পূর্ববর্তী


শিগগিরই আনুষ্ঠানিক যাত্রা করছে বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আমাদের নতুন সময় : 16/09/2019


শাহীন চৌধুরী : বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করছে। একাডেমিক লামানোসভ নামের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শনিবার দেশটির দূরপ্রাচ্যে তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছেছে। দেশটির চুকোতকা অঞ্চলে পেভেক শহরের কাছে নোঙর করা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলতি বছরের শেষ দিকে উৎপাদনে যাবে বলে ঢাকায় রোসটামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রোসাটম বাংলাদেশের রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা।
ক্ষুদ্র মডিউলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দূরবর্তী অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য লো-কার্বন এনার্জি উৎসের একটি প্রটোটাইপ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন-রোসাটমের উদ্যোগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত  হয়েছে। এই ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে রোসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচোভ বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে এটি একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ হলেও দূরবর্তী অফ-গ্রিড অঞ্চলকে কার্বন মুক্তকরণে একটি বিশাল পদক্ষেপ ও ক্ষুদ্র মডিউলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী, পারমাণবিক শক্তি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদী। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আগ্নেতা রাইজিং বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের মোট বিদ্যুতের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ পারমাণবিক উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আমাদের পারমাণবিক শক্তির সুবিধা আরও অধিক এলাকা ও মানুষের মধ্যে বিস্তৃত করতে হবে। নতুন শ্রেণির ক্ষুদ্র, চলনশীল ও বহুমুখী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথমটি হচ্ছে একাডেমিক লামানোসভ। এটি নির্মল এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, তাপ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
রাশিয়ায় তৈরি ক্ষুদ্র মডিউলার রিয়্যাক্টরভিত্তিক ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্থলবর্তী বিদ্যুৎ স্থাপনার একটি পাইলট প্রকল্প এবং ‘ওয়ার্কিং প্রটোটাইপ হচ্ছে একাডেমিক লামানোসভ। রাশিয়ার দুর্গম উত্তর এবং দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে এই ক্ষুদ্র বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ব্যবহৃত হবে। বিদেশও রপ্তানি করা হবে সেই বিদ্যুৎ।
একাডেমিক লামানোসভে দুটি কেএলটি-৪০সি রিয়্যাক্টর স্থাপিত হয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ মেগাওয়াট। ভাসমান স্থাপনাটি ১৪৪ মিটার দীর্ঘ এবং ৩০ মিটার প্রশস্ত। এর ডিসপ্লেসমেন্ট ২১ হাজার টন। অষ্টাদশ শতাব্দীর খ্যাতিমান রুশ বিজ্ঞানী মিখাইল লামানোসভের নামানুসারে ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে।
রোসাটমের মুখপাত্র পেভেক প্রকল্পটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর মোট ব্যয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানান। তবে তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুবই প্রতিযোগিতা-সক্ষম হবে। সিরিজ আকারে তৈরি হলে এসএমআরভিত্তিক কেন্দ্রগুলো ডিজেলের তুলনায় সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং একই সঙ্গে ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ প্রতিরোধ করবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]