেখা যাচ্ছে যে, হঠাৎ করে যারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে, তাদের প্রতি দেশের অধিকাংশ সহ-নাগরিকদের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই। দেশের উপর যেন একটা মানসিক অসারতা ভর করেছে, যেখানে নাগরিকরা তাদের সহ-নাগরিকদের কোন যন্ত্রণাকেই অনুভব করতে পারছেন না। আর সে কারণেই সরকারের দাবির ব্যাপারে যেন যুক্তি তৈরি হয়েছে যে, এরা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও তাদেরকে স্থায়ী নজরদারিতে রাখতে হবে এবং তাদের কখনো বিশ্বাস করা যায় না। সে কারণে কাশ্মীরের প্রায় ৯০ লাখ মানুষের ওপর এক মাস ধরে ষাঁড়াশি অভিযান চালানো হলেও জনগণের নৈতিকতার কোন হেরফের হয়নি। যে কোনো নাগরিককে বা গোষ্ঠীকে বিশেষ নজরদারিতে রাখলে তারা যে কোনো সময় নিজেদের অবাঞ্চিত মনে করে সহিংসতার পথে যেতে পারে। সম্পাদনা: রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]