• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » নিষিদ্ধ তবুও খোলামেলাই বিক্রি হচ্ছে ভয়ংকর সোডিয়াম সাইক্লোমেট মেশানো চিনি


নিষিদ্ধ তবুও খোলামেলাই বিক্রি হচ্ছে ভয়ংকর সোডিয়াম সাইক্লোমেট মেশানো চিনি

আমাদের নতুন সময় : 15/09/2019


মতিনুজ্জামান মিটু : বেশি মিষ্টি ও দামে কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা জেনে বা না জেনে এসব চিনি আমদানি এবং অধিক মুনাফার লোভে স্থানীয়ভাবে সোডিয়াম সাইক্লোমেট মিশিয়ে বাজারজাত করছে। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পাওয়া এসব চিনির নমুনা পরীক্ষায় মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির এই তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন গবেষণা ফলাফলের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের(বার্ক) পুষ্টি ইউনিটের পরিচালক ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম বললেন, সাইক্লামেট অন্ত্রীয় ব্যাকটেরিয়ার বিপাক প্রক্রিয়ায় সাইক্লোহেক্সামিন উৎপন্ন করে। যা প্রাণির অন্ডকোষের ক্ষয় বা পুরুষত্বহানি ঘটায়। এই সঙ্গে মুত্রাশয়ে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ভ্রুণেরও ক্ষতি হয়। সাইক্লামেট কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম. মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিসহ পরিপাকতন্ত্রের রোগ বা গোলযোগ তৈরীতেও ভুমিকা রাখে। বর্তমানে নির্দিষ্টভাবে সাইক্লামেটের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকলে ও গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরী সব ধরণের কৃত্রিম চিনি মানব দেহের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করে। এর মধ্যে রয়েছে; দৃষ্টিশক্তি লোপ, নিদ্রাহীনতা, বমিবমিভাব, পেট ও অস্থি’ সন্ধিতে ব্যাথা, হদিপিন্ডের গতি উঠানামা, বিষন্নতা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, মস্তিস্কের ক্যান্সার ইত্যাদি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রান্ড ও নন-ব্র্র্যান্ড চিনির নমুনায় সোডিয়াম সাইক্লামেট এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অনেক দেশ গুলোর মতো বাংলাদেশেও খাদ্যদ্রব্যে সোডিয়াম সাইক্লামেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড চিনিতে (খোলাচিনি) সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি নির্ণয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল পুষ্টি ইউনিটের পক্ষ থেকে দেশের স্থানীয় বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও নন-ব্য্রান্ড চিনির (খোলাচিনি) নমুনা সংগ্রহের পর বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে রাজধানীর মতিঝিল, পুরান ঢাকা, ক্যানটনমেন্ট, গুলশান, বাড্ডা, বনানী, টঙ্গী, মহাখালী, সাভার ও উত্তরা থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের চিনির নমুনা এবং মিরপুর কাচাঁবাজার, কচুক্ষেত বাজার, সদরঘাট, ও কারওয়ান বাজার থেকে খোলা চিনির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর প্রত্যেকটি নমুনাকে সনাক্তকারী নাম্বার বা কোড দিয়ে উপযুক্ত তাপমাত্রায় ফুড গ্রেড প্লাস্টিক ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নমুনাগুলোকে সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি আছে কিনা, তা জানতে এক্রিডেটেড ল্যাবরেটরী অর্থাৎ প্যাসিফিক ল্যাব, সিংগাপুরে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করানো হয়।
এর ফলাফলে দেখা যায়, চিনির ১২টি ব্রান্ডের সব ও খোলা বাজারের তিনটি নমুনার প্রত্যেকটিতে সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্লেষণকরা ১২টি ব্র্যান্ডের চিনি যেমন: নাম্বার ওয়ান, সুগারক্যান, তীর, ফ্রেশ, রিফাইনসুগার, এসিআই, ইগলু, সিস, স্বচ্ছ, দেশি, হেলথ কেয়ার ও সপ্ন ও খোলা বাজার হতে সংগ্রহকরা ৪টি চিনির নমুনার সবকটিতে সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মানসম্পন্ন পদ্ধতিতে তৈরী ও প্রক্রিয়াজাতকর চিনিতে কোনধরণের সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি থাকার কথা নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে খাদ্য দ্রব্যে সোডিয়াম সাইক্লামেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও চিনি গবেষণায় বিশ্লেষণকরা ফলাফলে দেখা যায় যে, প্রত্যেকটি চিনির নমুনায় সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবদেহেরজন্য ক্ষতিকারক বিবেচনায় এফডিএ সোডিয়াম সাইক্লামেটের ব্যবহার অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করে এটির ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তা সত্ত্বেও দামে সস্তা এবং সুক্্েরাজ অপেক্ষা ৩০-৫০ গুণ বেশি মিষ্টি স্বাদযুক্ত হওয়ায় চিনির প্রস্তুতকারকরা বেশি লাভের আশায় অসাধু উপায়ে চিনি তৈরীতে সোডিয়াম সাইক্লামেট মেশাচ্ছে। বাংলাদেশে সোডিয়াম সাইক্লামেট দিয়ে খাদ্য তৈরীতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়মিত মার্কেট মনিটরিং এর অভাবে এই নিষিদ্ধ উপকরণ এখনও খাবারে মিলছে। অন্যান্য সুইটনারের চেয়ে দামে কম, তাপে স্থিতিশীল ও দীর্ঘ স্থায়ীত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ১৯৬৯ সালে সোডিয়াম সাইক্লামেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]