• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » হিন্দি দিবসে ‘এক দেশ, এক ভাষা’র প্রস্তাব অমিত শাহের ভারতের রাজ্যে রাজ্যে প্রতিবাদ


হিন্দি দিবসে ‘এক দেশ, এক ভাষা’র প্রস্তাব অমিত শাহের ভারতের রাজ্যে রাজ্যে প্রতিবাদ

আমাদের নতুন সময় : 15/09/2019


লিহান লিমা: গতকাল শনিবার হিন্দি দিবসে হিন্দিকে ভারতের জাতীয় ভাষা করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন টুইটে তিনি বলেন, ‘হিন্দি ভাষাই ভারতের ঐক্যকে ধরে রাখতে পারে। কারণ, বহু ভাষাভাষির এই দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কথা বলেন এই ভাষাতেই।’ এনডিটিভি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
প্রসঙ্গত, ভারতের জাতীয় পর্যায়ে দুটি সরকারি ভাষা এবং রাষ্ট্রীয় স্তরে ২২টি তপশীলি ভাষার স্বীকৃত থাকলেও, দেশটিতে কোনও জাতীয় ভাষা নেই। টুইটে অমিত আরো বলেন, ‘দেশের সব ভাষারই বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পরিচিতির জন্য একটা নির্দিষ্ট ভাষা খুবই প্রয়োজন। হিন্দি আমাদের মাতৃভাষা, ভারতীয়দের উচিত হিন্দি শেখা ও হিন্দি ভাষার প্রচলন ও ব্যবহার বাড়ানো। তবেই ভারতীয়ত্ব জোরদার হবে।’ অমিত শাহ মহাত্মা গান্ধী ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এরা দুজনেই হিন্দি ভাষার ব্যবহার করে দেশকে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন।’
এদিকে অমিতের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের রাজ্যে রাজ্যে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তামিলনাডুতে বিক্ষোভে নেমেছে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে। এমকে স্টালিন বলেছেন, ‘তিনি (অমিত শাহ) ভারতীয় অখ-তাকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছেন। হিন্দিকে চাপিয়ে দিলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।’ এমডিএমকে নেতা ভাইকো কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভাষা যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন। এএমএমকে নেতা টিটিভি দ্বিনাকরণ বলেন, ‘অহিন্দি ভাষীদের ওপর হিন্দি চাপিয়ে দিলে বহুত্ববাদ ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে যারা হিন্দি ভাষায় কথা বলেন না, তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়ে যাবেন।’ কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী বলেন, ‘কোনো অজুহাতেই কারও ওপর কোনো ভাষা চাপিয়ে দেয়া উচিত হবে না।’ কেরালার কংগ্রেস এমপি শশী থারুর বলেন, ‘দক্ষিণে আমাদের অধিকাংশই হিন্দিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে শিখি। কিন্তু উত্তরের কেউ-ই মালয়ালাম কিংবা তামিল শেখে না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা করেছেন এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েসি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘আমাদের উচিত সব ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমানভাবে সম্মান জানানো। আমরা অনেক ভাষাই শিখতে পারি কিন্তু মাতৃভাষাকে কখনই ভোলা উচিত নয়।’
গত জুন মাসে নতুন শিক্ষানীতির খসড়ায় সব স্কুলে বাধ্যতামূলক ভাবে হিন্দি শিক্ষার নির্দেশ বিভিন্ন রাজ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। দক্ষিণের রাজ্যগুলির পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্রও কর্নাটক। দেশ জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভের পর কেীয় সরকার নতুন শিক্ষাগত নীতি ২০১৯- এর খসড়ার এই অংশটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]