ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের নেপথ্যে বড় ভাইদের সিন্ডিকেট

আমাদের নতুন সময় : 15/09/2019

শাহানুজ্জামান টিটু : গত ৩ জুন ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল শেষ পর্যন্ত সফল কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি করা সম্ভব হবে কী না। অবশেষে সেই শঙ্কাই সত্য হলো। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির সাবেক নেতা আমানউল্লাহ আমানের মামলায় কাউন্সিলের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালত। এরপর থেকেই ছাত্রদলের কাউন্সিলের মূল আলোচনায় চলে আসেন এই আমান। প্রশ্ন ওঠে, কার ইন্ধনে তিনি মামলা করেছেন।
এ ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের ষড়যন্ত্রেই ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আর নির্বাচন পরিচালনা নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকারের ইন্ধনে সুপরিকল্পিতভাবে কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে। যেখানে হাজার মামলা রয়েছে নিষ্পতির অপেক্ষায় সেগুলোর কোনো খবর নেই। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে আদালতে কেউ মামলা করলেই তার রায় তৎক্ষণিক হয়ে যায়।
এদিকে, মামলার পর থেকেই নিখোঁজ আমান। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ। আজ রোববার তার মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠার কথা রয়েছে।
তবে ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিত নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুই সভাপতি গোপন সভার পর আমানকে দিয়ে এই মামলা করানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি কেউ। কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমান ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা না হলেও তার সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর। আর সন্দেহের আরো দৃঢ় হয় যখন টুকু ও আমানের একটি ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও টুকু বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, একজন সভাপতির সঙ্গে অনেকেই ছবি তুলে থাকেন। তাই বলে তার সঙ্গে আমার সখ্যতার বিষয়টি সঠিক নয়।
ছাত্রদলের নেতারা জানান, মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয় সভাপতি পদে নির্বাচনে এগিয়ে থাকা কাজী রওনকুল ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করার পর তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। রওনকুল ছিলেন টুকুর অনুসারী। তাকে সর্মথন করা সিন্ডিকেট সদস্যরা এটা মেনে নিতে পারেনি। ছাত্রদলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তাদের হাতে আর কোনো বিকল্পও ছিল না। এসময় তারা ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন এমন একাধিক ছাত্রনেতার সঙ্গে যোগযোগ করেন মামলা করার জন্য। কিন্তু তাদের থেকে সন্তোষজনক কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমানকে বেছে নেয় ওই সিন্ডিকেট।
ছাত্রদলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন আমান। তার বাড়ি কুমিল্লায়। ২০০৯ সালের টুকু-আলীম কমিটি ঘোষণার পর নরসিংদী অঞ্চলের এক নেতা বিদ্রোহ করলে আমান তার গ্রুপে থেকে বিদ্রোহে অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ওই নেতার গ্রুপে ছিলেন তিনি। পরে ২০১৪ সালের রাজিব-আকরাম কমিটিতে তাকে সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠও তিনি।
কাউন্সিল স্থগিতে পরবর্তী করণীয় নিয়ে শুক্রবার দলের ও কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবারও তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছন। তার ঘনিষ্ট এক নেতা জানান, তারেক রহমান আগের সিদ্ধান্তেই আছেন। তিনি চান সব বাধা পেরিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হবে সরাসরি ভোটে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প ভাবছেন না তারেক। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]