• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » অমিত শাহ হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করায় বিভিন্ন রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া


অমিত শাহ হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করায় বিভিন্ন রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

আমাদের নতুন সময় : 16/09/2019


আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি হিন্দিকে রাষ্টীয় ভাষা ঘোষণা করায় বড় ধরণের সমালোচনার মুখে পরেছেন। বিভিন্ন রাজ্যের রাজনীতিবীদরা নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমিতের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইমস, স্ক্রল
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সভাপতি এম কে স্টালিন, কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী, পদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী, সিপিএমের নেতা মহম্মদ সেলিম সবাই তীব্র প্রতিক্রিয় দেখিয়েছেন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারজি ভিজয়ানন অভিযোগ করেছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারওেতর ভিন্ন ভিন্ন সংস্ত্রতিগুলোকে মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে আহ্বান জানিয়েছেন অমিত শাহ। নিজ সংস্কৃতি রক্ষায় তারা যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। এক্ষেত্রে কোনো ধরণের ছাড় দেয়া হবে না।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইটারে লিখেছেন, ‘আমাদের উচিত সব ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমানভাবে সম্মান দেওয়া। আমরা অনেক ভাষাই শিখতে পারি। কিন্তু মাতৃভাষাকে ভোলা উচিত নয়।’ কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী টুইট করেছেন, ‘কবে হিন্দির সঙ্গে কন্নড় ভাষা দিবস পালিত হবে?’ সিপিএম নেতা ও পলিটব্যুরো সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘গুজরাট হাইকোর্ট যখন বলেছিলেন, গুজরাটিদের জন্য হিন্দি বিদেশি ভাষা, তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ প্রতিবাদ করেননি। তাঁরা এখন হিন্দি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।’ অমিত শাহর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কংগ্রেস বলেছে, ‘ত্রিভাষা তত্ত্বের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া ঠিক হবে না। ভাষা হলো আবেগের বিষয়।’
বিশ্লেষকরা বলছেন হিন্দি বেল্ট ও বাংলা বেল্টের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব আবারও উস্কে দিয়েছেন অমিত। এছাড়াও বিজেপি যে হিন্দু জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেজন্যও প্রয়োজন রয়েছে এ ধরণের উগ্র জাতীয়তবিাদী উদ্যোগের। ভারতে ২৯টি রাজ্য ও ৭টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বেশি। উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, দিল্লি, রাজস্থানে রয়েছে হিন্দি ভাষার আধিক্য। তামিলনাড়ুতে তামিল, কর্ণাটকে কন্নড়, গুজরাটে গুজরাটি, কেরালায় মালায়লম, অন্ধ্র প্রদেশে তেলেগু, মহারাষ্ট্রে মারাঠি, আসামে অসমিয়া, মণিপুরে মণিপুরী, মিজোরামে মিজো, মেঘালয়ে খাসি ও গাড়ো ভাষার প্রচলন বেশি। নির্দিষ্ট কোনো ভাষার একচ্ছত্র ব্যবহার নেই ভারতে। উত্তর ভারত ও মধ্য ভারতে যেমন হিন্দি ভাষার প্রচলন বেশি, তেমনি দক্ষিণ ভারতের প্রতিটি রাজ্যের স্ব স্ব আঞ্চলিক ভাষার আধিক্য। তবে সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় হিন্দি ভাষা। ভারতের ২০১১ সালের সবশেষ জনগণনায় বলা হয়েছে, দেশের ১০ জন মানুষের মধ্যে ছয়জনের মাতৃভাষা হিন্দি নয়। তবে ভারতে হিন্দিভাষীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা ভাষা, ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। এরপর রয়েছে তেলেগু, মারাঠি, তামিল, উর্দু, গুজরাটি, কন্নড়, মালায়লম, ওড়িশি, পাঞ্জাবি ও অসমিয়া ভাষা। ১৯৭১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ভাষার সংখ্যা ১ হাজার ৬৫২। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]