• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » অপসংস্কৃতি ছড়ানোর মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে ধর্ষণের ঘটনা আরও বাড়বে, বললেন ড. জিনাত হুদা


অপসংস্কৃতি ছড়ানোর মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে ধর্ষণের ঘটনা আরও বাড়বে, বললেন ড. জিনাত হুদা

আমাদের নতুন সময় : 14/09/2019


আমিরুল ইসলাম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে যারা সাহায্য করে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে এমনিতেই একটা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও নারীদের পণ্য হিসেবে দেখার একটা প্রবণতা দেশে আগে থেকেই আছে। ইদানীং দেশে ধর্ষণের ঘটনা অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধÑ কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের পাশাপাশি আকাশ সংস্কৃতির নামে বীভৎস, কুৎসিত, কদর্য সংস্কৃতি আমাদের কাছে পৌঁছে গেছে। মুঠোফোন, ইউটিউব, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবকিছু একেবারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। মানুষের ভেতরে যে পশু প্রবৃত্তি থাকে আমরা যেটাকে নিয়ন্ত্রণ করি সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে সেটাকে উসকে দেয়া হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে পুলিশের কর্মকর্তারাও এখন এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার শাস্তি পাওয়া দরকার তার সঙ্গে আবার বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও একটা ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির বদলৌতে মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই খারাপ ঘটনাগুলোকে গ্রহণযোগ্যতার জায়গায় পৌঁছে দেয়ার একটা অপচেষ্টা করা হচ্ছে। খারাপ সংস্কৃতিগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রহণযোগ্যতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। এগুলো প্রতিরোধ করতে গেলে আকাশ সংস্কৃতির উৎসমুখগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে কদর্য মিডিয়া হচ্ছে ফেসবুক। এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে যে যা মন যাচ্ছে তাই করছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ন¤্রতা, ভদ্রতা, মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়ার জায়গাটিকে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে ফেসবুক। সব শ্রেণির মানুষ এখন নয়া মাধ্যম ব্যবহার করার কারণে অপরাধের জায়গাটা অনেক বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে। আগে একটা ঘটনা ঘটলে সবাই এটা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। এখন একটা সামাজিক নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে। কারণ দেখা যায় যে, মানুষ নিজেও এর সঙ্গে জড়িত। ধর্ষকদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে সামাজিকভাবে একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের ধর্মীয় গুরুরা এ বিষয়ে বেশি কথা বলে না। কারণ তারা নিজেরাও এর সঙ্গে জড়িত। ধর্ষণরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একইসঙ্গে শাস্তির ব্যবস্থা ও যেসব মাধ্যমে অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে সেগুলো বন্ধ করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]